প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কী হবে ৯৮ জন হজযাত্রীর?

মামুন : বিড়ম্বনাহীন হজযাত্রা মনে হচ্ছে ভাগ্যের ব্যাপার। নইলে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের জটিলতার মধ্যে কেন পড়তে হবে হজযাত্রীদের। একদিকে হজ এজেন্সিগুলোর চরম অব্যবস্থাপনা, অন্যদিকে বাণিজ্যিকীকরণের কারণে চরম দুর্ভোগে সময় পার করছেন হজযাত্রীরা। একের পর এক অনিয়মে চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার হজযাত্রী। তারা আদৌ এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবেন কিনা, তাও তারা জানেন না। ভিসা জটিলতা ও সৌদি আরবে আবাসিক ঘরের ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে ২০১৭ সালে ৯৮ জন হজযাত্রী সৌদিআরবে যেতে পারেননি। এছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষপর্যন্ত শতাধিক হজযাত্রী সৌদিআরবে যেতে পারেননি।

প্রাক-নিবন্ধনের পর চূড়ান্ত নিবন্ধন ও ভিসা হয়ে যাওয়ায় তাদের হজে যাওয়ার নিবন্ধনও নিষ্পত্তি হয়ে করা হয়েছে। ফলে ২০১৮ সালেও তাদের হজে যাওয়া সম্পূর্ণ অনিশ্চিত পড়েছে। এরইমধ্যে ৯৮ জন হজযাত্রী আশকোনা হজ অফিসে ১৯টি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ হাতে পেয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় তদন্ত শুরু করেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে এ পর্যন্ত যে সংখ্যক হজযাত্রী সৌদি আরব গিয়েছেন, তা এ দেশ থেকে হজ পালনে ইচ্ছুক মোট হজযাত্রীর একটি ক্ষুদ্রাংশ মাত্র। এ অবস্থায় বাকি হজযাত্রীরা যাতে অতি দ্রুত মক্কায় যেতে পারেন এবং পালন করতে পারেন পবিত্র হজ, সেজন্য সবাইকে সর্তক থাকতে হবে।

জানা গেছে, বেসরকারিভাবেই লক্ষাধিক হজযাত্রী প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান। এ সুযোগে অনেকেই হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করেন। প্রতারণার শিকার হয়ে ২০১৭ সালে অনেক হজযাত্রী হজে যেতে পারেননি। এ পর্যন্ত আশকোনা হজ অফিসে ১৯টি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়েছে ৯৮টি। যে ১৯টি এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়েছে সেগুলো হলো, সানজিদ ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, আল আরাফা এয়ার ট্রাভেলস, আশা এভিয়েশন, গোল্ডেন বেঙ্গল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস, ইউনাইটেড ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল (প্রা.) লিমিটেড, গোল্ডেন ট্রাভেলস অ্যান্ড কার্গো সার্ভিস, বুশরা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, আল বালাদ ওভারসিজ, গুলশান-এ-মোহাম্মদিয়া ট্রাভেলস, মেষফালাহ ট্রাভেলস, মিডওয়ে এভিয়েশন, মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন, এন. ই. এয়ার সার্ভিস, সায়ীদ এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ইকো এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম, ইউরো এশিয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, সিদ্দিকীয়া ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, সোবহান এয়ার ট্রাভেলস ও ওলামা আওলিয়া হজ গ্রুফ বাংলাদেশ।

হজযাত্রীদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘৯৮ জন হজযাত্রীর অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। ভিসা হওয়ার পরও যারা ২০১৭ সালে হজ করতে পারেননি, তাদের এ বছর সৌদি আরবে একেবারেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ ভিসা হওয়ার কারণে তাদের প্রাক-নিবন্ধনও নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এখন সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোর টাকা ফেরত দেওয়া ছাড়া আর কোনও সুযোগ নেই।’

একই বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের (প্রশাসন ও হজ) যুগ্ম সচিব ও অভিযোগ তদন্তের তদারক কর্মকর্তা মো. হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘তাদের কাছে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলোর তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ ছাড় পাবে না।’

এদিকে, ২০১৭ সালে নূর-ই মদিনা হজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস-এর মাধ্যমে যাওয়া পাঁচ হজযাত্রী এখনও দেশে ফেরেননি। কুলসুম আরা বেগম, রাজিয়া বেগম, জমিলা আক্তার, রোজিনা আক্তার ও জোসনা আক্তার নামের পাঁচ হজযাত্রীর দেশে না ফেরার বিষয়ে জানাতে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিকে দ্বিতীয় দফায় চিঠি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আগামী ২৮ জানুয়ারি তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হতে কমিটির আহ্বায়ক ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী এ চিঠি পাঠিয়েছেন। যুগান্তর, বাংলা ট্রিবিউন, জাগোনিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত