প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে রোহিঙ্গা ইস্যু

ফারমিনা তাসলিম : পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী প্রথমেই রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার বিষয়টি হোঁচট খেল। নির্বাচনে এ বিষয়টি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিবিসি বাংলার কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক সৈয়দা রৌজানা রশিদ বলেছেন, সামনে নির্বাচন। বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী বা সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ বাংলাদেশে ঢুকল্ তাদের দেখভালের বিষয়ে পাবলিক যে সেন্টিমেন্টাল বাংলাদেশ সেটা প্রথম দিকে দেখেছেন। খুব একটা তাদের পক্ষে ছিলেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে মানবতার দিক থেকে বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এখন সরকার ব্যবস্থা করলে, রোহিঙ্গারা ফেরত যাবে। সে অর্থে আমরা গণদৃষ্টিকোণের দিক থেকে দেখছি যখন এটার সমাধান হবে না, তখন সরকারের ওপর চাপ ততই বৃদ্ধি পাবে। পাবলিক সেন্টিমেন্ট তৈরি হবে এ ইস্যুতে। সমর্থন হারাতে পারে রাজনৈতিক বিশেষ দল এবং এটাকে নিয়ে তখন রাজনীতি হবে।

সৈয়দা রৌজানা রশিদ বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রথম থেকেই জটিলতা ছিল। সহজে বলা হচ্ছে প্রত্যাবাসন শুরু হবে। কিন্তু প্রত্যাবাসনের বিষয়টা ততটা সহজ নয়। কারণ যে লোকগুলোকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হলো,তারা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে আসল। তাদের ভূমি এবং নাগরিকের নিরাপত্তার সমস্যাটা রয়ে গেছে। সুতরাং তাদেরকে নেয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমার অনেক অত্যাচার করেছিল, তাই সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। দেড় লাখ রোহিঙ্গাকে শুধুমাত্র নানারকম চাপের মুখে পড়ে নিয়ে যাবে। এটা দীর্ঘায়িত হবে এবং জটিলতা সৃষ্টি হবে, এটাই বলাবাহুল্য। রেজিস্ট্রেশন ও নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে দীর্ঘ সময়ের একটা ব্যাপার আছে। সেখান থেকে আবারও তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হবে না এটার নিশ্চয়তাটা কে দিবে ?

রোজানা বলেন, প্রত্যাবাসনে নিশ্চয়ই অনেক সময় দরকার হবে। কিন্তু এখন তাড়াহুড়ো করে প্রত্যাবাসন করা যায়। বাংলাদেশ একটা উন্নয়নশীল দেশ। এত মানুষকে দেখভাল করে রাখা একটা চাপের বিষয়, যেমন তারা অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক চাপে আছে। এভাবে সমাজে হলে যেটা হবে তাদেরকে যখন ফেরত পাঠানো হবে, আবার দেখবেন চলে আসবে। এর কোন টেকসই সমাধান হবে না।

বাংলাদেশ সরকার বলছে, জাতিসংঘকে তারা সম্পৃক্ত করবে। জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করলে কি সমাধানে আসতে পারে ?

জবাবে রোজানা বলেন, জাতিসংঘকে অবশ্যই সম্পৃক্ত করা হবে। তাহলে যেটা দাঁড়াবে, নিরাপত্তা ছাড়া প্রত্যাবাসন হবে না। যদি জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করা হয় তাহলে এ প্রক্রিয়াটা আরো দীর্ঘায়িত হবে। কিন্তু এরপরেও ওদেরকে সম্পৃক্ত করা উচিত। তারা যেভাবে ডিল করবে অন্য কেউ করতে পারবে না। কতটা সময় তাদেরকে এখানে রাখবে, এ বিষয়টিও মিয়ানমারের কাছ থেকে বাংলাদেশের পরিস্কার করে নেওয়া উচিত। কোথায় রাখব ? রাখলে অতিরিক্ত অর্থ কোথায় থেকে আসবে ? কে শোধ করবে – এ বিষয়ে পরিষ্কার থাকা দরকার।

বাংলাদেশ সরকারের কী করা উচিত ?

এ প্রশ্নের জবাবে রৌজানা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থাকতে হবে ওই জায়গায়। মিয়ানমার সরকারের উচিত ওই লোকগুলোর রাজনৈতিক পরিচয়ও নিশ্চিত করা। আমাদের লোক নেওয়া যাওয়া ফেরত নেয়া, সেটা বলা কোন ব্যাপার নয়। তবে ফেরত নিয়ে কোথায় নিচ্ছে ? তারা কি আবারও অত্যাচারিত হয়ে ফেরত আসছে কিনা এ বিষয়গুলো বাংলাদেশের চিন্তা করতে হবে। না হলে এই সমস্যাটা ঘুরতে থাকবে। বাংলাদেশ চাইলে অন্যভাবে এটা ব্যবহার করতে পারে। তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ইস্যুটা সমাধান করার জন্য বাংলাদেশও খুব চাপে আছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিটির সাথে বৈঠক করে সমাধান করা দরকার। বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের ওপরেই শুধু চাপ আসে। তার চারপাশে কেউ নাই। সবাই এ বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছে। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত