প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইভীর অভিযোগ দুই দিনেও মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দুই দিনেও মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করেনি পুলিশ।মঙ্গলবার  দুপুরে সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জিএমএ সাত্তার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসির দায়িত্বে থাকা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তার দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংঘর্ষের ঘটনার দিন বৈধ-অবৈধ যেসব অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে, ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে তা শনাক্ত করে তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব কাজ করছে।’

অভিযোগে অস্ত্রধারী যুবলীগ ক্যাডার নিয়াজুল ইসলাম খান ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামসহ নয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৯শ’ থেকে ১ হাজার জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অন্যরা হলো মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, স্বেচ্ছাবেকলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা চঞ্চল মাহমুদ ও নাসির উদ্দিন ওরফে টুন্ডা নাসির।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৬ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নের্তৃত্বে প্যানেল মেয়র-১, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত মুক্ত রাখারা কর্মসূচি নেন। ওই দিন পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের স্বার্থে ‘ফুটপাতে হাঁটা আমার নাগরিক অধিকার, হকারমুক্ত ফুটপাত চাই, নির্বিঘ্নে চলাচল করতে চাই’ স্লোগানে ফুটপাত দিয়ে পায়ে হেঁটে নগরবাসীকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী পথচারীদের পদযাত্রা বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর সায়াম প্লাজা এলাকায় পৌঁছায়। তখন পূর্ব পরিকপ্লিতভাবে মেয়র আইভীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাস্তানরা অত্যাধুনিক পিস্তল, রিভলবার, শর্টগানসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই ৯ অভিযুক্তসহ ৯শ’ থেকে ১ হাজার লোক চারদিক থেকে অতর্কিত হামলা চালায়। নিয়াজুল ও শাহ্ নিজামসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা গুলি করে। এতে মেয়র আইভীসহ ৪৩জন ও আরও অনেকে গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহত অনেকেই মানবঢাল তৈরি করে মেয়রকে প্রাণে রক্ষা করেন। পরবর্তীতে গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের অভিযোগটি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই একদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হবে।

মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওনমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার দিন কয়জন অস্ত্রধারী অস্ত্র প্রদর্শন করেছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে কিনা— জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির রিপোর্ট হাতে পেলেই বোঝা যাবে, কয়জন অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন। রিপোর্টে যে মতামত দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত