প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্থবির হয়ে পড়ছে সংসদ কার্যক্রম

হোসাইন : হাজিরা খাতায় সই করে মন্ত্রী-এমপিদের উধাও হয়ে যাওয়া এবং উপস্থিতির সময়টুকু খোশগল্পে পার করার মধ্য দিয়ে চলছে বিএনপিবিহীন দশম জাতীয় সংসদের অধিবেশন। এতে প্রায়ই কোরাম সংকটের পাশাপাশি সংসদ অধিবেশনের সার্বিক কার্যক্রমও অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। যদিও প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সংসদে উপস্থিত থাকছেন। আর বিরোধী দলের উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এ অবস্থায় সরকারদলীয় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ মন্ত্রী-এমপিদের নামে গোপনে চিঠি পাঠিয়ে অধিবেশন চলাকালে সংসদে উপস্থিত থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়ার অনুরোধ করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সংসদ কক্ষে সাংসদের অনুপস্থিতি কিংবা অধিবেশন শেষ হওয়ার পূর্বে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু, যা জনমনে নেতিবাচক বার্তা দেয়। আর সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে প্রাণবন্ত সংসদ। তারা সংসদ সদস্যরা এই সৌন্দর্যের অলংকার। তাই সংসদীয় কার্যক্রমে তাদের আরও বেশি সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সব সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীবর্গকে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অধিবেশন কক্ষে অবস্থান করে সংসদীয় কার্যক্রমকে অধিকতর সৌন্দর্যমন্ডিত করতে অবদান রাখার জন্য অনুরোধ করছেন। কারো বিশেষ কোনো প্রয়োজনে সাময়িক অনুপস্থিতির প্রয়োজন হলে সে ব্যাপারে নিম্নস্বাক্ষরকারীকে অবহিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ অধিবেশনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ অনুরোধ। প্রতিদিন সংসদ কোরাম সংকট হচ্ছে। তাই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী-এমপিদের নামে অতীতে এ ধরনের চিঠি পাঠানোর উদাহরণ নেই। গোপনীয় ও জরুরি লিখে ওই চিঠি প্রত্যেক মন্ত্রী-এমপির বাসায় পাঠানো হয়েছে।

দশম সংসদে দেখা গেছে অনেক সময় সংশিস্নষ্ট মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতেই সংসদে আইন পাস হয়েছে। ফলে যথাযথ আলোচনা হয়নি ওই আইনের উপর। মন্ত্রীরা অনুপস্থিত থাকায় বেসরকারি সদস্যদের প্রস্তাব- জনগুরম্নত্বপূর্ণ নোটিশসহ বিভিন্ন নোটিশ নিয়ে আলোচনাকালে সঠিক উত্তর পাওয়া যায় না। প্রশ্নোত্তরসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যদের দিয়ে অধিবেশনের কাজ চালানো গেলেও যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয় না। এ ছাড়া অধিকাংশ এমপি-মন্ত্রী ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে সংসদে বেশি সময় দিতে পারেন না।

মন্ত্রীরা সংসদ অধিবেশনে নিয়মিত অংশগ্রহণে সচেষ্ট হবেন বলে আশাবাদী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও। তিনি বলেন, মন্ত্রী-এমপিরা নিয়মিত সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবেন এটাই নিয়ম। এখানে নতুন করে নির্দেশনা দেয়ার কিছু নেই।

চলতি অধিবেশনের হাজিরা খাতার ৮ কার্যদিবস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গেলেও অনেকে হাজিরা দিয়ে চলে যান। গত ৭ জানুয়ারি সংসদের ১৯তম অধিবেশন শুরু হয়। ওইদিন সংসদের সদস্য উপস্থিত ছিলেন ২৫৫ জন, ৯ জানুয়ারি ২৩৪ জন, ১০ জানুয়ারি ১৯৪, ১১ জানুয়ারি- ১৪১ জন, ১৪ জানুয়ারি-১৭২ জন, ১৫ জানুয়ারি-১৮৯ জন, ১৬ জানুয়ারি- ২১২ জন, ১৭ জানুয়ারি-২২৬ জন। তবে বিভিন্ন আলোচনা-নোটিশ-প্রশ্নোত্তরসহ সংশিস্নষ্ট সময় পাওয়া যায়নি অনেক মন্ত্রী-এমপির। প্রায় প্রতিদিনই কোরাম সংকট হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিদিন একই কারণে দেরি করে শুরম্ন হচ্ছে সংসদ অধিবেশন। মাগরিবের নামাজের বিরতি ২০ মিনিট দিলে কোরাম পূরণ না হওয়ার কারণে প্রতিদিনই অধিবেশন শুরম্ন হয় দেরি করে। তা ছাড়া প্রতি বৃহস্পতিবার সংসদের ‘বেসরকারি সদস্য দিবস’। ওইদিন সংসদে আইন পাস বা বিল উত্তাপন হয় না। এ জন্য বেশির ভাগ মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকেন। আসলেও হাজিরা দিয়ে চলে যান। এমপিরাও যান নির্বাচনী এলাকায়। এ সময় সংসদের অবস্থা হয় আরও ভয়াবহ।

তবে এই হাজিরার বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাঝে মধ্যে মন্ত্রী ও এমপিদের হাজিরা খাতা দেখেন। তাই মন্ত্রী ও এমপিরা সংসদে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই উধাও হয়ে যান।

গত ৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশন কক্ষে মন্ত্রী ও এমপিদের অনুপস্থিতির কারণে স্পিকার তড়িঘড়ি করে অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। অথচ ওইদিন হাজিরা খাতায় ২৩৪ জন মন্ত্রী ও এমপির উপস্থিতির স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু মাগরিবের নামাজের বিরতির পর স্পিকারসহ উপস্থিত ছিলেন ৪৮ জন। এদিন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ৭১ বিধিতে জরম্নরি জনগুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ বিধির নোটিশগুলো নিষ্পত্তি করেন। ওই সময় নোটিশ দেয়া বেশির ভাগ এমপিই অনুপস্থিত ছিলেন।

১১ জানুয়ারি অধিবেশনে ‘কোরাম’ ছিল না, কিন্তু কারো নজরে আসেনি তাই অধিবেশন চলেছে বিরতিহীন। ওইদিন বেসরকারি সদস্য দিবসে বিকাল সাড়ে ৪টায় সংসদ অধিবেশন শুরম্ন হয় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে। শুরম্নর দিকে সদস্য ছিলেন ১৪১ জন। মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন শুরম্ন হলে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হয়। সংসদ নেতা শেখ হাসিনাও তখন অধিবেশন কক্ষে ছিলেন। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া ৭১ বিধিতে জরম্নরি জন-গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ বিধির নোটিশগুলো নিষ্পত্তি করেন।

কিন্তু নোটিশ দেয়া অধিকাংশ সদস্যই ছিলেন অনুপস্থিত। একপর্যায়ে বিরোধী দলের হুইপ নুরম্নল ইসলাম ওমরের একটি নোটিশের জন্য ডেপুটি স্পিকার তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে; ওই সদস্য তা শুনতে পাননি। আশপাশের সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলায় ব্যস্ত্ম ছিলেন তিনি। এ সময় ডেপুটি স্পিকার তাকে সংসদে মনোযোগী হওয়ার অনুরোধ করেন।
ওইদিন বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত্ম প্রস্ত্মাব চলাকালে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত সদস্য সংখ্যা ডেপুটি স্পিকারসহ ৫৮তে নেমে আসে। মন্ত্রীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মতিয়া চৌধুরী, নুরম্নল ইসলাম নাহিদ, আসাদুজ্জামান খান কামাল, নুরম্নল ইসলাম বিএসসি।

ওই দিন বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব জমা দেন পাবনার সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু, চট্টগ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও দিদারম্নল আলম, ঢাকার এম এ মালেক এবং ফেনীর রহিম উলস্নাহ। এর মধ্যে প্রথম তিনজনই অনুপস্থিত ছিলেন। প্রশ্নোত্তর পর্বেও প্রশ্নকারী একাধিক সদস্যও অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে শুরু প্রশ্নকারী মৌলবীবাজারের আব্দুল মতিন অনুপস্থিত ছিলেন। তিন নম্বর প্রশ্নকারী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনও ছিলেন না। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্ত্মাবের আলোচনায় একাধিক সদস্যের বক্তব্য দেয়ার কথা থাকলেও কোরাম সঙ্কটের কারণে একজনকে সুযোগ দিয়ে অধিবেশন মুলতবি করেন ফজলে রাব্বী মিয়া।
এদিকে কার্যপ্রণালী বিধির (বিধি-৭১) এর আওতায় জরম্নরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে প্রতিদিনই কম-বেশি ১৫ থেকে ২০ জন সংসদ সদস্য নোটিশ দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে স্পিকার নোটিশের ওপর দুই মিনিটের আলোচনার সুযোগ দেন। কিন্তু গত ১৪ জানুয়ারি রাতে সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ করে স্পিকার চেয়ারে বসা ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বিধি-৭১ এর আওতায় আনীত নোটিশের আলোচনার জন্য নাম কল করলে প্রথম থেকেই সদস্যরা ছিলেন অনুপস্থিত। এই অনুপস্থিতির তালিকা এতই দীর্ঘ যে ১৫ জনের মধ্যে মাত্র ৪ জন উপস্থিত ছিলেন।

ওইদিন নোটিশ দিয়ে অনুপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুলাহ, গাজী গোলাম দস্ত্মগীর, দিদারম্নল আলম, নজরম্নল ইসলাম বাবু, এম আব্দুল লতিফ, পঙ্কজ নাথ, মনিরম্নল ইসলাম ও উম্মে রাজিয়া কাজল। আর বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নুরম্নল ইসলাম ওমর ও জাসদের লুৎফা তাহের। আলোচনা করেন শুধু নবী নেওয়াজ, পিনু খানসহ চারজন। এভাবে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে নোটিশ দিয়ে সংসদে অনুপস্থিত থাকায় অনেক সময় স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। এর আগে ১০ জানুয়ারি এরকম নাম দিয়ে প্রায় ১১ জন অনুপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্ত্মাবের আলোচনায়ও মন নেই সংসদ সদস্যদের। গত ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী। কিন্তু এ সময় দেখা যায়, অনেক সদস্য খোশগল্পে মেতে আছেন, কেউ কেউ করছিলেন পায়চারি, আবার কেউ কেউ অধিবেশনে আসা যাওয়া করে সময় কাটাচ্ছিলেন। এদিনও অধিবেশন মুলতবি ঘোষণার সময় ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার সময় সাংসদদের সংসদ ত্যাগের বিষয়ে সতর্ক করেন এবং মনোযোগী হতে বলেন।

গত ১৫ জানুয়ারি সংসদের সাংবাদিক গ্যালারিতে গিয়ে দেখা যায়, মন্ত্রী-এমপিরা ভাষণের ওপর আনীত বক্তব্যের আলোচনায় মনোযোগী না হয়ে জটলা বেঁধে গল্প করছেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক- সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পাশের চেয়ারে বসে গল্প করতে দেখা যায় হুইপ ইকবালুর রহিমকে। কিছুক্ষণ পরে সেখানে গিয়ে যোগ দেন আব্দুর রহমান এবং আ খ ম জাহাঙ্গীর।
অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে দেখা যায়, চেয়ার ঘুরিয়ে পেছনের সারিতে বসা নতুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের সঙ্গে গল্প করছেন। পাশে ছিলেন অধ্যাপক আলী আশরাফ ও রেজাউল করিম হীরা।
নিজের আসন ছেড়ে মাঝের সারিতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের পাশে বসে গল্প করছিলেন সাবিনা আক্তার তুহিন, সঙ্গে ছিলেন আরেক সদস্য। জাহিদ আহসান রাসেল ও গোলাম রাব্বানীকেও দেখা যায় পাশাপাশি সিটে বসে গল্প করতে।
সম্প্রতি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া তাহজীব আলম সিদ্দিকীকে দেখা যায় সংসদের ভেতরে এপাশ-ওপাশ করতে। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, শেখ হেলাল উদ্দীনের কাছাকাছি একটি চেয়ারে বসতে। তবে সেখানে আগে থেকেই একজন গল্প করছিলেন। শেষ পর্যন্ত্ম সুযোগ না হওয়ায় অধিবেশন থেকেই বেরিয়ে যান তাহজীব। ডা. ইউনুস আলীর বক্তব্যের সময় অধিবেশন ত্যাগ করেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক এবং নূরজাহান বেগমও।

নিজের আসন ছেড়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ফখরম্নল ইমামের পাশে বসে গল্প করতে দেখা যায় ওই দলের আরেক সদস্য ইয়াহিয়া চৌধুরীকে। অথচ কার্যপ্রণালী বিধিতে স্পষ্ট উলেস্নখ করা হয়, কোনো সদস্য বক্তব্য দেয়ার সময় সংসদের ভেতর দিয়ে চলাচল করা কিংবা পত্রিকা পড়া যাবে না।

এর আগের দিন ১৪ জানুয়ারি অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করার আগে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারম্নজ্জামান বলেন, সংসদে স্বাক্ষর করে মন্ত্রী ও এমপিদের উধাও হয়ে যাওয়া দায়িত্বহীনতা। জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্বের অবহেলা।

উলেস্নখ্য, সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশন শুরম্ন করতে হলে ৬০ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকতে হয়, যাকে কোরাম বলা হয়। রীতি অনুযায়ী, সংসদ শুরম্নর আগে পুরো সংসদ ভবনে বেল বাজে। অধিবেশনকক্ষে কোরাম পূর্ণ হলে বেল বাজা বন্ধ হয়।
বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি গবেষণা প্রতিবেদন মতে, জাতীয় সংসদ পরিচালনায় প্রতিটি মিনিটে রাষ্ট্রের গড়ে খরচ হয় এক লাখ ৬২ হাজার ৪৩৪ টাকা।

এদিকে সরকারের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ ও সংসদের বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বপালন করা জাতীয় পার্টির ভূমিকাও সংসদে এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। চার বছরেও তারা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারেনি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে নিয়মিত অধিবেশন বসে; কিন্তু তাতে মন নেই অধিকাংশ সদস্যের।

সূত্রমতে, আইন প্রণয়ন, মুলতবি প্রস্তাব আনা, সংসদীয় কমিটিগুলোতে সক্রিয়তা, সরকারের সাধারণ সমালোচনা- কোনো কিছুতেই বিরোধী মেজাজে নেই জাতীয় পার্টি। গত চার বছরে এর কোনোটিতেই সরকারকে বিরোধী দলের মুখোমুখি হতে হয়নি। এমনকি জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে কোনো মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়নি। প্রধান বিরোধী দলের সদস্যরা তেল, গ্যাস ও বিদু্যতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে একবারই মাত্র ওয়াকআউট করেছে। এর বাইরে কার্যকর ও শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকায় কখনোই দেখা যায়নি তাদের। জাতীয় পার্টির কোনো কোনো সদস্য সংসদে সরকারের সমালোচনার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রশংসা করেই বেশি সময় কাটিয়েছেন। একাধারে বিরোধী দলে এবং সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকায় দলটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
এবিষয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিরোধী দলে সংসদে সঠিক দায়িত্ব পালন করছে। এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনও ঘটাতে ভূমিকা রাখছে।

এদিকে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমান দশম সংসদের মূল ৩০০ এমপির মধ্যে ২০৬ জনেরই পেশা ব্যবসা। অর্থাৎ ব্যবসায়ী এমপির হার ৬৯ শতাংশ। সংরক্ষিত নারী আসনসহ ব্যবসায়ী এমপির মোট সংখ্যা হিসাব করলে এটা বেড়ে দাঁড়ায় ২১৪ জনে। অবশ্য শুধু পেশা ব্যবসার দিক থেকেই নয়, অর্থ-সম্পদের মালিকানার দিক থেকেও বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা বিশ্বে অনন্য। এটাও সংসদ স্থবির হওয়ার একটা কারণ বলে মনে করেন বিশেস্নষকরা।

এ বিষেয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, সাংবিধানিকভাবে কে সংসদ সদস্য হতে পারবেন, আর কে পারবেন না, এমন কোনো বিষয় নেই। থাকলে সেটা অবশ্যই বৈষম্যমূলক আচরণ হতো। এ সুযোগেই রাজনীতিকদের পিঠে বন্দুক রেখে ব্যবসায়ীরা এ পেশায় ঢুকে পড়ছেন। ফলে জনসেবা নয়, রাজনীতি এখন সবচেয়ে বড় ব্যবসা।যায়যায়দিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত