প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাবি’র ছাত্র ও কৃষক হত্যায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

সারোয়ার জাহান : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। সেই সাথে বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন সাজার রায় পাওয়া ছয় আসামির মধ্যে চারজনকে খালাস দিয়েছে হাই কোর্ট। অপর দিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কৃষক আবুল মিয়া হত্যা মামলায় নারীসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আলোচিত এই দুটি মামলার রায় হয়েছে বুধবার (২৪ জানুয়ারি)।

আলোচিত জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির পর বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেয়।

সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া পাঁচজন হলেন-প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রইছ ও জাহিদ হাসান, দর্শন বিভাগের রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম।

তাদের মধ্যে রাশেদুল ইসলাম রাজু ছাড়া বাকি চারজন পলাতক। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রাজু যে আপিল করেছিলেন, তা খারিজ করে একই সাজা বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।

আর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ছয়জনের মধ্যে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাজমুস সাকিব তপু ও দর্শন বিভাগের ইশতিয়াক মেহবুব অরূপের সাজা হাই কোর্টেও বহাল রাখা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র শফিউল আলম সেতু ও অভিনন্দন কুণ্ডু অভি, দর্শন বিভাগের কামরুজ্জামান সোহাগ এবং ইতিহাস বিভাগের মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন।

এই ছয়জনের মধ্যে অরূপ পলাতক, বাকি সবাই কারাগারে আছেন। এ মামলার আসামিদের সবাই ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

রায়ের সময় রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মল কুমার দাস। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রানা কাউসার।

ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র জুবায়ের ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের কোন্দলে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন।

জুবায়ের নিহত হওয়ার পর ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে পদত্যাগে বাধ্য হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সময়কার উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির।

হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন নিবন্ধক হামিদুর রহমান আশুলিয়া থানায় যে মামলা করেন, তাতে ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১৩ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ পারভেজ।

হত্যাকাণ্ডের দেড়বছর পর মামলাটি অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে এলে তা হাকিম আদালত থেকে পাঠানো হয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।

ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুজন খালাস পান।

বিচারক রায়ে বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিণতি হল জুবায়ের হত্যাকাণ্ড। অনুরূপ অহেতুক হত্যাকাণ্ড মানবতা ও নৈতিকতাকে বার বার প্রশ্নবিদ্ধ করে। এতে ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর নেমে আসে শোকের ছায়া। এমনকি পারিবারিক, সামাজিকও আর্থিক নানারকম সমস্যাও পরিবারগুলোকে গ্রাস করে।

“বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশি শক্তির জোরে কোনো ধরনের সহিংসতা, নৃশংসতা, অশান্তি সৃষ্টি, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, হানাহানি, উগ্রতা, বর্বরতা শিক্ষার অনূকূল পরিবেশের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যা কারও কাম্য হতে পারে না।”

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত কোনো হত্যাকাণ্ড বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার সাম্প্রতিক অতীতে না হওয়ায় আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে পর্যবেক্ষণ দেয় আদালত।

নিম্ন আদালতে দণ্ডিতদের মধ্যে কারাগারে থাকা ফাঁসির আসামি রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং যাবজ্জীবনের পাঁচজন হাই কোর্টে আপিল করেন। সেই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথি আসে হাই কোর্টে।

চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে মোট আট দিন শুনানি করে হাই কোর্ট। এরপর ৯ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

অপরদিকে, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কৃষক আবুল মিয়া হত্যা মামলায় নারীসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরোজা পারভিন এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো উপজেলার দাউদপুর গ্রামের মৃত আরাফত আলীর ছেলে মর্তুজ আলী, তার ছেলে ফয়সল মিয়া, সজলু মিয়া, মইনুল মিয়া, মেয়ে শিফা বেগম, আফসর আলীর ছেলে সুন্দর মিয়া ও মর্তুজ আলীর ভাই বসির মিয়া।

মামলায় বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ২২ জুন জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আসামিরা আবুল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন তার ভাই সাজিদ মিয়া বাদী হয়ে থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ ফারুক জানান, কৃষক আবুল মিয়া হত্যা মামলায় ৭ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় আদালতে কোনো আসামি উপস্থিত ছিলেন না। এ রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন তিনি ও নিহতের পরিবার।

সর্বাধিক পঠিত