প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাস্তার ওপর কনটেইনার পার্কিং

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধান সড়কের ওপর একপাশ দখল করে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পার্ক করা কনটেইনার ও লরি। আরেক পাশে সারা দিন থাকে দূরপাল্লার বাসের পার্কিং। পাশেই সিএনজি পাম্পের গ্রাহক লাইন। অন্যদিকে উল্টোপথে ছুটছে রিকশা। সব মিলিয়ে প্রধান সড়কসহ শাখাসড়কগুলোয়ও থাকে দিনভর যানজট। মুগদা বাসিন্দাদের একমাত্র প্রধান সড়ক অতীশ দীপঙ্কর সড়কের (মুগদা বিশ্বরোড) নিত্যদিনের দৃশ্য এটি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই সড়ক।
প্রধান সড়কে কনটেইনার আর দূরপাল্লার বাসের পার্কিং নৈরাজ্য নিয়ে এলাকাবাসীর বিরক্তি ও ভোগান্তি বহুদিনের। এখান দিয়ে পথ চলতে আশপাশের ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও আছেন কষ্টে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সম্পূর্ণ সড়কের একপাশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে অর্ধশতাধিক কনটেইনার ও কনটেইনার লরি। বিভিন্ন সময় এ নিয়ে সমালোচনা হলেও এক কুচক্রী মহল, কনটেইনার মালিক পক্ষ ও প্রশাসনের যোগসাজশে এই অবৈধ পার্কিং নড়ছে না একচুলও। কনটেইনার পার্ক করার নির্দিষ্ট একটি জায়গা ‘কমলাপুর গরুর হাট মাঠ’ রয়েছে। তার পরও ওয়ার্ডের মূল সড়কের একধারে বারোমাস ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে একের পর এক কনটেইনার। কোথাও আবার আস্ত কনটেইনার লরিটাই আছে দাঁড়িয়ে। কোথাও আবার গড়ে উঠেছে কনটেইনার লরি স্ট্যান্ড। ফলে বছরজুড়েই এ বড় রাস্তাটির অর্ধেক থাকে কনটেইনার পার্কিংয়ের পেটে। দিনের বেশিরভাগ সময় এখানে লেগে থাকে যানজট। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষও রয়েছে চুপ।
পাশেই রয়েছে যানজটের আরেক কারণ এলাকার অন্যতম বড় সিএনজি পাম্প। পাম্পে গাড়ি প্রবেশ ও বাবেিরর সময় রাস্তার ওপর বাধে জ্যাম।
মুগদা বাজারের আজিজ জানান, অনেকগুলো দুর্ঘটনার নজিরও আছে এখানে। এমনিই এক ভুক্তভোগী বেলাল। তিন মাস আগে পাম্পের সামনে দিয়ে পথ চলার সময় তার গায়ের ওপর উঠে যায় গাড়ি। দক্ষিণ মুগদার ওয়ালটন গলিতে থাকেন ওই যুবক।
এদিকে আবাসিক এলাকার প্রধান সড়কের মুখে এমন সিএনজি পাম্প অপসারণ না করে উল্টো এই অংশে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এতে তৈরি হয়েছে আরেক নতুন সমস্যা। দিনভর উল্টোপথে চলছে রিকশার বহর। আর এই অনিয়মে হুটহাট বাধে জ্যাম। মুগদা বাজার সড়কে বর্তমানে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় তা চলাচল করার কথা আইডিয়াল স্কুলের সামনে দিয়ে ইউ টার্ন করে। অথচ নিয়ম না মেনে উল্টো পথে চলছে এই রিকশা। অথচ থেমে নেই সিএনজি পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন।
বড় মসজিদের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠছে বাস টার্মিনাল। সরেজমিনও দেখা গেল একিই চিত্র। মুগদা বিশ্বরোডের ওপর স্টেডিয়ামের ঠিক উত্তর পাশেই বহুদিন ধরে চলছে ইউনিক বাস কাউন্টার। অন্যদিকে আইডিয়াল স্কুলের দক্ষিণ পাশে রয়েল বাস কাউন্টার। রয়েছে আরও কিছু বাস কাউন্টার। থামছে দূরপাল্লার বাস। প্রধান সড়কের ওপরই আবার বাস পার্কিং। ফলে রাস্তায় যান চলাচল হয় ব্যাহত। রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে ড্রিম লাইন, স্টার লাইন, একুশে পরিবহনের মতো বড় দূরপাল্লার বাস।
মুগদা, দক্ষিণ মুগদা, উত্তর মুগদা, মদিনাবাগ, ওয়াসা রোড, জান্নাতবাগ, শান্তিকাননসহ আরও কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত দক্ষিণের এই ৬নম্বর ওয়ার্ড। ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ২ লাখেরও বেশি। ৪৭ হাজার ভোটারের এই ওয়ার্ডে নেই কোনো উন্মুক্ত মাঠ। মাতৃসদন আছে একটি। কমিউনিটি সেন্টার একটি থেকেও নেই। এলাকাবাসী ভোগ করতে পারছে না এর সুবিধা।
এদিকে কবরস্থানের পাশের সরকারি নতুন জায়গাটি ঘিরেও চলছে নানা চক্রান্ত। এলাকার প্রতাপশালী নেতাদের চোখ এখন সেখানে। বর্তমানে গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। কাউন্সিলরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সব উঠিয়ে দেওয়া হবে। এখানে শিশু পার্ক করা হবে।
মুগদায় ঢুকতেই চোখে পড়ে রাস্তার ওপর অবৈধ বাজার। দক্ষিণ মুগদায় রাস্তায় ভাসমান বাজার। সকালে বাজার চলে জমজমাট। আর ভোগান্তিতে চলে অফিস ও স্কুলযাত্রা। রিকশা থেমে যায় বাজারের জায়গায় এসে।
গ্যাস ও পানি নিয়ে রয়েছে কষ্ট। উত্তর মুগদা, মদিনাবাগ, ওয়াসা রোড, জান্নাতবাগ ও শান্তিকাননে গ্যাসের সমস্যা প্রকট। এদিকে পানি নিয়ে ভোগান্তি আছে সবখানেই। ডেইজি করিম জানান, পানিতে থাকে ময়লা। দুর্গন্ধও আছে। খাওয়ার পানির জন্য পাম্পের পানি একমাত্র ভরসা। সরেজমিন থানার পাশের ওয়াসার পাম্পে দেখা যায় বিপুল ভিড়। বর্ষায় জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেক। টানা বৃষ্টিতে বড় মসজিদ রোডে পানি ওঠে বেশি। মুগদা চৌরাস্তাতেও ওঠে পানি। তবে উত্তর মুগদা ঝিলপাড় এলাকার অবস্থা অনেক করুণ।
মুগদার বড় রাস্তার অবস্থা খারাপ। তার ওপর লেগুনার উৎপাত। যাতায়াতে আছে ভোগান্তি। অন্যদিকে এলাকায় ৪৭৫টি আধুনিক সড়কবাতির নিচেও কিছু জায়গায় সরব আছে মাদক। সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত