প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উন্নয়ন জনসমক্ষে তুল ধরতে নির্বাচনী সফর
নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

শাকিল : নির্বাচনী ট্রেনে উঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সূত্র মতে, নির্বাচন সামনে রেখে তারা এখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত। এ লক্ষে তারা সাংগঠনিক কাজে হাত দিয়েছে। অন্যদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগে। মাঠ গোছানোর কাজ বেশ জোরেশোরেই শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। আগামীকাল থেকে আওয়ামী লীগের ১৫টি সাংগঠনিক টিম নির্বাচনী সফরে জেলা-উপজেলায় যাচ্ছে। আর ৩০ জানুয়ারি সিলেট সফর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু করবেন তার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী সফর। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী ট্রেনে যাত্রা শুরু হবে ক্ষমতাসীন দলটির। পাশাপাশি বিএনপিকে চাপে রাখতে অগ্নিসন্ত্রাস-নাশকতাসহ পুরনো মামলা চালু করার পরিকল্পনা আছে সরকারের। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দলের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন মাথায় রেখে স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থী বাছাইয়ে আগে থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ জন্য সরকারি ও দলীয় গোয়েন্দাদের একাধিক টিম কাজ করছে। এসব গোয়েন্দা প্রতিবেদন সরাসরি যাবে দলের হাইকমান্ডের কাছে। ইতিমধ্যে বর্তমান এমপি ও আসনভিত্তিক মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আমলনামাভিত্তিক একাধিক প্রতিবেদন জমাও পড়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র নয় মাস বাকি। সরকারের নয় বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে এই সাংগঠনিক সফর। সেই সঙ্গে সারা দেশে অন্তর্কোন্দল কমিয়ে আনা এবং সর্বশেষ জেলায় জেলায় সভা-সমাবেশ ও কর্মিসভার মাধ্যমে জনমত সৃষ্টি করা হবে। ৩০ জানুয়ারি সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন জেলার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী সিলেট পৌঁছে প্রথম হজরত শাহজালাল (রহ.), শাহ পরাণ (রহ.) এবং গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাজার জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করবেন। এরপর বেশ কিছু উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। পরে বিকালে তিনি জেলার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন।

এসব টিম জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ে গিয়ে যেমন সরকারের উন্নয়ন পদক্ষেপ নিয়ে প্রচার করবে, তেমনি স্থানীয় সাংগঠনিক সমস্যা মেটানোর কাজও করবে। পাশাপাশি মনোনয়নের ক্ষেত্রে কার কী অবস্থা, তা পর্যবেক্ষণ করে টিমগুলো কেন্দ্রে রিপোর্ট দেবে। চট্টগ্রাম বিভাগের টিমটি সফরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামীকাল ফেনীতে এবং পরের দিন বান্দরবান জেলায় বর্ধিত সভা এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে।

ফেনীতে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু এবং বান্দরবানে গণপূর্তমন্ত্রী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন নেতৃত্বে থাকবেন। পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করবেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম। তিনি বলেন, সফরে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি নৌকা মার্কায় ভোট চাইব। একই সঙ্গে তৃণমূলে যেখানে ছোটখাটো সমস্যা রয়েছে, সেগুলো নিরসন করব। রাজশাহী বিভাগের টিম আগামীকাল বগুড়া এবং শনিবার নাটোরে কর্মিসভা ও বর্ধিত সভায় অংশ নেবে।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সাংগঠনিক সফরের মধ্য দিয়ে আমরা মূলত নিবাচনী প্রস্তুতি সেরে নেব। এ টিমে থাকছেন প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ অন্যরা। সিলেট ও বরিশালে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ইতিমধ্যে বরিশালে বর্ধিত সভা শেষ করা হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি পটুয়াখালীতে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশাল সফর করবেন। ওই সফর নিয়েই আমরা সময় পার করছি। আগামী শনিবার পটুয়াখালীতে আমরা সাংগঠনিক সফরে যাচ্ছি।

সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ৩০ জানুয়ারি সফর থাকায় আপাতত টিমটি কোথাও যাচ্ছে না। জনসভা সফল করতেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মানিকগঞ্জ দিয়ে সাংগঠনিক সফর শুরু হবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, শুক্রবার মানিকগঞ্জ দিয়ে সফর শুরু হবে। ২৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ এবং ১১ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলায় কর্মিসভা, বর্ধিত সভা করা হবে। আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই শুরু হবে পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ এবং ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ। এ কাজের সমন্বয় করবেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। পাশাপাশি সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে সহযোগী সংগঠনগুলোকেও। ইতিমধ্যে অনেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করা শুরু করেছেন।

বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে ব্যস্ত থাকবেন, তাই আগেভাগেই তারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ সেরে ফেলছেন। গত সপ্তাহেও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ তার নিজ নির্বাচনী এলাকার দুটি ইউনিয়নে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করেছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে মাথায় রেখে শুরু হচ্ছে সাংগঠনিক সফর। সফরের মূল লক্ষ্য জেলা-উপজেলায় কর্মিসভা, বর্ধিতসভা এবং জনসভার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নের চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড জনগণকে আবারও মনে করিয়ে দেওয়া। বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের ডাক, আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত