প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিসির ‘রড বাহিনী’

গোলাম মোর্তোজা : যাদের চোখের দৃষ্টি একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি, তারা ঘটনা দেখেছেন, জেনেছেন-বুঝেছেনও। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দেখার সুযোগ দেশের মানুষের হয়নি। দেখেছেন টেলিভিশনের পর্দায়, পত্রিকার পাতায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ঘটনার পর্যালোচনা বা বিশ্লেষণের কিছু নেই, সব কিছু এতটাই স্বচ্ছ। সেই স্বচ্ছ ঘটনার দু’একটি বিষয় উল্লেখ করছি শুধু।

১. আমাদের সমাজে তো অতি বুদ্ধিমান ‘ধুরন্ধর’র সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ‘ধুরন্ধর’রা প্রপাগান্ডায় সব সময়ই খুব পারদর্শী হয়। তারা এখন প্রশ্ন তুলছেন, ‘শিক্ষার্থীরা কেন আন্দোলন করবে? তালা কেন ভাঙলো? প্রক্টরকে কেন অবরুদ্ধ করলো, ভিসিকে কেন অবরুদ্ধ করলো?’
কিছু ‘ধুরন্ধর’র তোলা এসব প্রশ্নে আরও কিছু ‘ধুরন্ধর’ কোরাস গাইছে, ‘ঠিকই তো কেন আন্দোলন, কেন তালা ভাঙা?’

এসব তথ্য ‘ধুরন্ধর’দের যে অজানা তা নয়, তারপরও বলছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গৌরবের ইতিহাস, তা এই আন্দোলন-অবরোধ, তালা ভাঙার ইতিহাস। ডাকাতি করার জন্য তালা ভাঙা নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্যে তালা ভাঙার ইতিহাস।

আজ ২৪ জানুয়ারি ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান দিবস। সেদিন এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কী করেছিলেন, কোন প্রক্রিয়ায় আন্দোলনকে কোন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ইতিহাস জানা খুব কঠিন কিছু নয়। ‘৬৯ নিয়ে গর্ব করবেন, তালা ভাঙার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ইতিহাস জানবেন না?

চারুকলায় যেদিন ছাত্রদল তথাকথিত ভিসি উদ্ধারে এসে শিক্ষার্থীদের পিটিয়েছিল, সেই আন্দোলনের ইতিহাস ভুলে গেছেন? শামসুন নাহার হলে ছাত্রদল কর্তৃক নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা প্রতিবাদ-প্রতিরোধের কথাও ভুলে গেছেন? সেদিন ছাত্রলীগও প্রতিবাদী ‘তালা ভাঙা’ দলে ছিল।

আন্দোলন বা তালা ভাঙা যদি অপরাধ বা অন্যায় হয়, ‘৯০-এর আন্দোলন নিয়েও তাহলে গর্ব করার কিছু থাকে না। প্রশ্নের মুখে পড়ে যায় গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন-প্রতিবাদ প্রতিরোধও।

‘জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনবো’- এটা শুধু প্রতীকী স্লোগান নয়। এটাই আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

‘আন্দোলন কেন করলো, তালা কেন ভাঙলো’– প্রশ্ন করার আগে আয়নায় নিজেদের একবার দেখেন।

২. এবার সংক্ষেপে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটটা বলি। ঢাকার ৭টি বড় কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করা হয়েছে। এক সময় এমনই ছিল। তারপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দিয়ে দেওয়া হয়। যখন এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অসুবিধার দিক তুলে ধরেছিলেন। সেসব উপেক্ষা করে, ভিসি আরেফিন সিদ্দিকীর প্রশাসন ৭টি বড় কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। ৭টি কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমপক্ষে ১ লাখ ৩০ হাজার। ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হিমশিম খেয়ে যায়। তারা কী করে আরও ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে? এই প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন এই আশঙ্কা থেকে যে, বাড়তি ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর চাপে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। অধিভুক্ত ৭টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে আন্দোলন করছেন। তারাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকতে চাইছেন না। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক, অবকাঠামোসহ কোনও সুযোগ-সুবিধা বা সক্ষমতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৭টি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাখা যাবে না। এত যৌক্তিক বিষয়ে কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কথা বলতে পারবেন না, কেন আন্দোলন করতে পারবেন না?

৩. ‘তালা না ভেঙে কি আন্দোলন করা যেত না’– ‘ধুরন্ধর’রা আবারও এই প্রশ্ন তুলবেন। ‘তালা ভাঙা’র বিষয়টি কখন এসেছে, বিবেচনায় রাখতে হবে। একথা অস্বীকার করলে সত্য চাপা দেওয়া হবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সব সময় বাম ছাত্র সংগঠনগুলো থাকে। এই আন্দোলনের সঙ্গেও বাম ছাত্রসংগঠন আছে। ‘শিবির বা ছাত্রদল আছে’ বলে ধুরন্ধররা যে পানি ঘোলা করতে চাইছেন, তা সম্ভব নয়। কারণ এই আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্রদল বা শিবির নেই।

প্রথমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিছিল মিটিং করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গত ১৫ জানুয়ারি প্রতিবাদ মিছিল করে অবস্থান নিয়েছেন। ছাত্রলীগ এসে তাদের পিটিয়েছে, ছাত্রীদের মৌখিক এবং শারীরিকভাবে যৌন নিপীড়ন করেছে। ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী যৌন নিপীড়ন করেছে, তার কিছু ভিডিও চিত্র আছে মোবাইলে ধারণ করা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিত্রের যৌন নিপীড়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতারণামূলক পুরনো কৌশলের আশ্রয় নেয়। ‘তদন্ত কমিটি, কেউ সাক্ষী দিতে আসেনি’ প্রপাগান্ডা চালিয়ে ঘটনা চাপা দেওয়ার নীতি নেয়। ভিডিও দেখে নিপীড়কদের কাউকে ডাকাও হয়নি।

আন্দোলনকারীদের সমন্বয়কারীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভিসির রুমে ধরে নিয়ে গেছে। প্রক্টরের সামনে নির্যাতন করেছে। প্রক্টরের হাতে তুলে দিয়েছে। প্রক্টর তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। এর প্রতিবাদে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলতে গেছেন আন্দোলনকারীরা। প্রক্টর গেটে তালা দিয়ে রুমে বসে থেকেছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রথমাবস্থায় কথা বলেননি। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নির্যাতনকারীদের বিচার চেয়েছেন। প্রক্টর আশ্বাস দিয়েছেন ‘প্রক্রিয়া অনুসরণ করে’ ব্যবস্থা নেবেন। তারপর প্রক্টর তার শিক্ষার্থীদের নামে মামলা করার ব্যবস্থা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে, যাদের দেখে রাখার দায়িত্ব– তাদের নামে মামলা করেছে। পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে।

এরকম প্রেক্ষাপটে ভিসির কাছে আন্দোলনকারীরা এসেছিলেন প্রতিকারের দাবি নিয়ে। তারা ভিসির থেকে প্রতিকারের আশায় কথা বলতে চেয়েছেন। ভিসি গেটে তালা দিয়ে রুমে বসে থেকেছেন, কথা বলেননি।

তালা ভাঙা হয়েছে, এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরে। যেসব ‘ধুরন্ধর’রা প্রশ্ন তুলছেন, তারা ভিসি প্রক্টোর বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আচরণ দেখছেন না। তারা বিবেচনায় নিচ্ছেন না, তালা ভাঙার প্রেক্ষাপট রচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা নিরূপায় হয়ে ‘তালা ভেঙে’ বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা অক্ষুণ্ন রেখেছেন।
৪. ১৯৮৯ সালের সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনের পরের দিন বিজয়ী ছাত্রদলের বিজয় মিছিল থেকে পেটানো হয়েছিল ছাত্রীদের। তখন ছাত্রদল দেশের সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন। ছাত্রদলের সেই দাম্ভিকতার পরিণতি কারও অজানা নয়।

সন্ত্রাসের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বহু আগে থেকেই ছিল। সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত জাসদ ছাত্রলীগ, বিএনপির ছাত্রদলও। এদের বিরুদ্ধে সেই অর্থে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের অভিযোগ নেই। যৌন নির্যাতনের দিকে ছাত্রলীগ-ধাবিত হয়েছে গত পনেরো বিশ বছরে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা মানিকের ধর্ষণের সেঞ্চুরি উৎসব পালন, এক জঘন্য উদাহরণ হয়ে আছে। মানিককে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিলেও, সেই আন্দোলনে নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে ছাত্রলীগ প্রতিহত করতে পারেনি। বিজয় প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদেরই হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর সংস্কৃতি ছাত্রলীগ আইয়ুব খানের থেকে ধার করেছে। আইয়ুব খানের এনএসএফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাপ দিয়ে ভয় দেখানোর কৌশল নিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। ভিসি আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী ছাত্রদলকে দিয়ে নির্যাতন করিয়ে রক্ষা পায়নি।

২৩ জানুয়ারি ভিসি আখরুজ্জামানের ‘রড বাহিনী’র তাণ্ডবে শিক্ষার্থীদের আর্ত চিৎকারে ভয়ার্ত এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সারা দেশের মানুষ টেলিভিশনে দেখে শিহরিত হয়েছেন। তা যদিও ভিসির চোখ- কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

ভিসি আখতারুজ্জামান ছাত্রলীগকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে, যৌন নির্যাতন করিয়ে রক্ষা পাবেন, বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবের বহু ঘটনা আছে। আছে ইতিহাসের কিছু কালো দাগ, কলঙ্কিত ঘটনা। ১৫ জানুয়ারি এবং ২৩ জানুয়ারি কালো দাগ বা কলঙ্কিত ঘটনা হিসেবে নতুন যুক্ত হলো। এই কালো দাগ বা কলঙ্কের সঙ্গে নিজের নাম অমোচনীয় অক্ষরে সম্পৃক্ত করে রাখলেন ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। ইতিহাস তাকে এই ঘটনা দিয়েই স্মরণীয় করে রাখবে।

৫. বিশ্বজিৎকে যারা কুপিয়েছিল তাদের হাতে ছিল চাপাতি। চাপাতির পরিবর্তে এবার তারা হাতে তুলে নিয়েছিল রড।

খালি হাতের নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ চাপাতি ব্যবহার করেনি। চাপাতি ব্যবহার করে নিজেদের দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের ওপর। যাদের হাতেও চাপাতি থাকে। গত সাত আট বছরে ৬০ জনের অধিক নিজেদের নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করেছে সফলভাবে। তাদেরই একজন জোবায়ের হত্যার দায়ে ৫ জনের ফাঁসি আদালতে বহাল থাকলো।
এবার রডের আঘাতে ঢাকা মেডিক্যালে যেতে হয়েছে, আজিমপুর কবরস্থানে যেতে হয়নি শিক্ষার্থীদের। ‘অবরুদ্ধ ভিসিকে’ উদ্ধারে ছাত্রলীগের রড বাহিনী এগিয়ে এসেছে। ছাত্রলীগ পেটানোর জন্যে নারী বাহিনীকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। তাদের কথায় মনে হয় ভিসিকে সম্ভবত অপহরণ করে দূরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফলে ভিসি পুলিশের ওপর নির্ভর না করে, ‘রড বাহিনী’র ওপর নির্ভর করেছে। ‘রড বাহিনী’ ভিসিকে উদ্ধার করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে ‘অবরুদ্ধ’ ‘প্রায় অপহরণ’ মর্যাদা দেওয়াটাও বেশ চমকপ্রদ। ছাত্রলীগ শিক্ষার্র্থীদের রড দিয়ে পিটিয়ে, কিল-ঘুষি-লাথি মেরে, যৌন নিপীড়ন করে ‘ভিসির সম্মান রক্ষা’ করেছে। সম্মান রক্ষার পুরস্কারস্বরূপ নির্যাতিত-নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের শাস্তির ব্যবস্থা এখন ভিসি করতেই পারেন, ছাত্রলীগের দাবিকে তো আর তিনি উড়িয়ে দিতে পারেন না। ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, ছাত্রলীগ দায়ি থাকলে শাস্তি হবে।তবে গেট যারা ভাঙলো তাদের শাস্তি হওয়া দরকার। ‘ছাত্রলীগ যদি অন্যায় করে’– অপকর্ম চাপা দেওয়ার সেই পুরনো কৌশল!
সত্যকে অসত্য হিসেবে চালানোর প্রপাগান্ডায় ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাকার হয়ে গেছে।

এই অর্থে তারা একটি ছবি প্রচার করছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন ছাত্রী আরেকজন ছাত্রীর চুল টেনে নির্যাতন করছে। একজন নির্যাতন থেকে ছাত্রীকে রক্ষার জন্যে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। ছাত্রলীগ বলার চেষ্টা করে, তাদের নেত্রীকে আক্রমণ করা হয়েছে। অথচ ছবিটি লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট দেখা যায়, ছাত্রলীগের চিহ্নিত নেত্রী আন্দোলনরত এক ছাত্রীর চুল টেনে ধরে আছে।

প্রপাগান্ডা চালানোয় তারা সকল সীমা অতিক্রম করেছে। শিক্ষার্থীদের বস্ত্রহরণে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। নিজেরা আক্রমণ করে যৌন নিপীড়ন করে, বাম ছাত্র সংগঠনকে সন্ত্রাসী বলছে। যাদের সঙ্গে আর যাই হোক সন্ত্রাসের কোনও সম্পর্ক নেই। আক্রমণ করে, আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রপাগান্ডা চালানোর অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে কোরাস গাইছে। ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন নন্দীরা যখন পহেলা বৈশাখে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন, তখন থেকেই তাদের পেটানোটা ছাত্রলীগ নিয়মিত বিষয়ে পরিণত করে ফেলেছে।

এদেশের সকল নারী নেত্রী, সংগঠন, এনজিও, মানবাধিকার সংগঠন রিপভ্যান উইঙ্কেলর মতো ঘুমিয়ে আছেন। যদি কোনোদিন তাদের ঘুম ভাঙে, তাহলে নিশ্চয় তারা নারী নিপীড়ন নিয়ে কথা বলবেন!

প্রতিটি হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কিছু পরিচালনার দায়িত্ব ভিসি আরেফিন সিদ্দিকী ছাত্রলীগকে দিয়ে গেছেন। প্রশ্ন হলো, সবই তো দিয়ে গেছেন, ভিসি আখতারুজ্জামান তাদের এখন নতুন কী দিয়ে সন্তুষ্ট করবেন? ডাকসু নির্বাচন? প্রশ্নই আসে না। ডাকসু নির্বাচন হলে তো ছাত্র লীগের একক রাজত্ব থাকবে না। খুবই চিন্তার বিষয়! বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত