প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আই অ্যাম এ ফাইটার, আই অ্যাম এ লিডার’

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের চ্যালেঞ্জের জবাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরীক্ষিত সৈনিক। বারবার পরীক্ষা দিতে হবে না তাকে। দৃঢ়কণ্ঠে তিনি আরও বলেছেন, ‘আই অ্যাম এ ফাইটার, আই অ্যাম এ লিডার।’

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চার দিন চিকিৎসার পর নারায়ণগঞ্জ ফেরার আগে সাংবাদিকদের মেয়র বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের বিষয়ে তার অবস্থান বদলাচ্ছে না। ফুটপাত দিয়ে মানুষ হাঁটবে। চারতলা ভবন হবে হকারদের জন্য। হকাররা সেখানে যাবে। এটাই তার মেসেজ।

গত ১৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে নিজ কার্যালয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ঢাকায় এনে ভর্তি করানো হয় ল্যাবএইড হাসপাতাল। চার দিন সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে নিজ শহর নারায়ণগঞ্জে ফেরার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

হকার উচ্ছেদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে তার সমর্থকদের সঙ্গে সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জে অস্ত্রের ঝনঝনানির বিপরীতে শান্তির জয় হয়েছে। সাহসী আইভীকে যারা চেয়েছিল, সেরকম সাহসী হয়েই নারায়ণগঞ্জবাসী আবার জেগেছে। অস্ত্রের ঝনঝনানির কাছে শান্তির যে জয়, নৈতিকতার যে জয়, তাকে কেউ হারাতে পারে না। এটা নারায়ণগঞ্জবাসী দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, তার স্লোগান ছিল- ‘নাই শঙ্কা নাই ভয়, শহর হবে শান্তিময়’। নারায়ণগঞ্জ শহরকে শান্তিময় হতেই হবে। এ বিষয়ে তাকে অভিভাবক হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা করবেন শেখ হাসিনা।

বক্তব্যের শুরুতেই নিজের শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে আইভী বলেন, তিনি এখন ভালো আছেন। আল্লাহর রহমতে সুস্থ আছেন। সশস্ত্র আক্রমণ থেকে নিরস্ত্র জনগণ তাকে রক্ষা করেছেন। নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি তিনি চিরকৃতজ্ঞ। শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে নারায়ণগঞ্জবাসীকে সেবা দিতে চাই। ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এবং প্রতিদিনই তার খোঁজ-খবর নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এ সময় কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

একই সঙ্গে ল্যাবএইডের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ল্যাবএইডের প্রতিটি চিকিৎসক তার জন্য যা করেছেন, তা তিনি জীবনেও ভুলবেন না। তাদের জন্যই আজ তিনি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছেন।

পেশাগত জীবনে একজন চিকিৎসক হলেও মানুষের সেবা করার জন্যই রাজনীতিতে এসেছিলেন বলে জানান নারায়ণগঞ্জের এই মেয়র। তিনি বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শে বিশ্বাস করেন।

শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই তার। রাজনীতিতে এরকম হবেই। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী নন। তার সঙ্গে রাজনৈতিক ও পারিবারিক কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ যদি থেকে থাকে সেটি আদর্শগত, নীতিগত। কিন্তু সেখানেও তিনি নমনীয়। কারণ নগরবাসীর উন্নয়ন চান তিনি।

আইভী বলেন, তিনি সিটি পরিচালনা করেন। সিটির দায়দায়িত্ব তার। কেউ এখতিয়ার-বহির্ভূতভাবে এটা নিয়ে কমেন্ট করবে, সেটা নগরবাসী মেনে নেবে না। অতীতে মেনে নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না। নগর কীভাবে চলবে সে সিদ্ধান্ত নগরবাসীই নেবে।

তিনি বলেন, তার ফুটপাত দিয়ে আওয়ামী লীগ হাঁটবে, বিএনপি হাঁটবে, জনগণ হাঁটবে। সব নাগরিকের অধিকার সমান। কারণ তিনি সবার কাছ থেকেই ট্যাক্স নেন। সিটি মেয়র হিসেবে তিনি সবার মেয়র। আর আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে তিনি শেখ হাসিনার ক্ষুদ্র কর্মী।

প্রায় ১০ মিনিট সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে চাননি সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিষয়ে কেউ প্রশ্ন করতে চাইলেও শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হন এই মেয়র।

চিকিৎসা শেষে নিজ বাড়িতে মেয়র আইভী : নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঢাকায় ল্যাবএইডে চার দিন চিকিৎসা শেষে নারায়ণগঞ্জে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। মঙ্গলবার দুপুরে প্রথমে নগরের মাসদাইর কবরস্থানে বাবা আলী আহাম্মদ চুনকার কবর জিয়ারত শেষে দুপুর ২টা নাগাদ বাসায় আসেন মেয়র। গাড়ি থেকে নেমেই নেতাকর্মী ও স্বজনদের ভিড় ঠেলে বড় ছেলে কাজী সাদমান হায়াত সীমান্তকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। ওই সময় আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সবার সঙ্গে কুশল বিনিময়ও করেন তিনি।

মেয়র ওই সময় বলেন, চিকিৎসকরা হাই অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েছেন। যার কারণে শরীর এখনও কিছুটা দুর্বল। বাসায় তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন চিকিৎসকরা। সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত