প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মিয়ানমারে অস্ত্র রফতানি করা দেশগুলোকেই রোহিঙ্গা হত্যার দায় নিতে হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শুধুমাত্র রোহিঙ্গা প্রত্যাবসান নয়, মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তার জন্য শান্তি রক্ষা বাহিনী প্রয়োজন। বাংলাদেশে ৪ দিনের সফর শেষে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগী জোট-আসিয়ানের সংসদীয় সংস্থা এ পরামর্শ দেয়।

এছাড়া, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ভারত, চীন ও রাশিয়াকে আরো সংবেদনশীল হবার পরামর্শ সংস্থাটির।

সর্বশেষ, এ মাসের ২৩ তারিখ বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী হিন্দু রোহিঙ্গা প্রত্যাবসানের কথা ছিল। পাল্টাপাল্টি গাফিলতির অভিযোগ থাকলে, শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখে নি। এদিকে, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগী জোট-আসিয়ানের সংসদীয় সংস্থা বাংলাদেশে শেষ করেছে রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ। ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার সংসদের সদস্যদের ৪ দিনের এ সফরে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে আসিয়ান পালামেন্টারিয়ান ফর হিউম্যান রাইটস।

সংস্থাটি জানায়, রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের ভয়াবহতা এত বেশি যে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীরা এখনো সেখানে ফিরে যেতে চান না। শুধুমাত্র প্রত্যাবসান নয়, রোহিঙ্গাদের উপর চলা নির্যাতনের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে মিয়ানমার সরকারকে।

আসিয়ান পালামেন্টারিয়ান ফর হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান চার্লস সান্টিয়াগো বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চলা নির্যাতনের মাত্রা এতই ভয়াবহ যে তারা সেখানে আর ফিরে যেতে চায় না। রোহিঙ্গারা পরিবার পরিজন ও বাসস্থান হারিয়েছেন। মিয়ানমার সরকারকে এর ক্ষতিপূরণ হিতে হবে।

এমন চলমান পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসনের সময় নিরপেক্ষ শান্তি রক্ষা বাহিনীর প্রয়োজন বলে মনে করেন চার্লস সান্টিয়াগো। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের হত্যা, নারী ও শিশুদের ধর্ষণ করা হয়েছে। মাত্র চার মাস পরেই মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নিবে তা নিশ্চিত নয়। রোহিঙ্গাদের রক্ষায় নিরপেক্ষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজন।

এদিকে, মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ভারত, চীন ও রাশিয়াকে সংবেদনশীল হতে আঞ্চলিক চাপ প্রয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। চার্লস সান্টিয়াগো বলেন, ‘মিয়ানমারে অস্ত্র রফতানি করে ভারত চীন রাশিয়া। ভারত চীনকে বলা প্রয়োজন একজন রোহিঙ্গা মারা গেলেও তার দায় তাদের নিতে হবে। নিজের অঞ্চলের মানুষের মৃত্যুর দায় তাদের নিতে হবে। মিয়ানমারে মূলত অস্ত্র রপ্তানি করে ভারত, চীন এবং রাশিয়া। ভারত ও চীনকে বলা প্রয়োজন, একজন রোহিঙ্গাও যদি মারা যায়, তার দায় তাদের। নিজের অঞ্চলের মানুষকে মারা ব্যাপারে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’এছাড়া, সৎভাবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালাতে মিয়ানমারের প্রতি চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন বলে মনে করে সংসদীয় এ আসিয়ান কমিটি।-সময়টিভি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত