প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাকিস্তান দিয়ে আফগানিস্তানে ট্রানজিট বাণিজ্য বেড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি অর্থ বছরে পাকিস্তান দিয়ে আফগানিস্তানের ট্রানজিট বাণিজ্য ১.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৭-১৮ সময়কালের শেষে তা বেড়ে তিন বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

গত ২০১২-১৩ সময়কালে ট্রানজিট বাণিজ্য নেমে এসেছিল ১.৪৬ বিলিয়ন ডলারে। আর ২০১০-১১ সময়কালে তা ছিল ৩.১২ বিলিয়ন ডলারে। অবশ্য গত কয়েক বছর ধরে এই বাণিজ্য তিন বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি থাকতে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হয়েছিল ২০১৫-১৬ মেয়াদে। তখন বাণিজ্য দাঁড়িয়েছিল ৩.৪৬ বিলিয়ন ডলারে। গত অর্থ বছরে তা ছিল ২.৮৭ বিলিয়ন ডলার।

ডিরেক্টরেট জেনারেল ট্রানজিট ট্রেডের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান দিয়ে ১.৪৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ২০১০ সালে ট্রানজিট বাণিজ্য চুক্তি সই করে। এই চুক্তিতে শূন্য ট্রানজিট ফিতে পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে পাকিস্তান স্থলবেষ্টিত দেশটির সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত ট্রানজিট বাণিজ্য করিডোরে পরিণত হয়।

তবে দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি বাড়তে থাকায় এবং ভারতের সাথে আফগানিস্তানের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় চুক্তিটির ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আফগানিস্তান এখন ট্রানজিট চুক্তিতে ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলছে। কিন্তু পাকিস্তান বলে আসছে, ওটা ছিল দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং সেভাবেই তা থাকবে। আফগানিস্তান-পাকিস্তান ট্রানজিট ট্রেড কো-অর্ডিনেশন অর্থোরিটির (এপিটিটিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রতিবেশী এ পর্যন্ত ছয়বার বৈঠকে মিলিত হয়েছে। শেষ বৈঠকটি হয়েছিল ২০১৬ সালে। সপ্তম বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু তা স্থগিত করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী পারভেজ মালিক বলেছেন, এখন পর্যন্ত ওই বৈঠকের তারিখ নির্ধারিত হয়নি।

এদিকে আফগান ট্রানজিট বাণিজ্য ইরানে স্থানান্তরিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০১৬ সালে ভারত, ইরান ও আফগানিস্তান ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ট্রানজিট চুক্তিতে সই করে। অবশ্য বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ইরানে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন, পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আফগান ট্রানজিটে কমলেও গত ছয় মাসে আবার বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রানজিট বাণিজ্য কমার কারণ হলো ন্যাটো বাহিনীর প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক দাতা তহবিল কমে যাওয়া। এছাড়া বারবার সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া এবং সীমান্তে অবকাঠামো না থাকাও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত