প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অভিনন্দন শারমীন হক ক্ষমা করুন আমাদের হীন মানসিকতা

নিয়াজউদ্দিন চৌধুরী হীরা, প্যারিস, ফ্রান্স : বাংলাদেশের মেয়ে শারমীন আব্দুল্লাহ হক ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে এক অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শারমীন প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ফরাসী হিসেবে ফ্রান্সের একটি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বহু জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির দেশ হিসেবে পরিচিত ফ্রান্সের মুল ধারার রাজনীতিতে এবারই প্রথম কোন বাংলাদেশী মাথা উচু করে প্রবেশ করলো। শারমীনের এহেন গৌরবদীপ্ত পদচারনায় ফ্রান্সে বসবাসরত সকল বাংলাদেশী উদ্দীপ্ত। শারমীনের দেখানো পথে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম হাটতে সঙ্কোচবোধ করবে না। নতুন দিগন্ত খুলে দেয়ার জন্য অভিনন্দন শারমীন।

প্রবাসের বাংলাদেশীদের মাঝে শারমীনের এ সাফল্যে অনেকেই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বিশেষত, ফ্রান্সে অবস্থানরত বাংলা সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা এ সংবাদ গুরুত্ব সহকারে প্রচার করেছেন। মুলত: তাদের জন্যই ফ্রান্সের প্রতিটি বাংলাদেশী এ আনন্দের সংবাদের অংশীদার হতে পেরেছেন।ফ্রান্সের সকল বাংলা সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের শারমীনের সাফল্যের সৌরভ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য জানাই অভিনন্দন।

কথায় আছে বাঙ্গালীদের একসঙ্গে কোন সুরঙ্গে আটকে রাখলে তারা যেন বেরোতে না পারে সে জন্য কোন পাহারাদার রাখার দরকার নেই। কারন যখন কেউ সে সুরঙ্গ থেকে বেরোতে চাইবে তখনই অপর বাঙ্গালীরা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে তাকে আটকে রাখবে। সোজা কথায় আমরা চাই না কেউ সামনে এগিয়ে যাক। আমরা কারো সাফল্যের অংশীদার না হয়ে বরং মুখ ঘুরিয়ে চলে যাবার মানসিকতা পোষণ করি।একধরনের ঈর্ষা থেকে এটা হয়ে থাকে। বাঙ্গালী অভিধানে এ কারনেই পরশ্রীকাতর শব্দটি স্থান পেয়েছে।

সম্প্রতি শারমীনের সাফল্যে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশীদের একটি বড় অংশ অভিনন্দন জানিয়েছে। তারপরও সমাজে নেতৃত্ব দেয়ার নামে যারা অধিক সরব তাদের প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় মনে একটা খটকা লাগে বৈকি। আচার বিচার ছাড়া ফেসবুক ও সংবাদ মাধ্যমে যে সব ব্যক্তিদের হরহামেশা দেখা মেলে তাদের নিশ্চুপ থাকার কারন বোধগম্য নয়।

শারমীন প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো। ফ্রান্সের মুলধারার রাজনীতিতে সে প্রবেশ করায় আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্ম উৎসাহিত হবে। প্রথম প্রজন্মের চেহারা সর্বস্ব সংগঠনবাজরা এটা মেনে নিতে পারছে না জন্যই কি আজ নিশ্চুপ? তাদের এ নিম্নমানের রুচিবোধের বিচারের ভার আমাদের আগামী প্রজন্মের।আমাদের এ হীন মানসিকতার জন্য আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ফরাসী শারমীন হক আব্দুল্লাহ একেবারে খাটি বাংলাদেশী। তার বাবা আব্দুল্লাহ আল বাকী ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশীদের কাছে খুব পরিচিত এক ব্যক্তি। তিনি সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক।শারমীনের জন্ম ১৯৮০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার গফরগাওয়ে। আব্দুল্লাহ আল বাকী এবং বদরুন্নাহার আব্দুল্লাহ’র বড় সন্তান শারমীন।

শারমীন ১৯৯৩ সালের ৭ মে ফ্রান্সে আসে। ফ্রান্সেই তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ফরাসী শিক্ষা ব্যবস্থায় উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ২০১২ সালের বাংলাদেশের আরিফুল হকের সঙ্গে বিবাহ হয় শারমীনের। তার স্বামী ও ফ্রান্সে বাস করেন।

প্রসঙ্গত, ফ্রান্সের জনপ্রিয় সমাজবাদী দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে শারমীন ২০১৪ সালের পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেন। ইল দ্য ফ্রসের অভিবাসী অধ্যুষিত ৯৩ ডিপার্টমেন্টের (সেইন সা দেনি) পিয়েরফেত স্তা পৌরসভার ২৭ সদস্যের কাউন্সিলদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে সমাজবাদী দলের প্যানেল জয়ী হয়। শারমীন সে প্যানেলে ২৮ নম্বর ছিলো। সম্প্রতি একজনের মৃত্যু হলে সে স্থানে শারমীনকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। গত ১৮ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার থেকে শারমীন পৌরসভার একজন সম্মানিত কাউন্সিলর হিসেবে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে যোগ দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত