প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এবার বই মেলায় বাড়ছে পরিধি, চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি

এ জেড ভূঁইয়া আনাস : সপ্তাহ পেরুলেই শুরু হবে একুশে বই মেলা। এ নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে অনেক আগেই। এ মুহূর্তে ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রকাশকরা। আয়োজক বাংলা একাডেমীও এ জাতীয় উৎসবকে সামনে রেখে পার করছেন ব্যস্ত সময়। একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, পৃথিবীর আর কোন বই মেলা একমাস চলে না। সেই হিসেবে এর গুরুত্ব অনেক। আমরা এতো মধ্যে সব ধবণের প্রস্তুতি নিয়েছি।

এছাড়া এবারই প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলায় লেখক, সাহিত্যিক, কবি, বিভিন্ন অঙ্গনের সিনিয়র ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রবেশের জন্য আলাদা একটি গেট স্থাপন করা হচ্ছে। এই গেইট দিয়ে শুধুমাত্র লেখকদেরই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে বলে জানান বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক।

বছরের এই একটি মাসে সারাদেশের বই প্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ। আর তাই পাঠক লেখক প্রকাশক সকলেই সারাবছর অপেক্ষা করেন ফেব্রুয়ারির জন্য। সে আয়োজনকে সফল করতে প্রকাশকরা এখন শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কথা প্রকাশনীর প্রকাশক জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রকাশনার শুরু থেকে এই পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কাজ এই বছর। কারণ এই বছর আমাদের অনেকগুলো বই পুরস্কার পেয়েছে। এতে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মুহা: সাহেদের ‘নতুন চর্যাপদ’ পুরস্কৃত হয়েছে।

প্রথমা প্রকাশনীর ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, বই মেলাকে সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। অনেকগুলো নতুন বই আমরা হাতে পেয়েছি। এবারের মেলায় আমাদের ৭০-৭৫টি নতুন বই আসবে। এর মধ্যে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের লেখা বই ও রয়েছে।

বই মেলাকে উদ্দেশ্য করে তাড়াহুড়ো করে প্রকাশকরা বই ছাপান। এতে বইয়ের মান নিয়ে অনেকদিন থেকেই প্রশ্ন উঠছে। এ নিয়ে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বই ছাপতে গিয়ে প্রকাশকরা বইয়ের মানে দিকে খেয়াল করে না। ফলে বইয়ে অনেক ভুল থাকে। তাই আমার কথা থাকবে বই মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকরা সচেতনতার সাথে তাদের নিজস্ব সম্পাদককে প্রতিটি পা-ুলিপি পরীক্ষা করে বই ছাপতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মহান একুশের গ্রন্থমেলায় অতীতের যে কোন মেলার চেয়ে এবার মেলার পরিসর বাড়ছে। একইসাথে অংশগ্রহণকারী স্টল ও প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার ৮৩টি নতুন প্রকাশনা সংস্থা আবেদন করেছিল। তাদের মধ্যে ৬০টিকে স্টল দেওয়া হয়েছে। ফলে এবারের মেলায় অংশগ্রহণের জন্য পাবলিশার্সদের সংখ্যা বেড়েছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে মেলার পরিসর। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতবারের চেয়ে বেশকিছু বেশি জায়গায় স্টল হচ্ছে অংশগ্রহণকারী সংস্থা বৃদ্ধির কারণে।

গতবছর মেলায় মোট পাঁচ লাখ ১৩ হাজার বর্গফুট এলাকায় মেলা বসেছিল। এবার তা দাঁড়াচ্ছে সাড়ে পাঁচ লাখ বর্গফুটে। স্টলের ইউনিট এবার বেড়েছে ৪১টি। গত বছর মেলায় ইউনিট ছিল ৬৫৯টি। এবার ৪৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৭০০ ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যা বেড়েছে মোট ৬০টি। এর মধ্যে নতুন প্রকাশনা ৩৪ এবং লিটল ম্যাগ ও অন্যান্য সংস্থার সংখ্যা বেড়েছে ২৬টি। প্যাভিলিয়ন বেড়েছে ১২টি। গতবার প্যাভিলিয়ন ছিল ১১। এবার হচ্ছে ২৩টি। বাংলা একাডেমির সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ সব তথ্য জানানো হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত