প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বুধবার ভারত যাচ্ছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আশিষ গুপ্ত, নয়াদিল্লি : মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বুধবার (২৪ জানুয়ারি) যখন নয়া দিল্লি পৌছাবেন তখন এটা হবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ভারতে তার চতুর্থ সফর। মাত্র এক বছর আগেই চেন্নাই ও নয়াদিল্লিতে বিপুল সম্বর্ধনায় ভূষিত হয়েছিলেন তিনি।

গত এপ্রিলে তার ওই সফরকালে ভারত ও মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে মালয়েশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ৩৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হয়। এটা ছিলো মাত্র চার মাস আগে চীনের সঙ্গে সই হওয়া চুক্তির অংকের চেয়েও বড়।

ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ১০ জাতি আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক। এটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’র ‘এ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’রও ভিত্তি।

বিশ্বের সবচেয়ে জনসংখ্যাবহুল গণতন্ত্রের দেশটি ১৯৯২ সালে আসিয়ানের ‘সেক্টরাল পার্টনার’-এ পরিণত হয়। এই সম্পর্ক ১৯৯৬ সালে ডায়ালগ পার্টনার এবং ২০০২ সালে সামিট লেভেল পার্টনার এবং ২০১২ সালে স্ট্রাটেজিক পার্টনারে উন্নিত হয়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দিল্লিতে ‘অভিন্ন মূল্যবোধ, অভিন্ন গন্তব্য’ যে স্মারক শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে তাতে নাজিবের উপস্থিতি হলো আসিয়ানের কাছে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের স্বীকৃতি।

সেক্রেটারিয়েট ফর এমপাওয়ারমেন্ট অফ ইন্ডিয়ান এনট্রিপ্রিনিয়ার্স-এর সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো ড. এ টি কুমারারাজা বলেন, ‘তার ভারত সফর দেশটির প্রতি তার অতিরিক্ত আগ্রহেরও প্রমাণ। বলা হচ্ছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে।’

তিনি আরো বলেন, ২৭ লাখ ভারতীয়-মালয়েশিয়ান জনসংখ্যার কারণে ভারতের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় সামাজিক বন্ধন অনেক দৃঢ়। এদের তৃতীয় বা চতুর্থ প্রজন্ম এখানে বাস করছে।

গতবছর চেন্নাইয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কর্পোরেট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নাজিবের বৈঠকে সফরসঙ্গী হয়েছিলেন কুমারারাজা।

নাজিবের সফরকালে মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়ে কাজ করছে উিইসমা পুত্রা। যদিও সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে মোদির বৈঠক হবে, কিন্তু কর্মকর্তারা বলছেন যে দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের কারণে মোদি-নাজিব বৈঠক আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।

গত বছর নাজিবের সফরকালে যেসব গুরুত্বপূর্ণ এমওইউ সই হয় সেগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে।

কনসর্টিয়াম অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ ইন মালয়েশিয়া (সিআইআইএম)’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দাতো উমাং শর্মা বলেন, অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির তুলনায় ভারতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রচুর। ২০১৮ সালে ৭.৮% এবং পরিবর্তি দুই বছর ৭.৫% প্রবৃদ্ধির আভাস দেয়া হয়েছে।

তাই ভারত যেন মালয়েশিয়াকে ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’-এর স্বীকৃতি দেয় এবং মালয়েশিয়াও একই উদ্যোগ নেয় তার পরামর্শ দেন শর্মা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত