প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধুঁকছে দেশীয় কারখানা
ক্রীড়াপণ্যে বিদেশী দাপট

স্পোর্টস ডেস্ক: মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম ও উল্টোদিকের বঙ্গবন্ধু এভিনিউর ডজন খানেক দোকান ঘুরে শূন্য হাতে ফিরতে হলো। কোথাও মেলেনি দেশে তৈরি ফুটবল। এ প্রতিবেদকের কাঙ্ক্ষিত বস্তু সম্পর্কে জানার পর একাধিক দোকানি বললেন, ওটা এখন সোনার হরিণ, কোথাও পাবেন না! মিলবে কোথায়? অনেক আগে থেকেই তালা ঝুলছে ক্রীড়াসামগ্রী তৈরির দেশীয় কারখানাগুলোতে।

পুরনো ঢাকার বিভিন্ন স্থানে একসময় তৈরি হতো হাতে সেলাই করা বল। গ্রামগঞ্জ তো বটেই। এমনকি জাতীয় পর্যায়েও ব্যবহূত হতো এসব বল। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকেছেন আমদানি পণ্যের দিকে। তা বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ক্রীড়াসামগ্রীর ৮৫ শতাংশই আসছে বাইরে থেকে। ক্রীড়াসামগ্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপে জানা গেল, স্থানীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীর চাহিদা থাকলেও বলের বাজার পুরোপুরি আমদানিনির্ভর।

‘শিশুদের জন্য দেড়শ’ টাকায় যে ফুটবল কিনছেন তাও চীন থেকে আমদানি করা। ভলিবল, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, রাগবি বল সবই চীন থেকে আসছে’— বণিক বার্তাকে জানান বঙ্গবন্ধু এভিনিউর স্টাইল স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী আমজাদ হোসেন মজনু। একসময় স্থানীয়ভাবে তৈরি বলের চাহিদা ছিল জানিয়ে এ ব্যবসায়ী আরো বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে তৈরি করা বলের চেয়ে আমদানি করা বলগুলো দেখতে নিখুঁত, সুন্দর। দামে কম বলে ক্রেতা চাহিদা আমদানি পণ্যে। ৩-৪ বছর আগেও দু-চারটি কারখানা থাকলেও বর্তমানে সেগুলোর অস্তিত্ব নেই।’

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপে জানা গেল, একসময় বাংলাদেশের বাজারে দাপট ছিল পাকিস্তানি ক্রীড়া পণ্যের। খুব বেশি না হলেও ভারতীয় কিছু পণ্যেরও চাহিদা ছিল। ‘চীনা আগ্রাসন’ বাজার ছাড়তে বাধ্য করেছে প্রতিবেশী দুই দেশকে। ‘ক্রীড়া পণ্যের ৮০ ভাগের বেশি বিদেশীনির্ভর। অধিকাংশ পণ্য আমদানি হচ্ছে চীন থেকে। পাশাপাশি পাকিস্তান ও ভারতের কিছু পণ্য আসছে। ক্রমেই প্রতিবেশী দুই দেশের পণ্যের চাহিদা কমছে। আমার মতো এখানে সবাই হাতে গোনা কয়েকটি স্থানীয়ভাবে তৈরি করা পণ্য বিক্রি করছেন’ বলে জানান মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের ফিলকো স্পোর্টস নামের দোকানের ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রেতা মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম।

বিদেশী ক্রীড়া পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের গুণগত মান ও দামের কারণে এমনটা হচ্ছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে আমাদের মানসিকতাও দায়ী। দেখা গেছে, বাংলাদেশী পণ্য দামে কম ও মানে ভালো হলেও অনেক ক্রেতা তা নিতে চান না। বিদেশী বলে বেশি অর্থ দিয়ে মানহীন পণ্য হাসিমুখেই কিনছেন অনেক ক্রেতা।’ তার কথায়, বাংলাদেশে এখন ভালোমানের ক্রিকেট প্যাড ও হেলমেট তৈরি হচ্ছে। এছাড়া থাই গার্ড ও ক্রিকেট ব্যাগও স্থানীয়ভাবে তৈরি হচ্ছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব গার্মেন্টস পণ্যের। মানসম্পন্ন জার্সি, ট্র্যাকস্যুট, ট্রাউজার আমরা ক্রেতাদের দিতে পারছি। এছাড়া ইপিজেডে প্রস্তুত হওয়া জুতার চাহিদা বাড়ছে। ইপিজেড থেকে কিছু মালামাল আসায় স্বল্প মূল্যে মানসম্পন্ন জুতা দিতে পারছি আমরা।

ব্যাডমিন্টন সামগ্রী প্রস্তুতকারী জাপানি প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকির পণ্য পাইকারি বিক্রি করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর রমনা ভবনের ভাস্তিকা স্পোর্টস নামের দোকান। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপে জানা গেল, ভালোমানের ব্যাডমিন্টন সামগ্রীর প্রায় সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা।

এ সম্পর্কে কাওয়াসাকি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান রাজু বলেছেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে ব্যবহূত ব্যাডমিন্টন সামগ্রীর সবই আমদানি করা। জুতা, র্যাকেট, শাটল, টি-শার্ট, শর্টস, ব্যাগ সবই বিদেশ থেকে আনা। শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ব্যবহূত হাতের ব্যান্ডও বিদেশ থেকে আনা হয়ে থাকে। স্থানীয়ভাবে মানসম্পন্ন ব্যাডমিন্টনসামগ্রী তৈরি হচ্ছে না বলে বাজার আমদানিনির্ভর।’

জেলা ক্রীড়া অফিসের মাধ্যমে প্রতি বছর তৃণমূলে বিপুল পরিমাণ ক্রীড়াসামগ্রী প্রদান করে ক্রীড়া পরিদপ্তর। সংস্থাটির এক উপপরিচালক জানালেন, ক্রিকেট ব্যাট, ফুটবল, হকিস্টিক, টেবিল টেনিসসামগ্রী আমাদের এখানে তৈরি হয় না। বাধ্য হয়েই আমাদের বিদেশী পণ্য কিনতে হয়। কিছু ক্রীড়াপণ্য স্থানীয়ভাবে তৈরি হলেও গুণগত মানের কারণে বিদেশীটাই কিনতে হচ্ছে। বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত