প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দ্বীনি দাওয়াত দেওয়া প্রত্যেকের জন্য জরুরি

মুহাম্মাদ আবু তালহা তারীফ : দ্বীনি দাওয়াত তথা সৎ কাজের আদেশ এবং অষৎ কাজের নিষেধ করা প্রত্যেক মুসলমানেরই জরুরী কর্তব্য। বিশেষত তাদের প্রতি যারা নিজ নিয়ন্ত্রণে থাকে। পরিবারের কর্তার জন্য তার স্ত্রী ও সন্তানদেরকে দ্বীনের শিক্ষা দিয়ে শারিয়া মোতাবেক পরিচালনা করা। এভাবে প্রতিটি অঙ্গনে যিনি কর্তা থাকেন তার কর্তব্য তার অধীনস্তদের দ্বীনের শিক্ষা দিতে হবে।

কেননা রাসুল (সা: বলেন,“তোমরা প্রত্যেকেই যিম্মাদার এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্তদের ব্যাপারে জিজ্ঞাজিত করা হবে”।(বুখারী শরীফ)
ইমাম, খতিব মসজিদের খেদমতের মধ্যে নিজকে রেখে নিজকে বলে আমরাই কেবল দাওয়াতী কাজ করে থাকি। মাদ্রাসার পরিমন্ডলে যারা থাকেন তাদের মাদ্রাসার মধ্যেই দাওয়াতী কাজ সীমবদ্ধ মনে করা উচিত নয়। আর হজরত ইলিয়াস (রহ:) প্রতিষ্ঠিত তাবলীগ জামাতের কাজকেই দাওয়াতের চূড়ান্ত সীমা মনে করা উচিত নয়।
হাত দিয়ে লেখার মাধ্যমে লেখার কাজ করাকে লেখনির মাধ্যমে দ্বীন প্রচারের শেষ সীমা মনে করা উচিত নয়। আবার ওয়াজের মাধ্যমে দ্বীনের খেদমতকে ওয়াজিন মনে করে এমন ধারণা করা উচিত নয়, আমার ওয়াজে হাজার হাজার জনতা আলোচনা শুনে আর আমি বিভিন্ন এলাকায় ওয়াজের মাধ্যমেই দাওয়াত দিচ্ছি ওয়াজের মাধ্যমেই শুধু ইসলাম প্রচার করা হয়।

এরকম মন-মানসিকতা বেশী কাজ করায় নিজকে ইসলামি দাওয়াতের বড় সেবক মনে করে নিজে অন্যের দাওয়াতি কাজের সমলোচনা করি।
একে অপরকে বলার কোন প্রয়োজন নেই। মূলত যারা পীর সাহেব,যারা সংগঠন করে, মাদ্রাসায় পড়ে বা পড়ান, মসজিদের মুয়াজ্জিন ইমাম খতিব, ইসলামী চিন্তাবিদ, ওয়াজিন, যারা তাবিলিগ করে বা যারা লেখা লেখীর কাজ করে তারা সকলেই ইসলামের পথে মানুষদের সাথে ন¤্র ব্যবহার করে তাদের বুদ্ধি মত্তা দিয়ে ইসলামের দিকে আহবান করছে। আর নম্র ভাল ব্যবহার করেই ইসলামরে পথে আহবান করতে হবে। হজরত আনাস (রা:) হতে বর্নিত, রাসুল (সা:) বলেন,“তোমরা মানুষের সাথে ন¤্র ব্যবহার কর,রুঢ় আচরণ কর না, সুসংবাদ দাও, ভীত সন্ত্রাস্ত করারা”। (বুখারী ও মুসলিম)

দাওয়াতি কাজ শুধুমাত্র খানকা, মসজিদে,সংগঠনে, ওয়াজ মাহফিলে,লেখালেখির কাজে সীমাবদ্ধ রাখলে হবেনা। বর্তমানে ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, তথ্য প্রযুক্তির যুগে অন্য ধর্মালম্বীরা যেভাবে তাদের ধর্মীয় কাজ সারা বিশ্বে মুহুর্তে প্রচার করছে তাদের তুলনায় আমরা মোটেও পারছি না। মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রচারকার্য তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ, ব্যপক হারে প্রচার করার জন্য ইহুদিদের রয়েছে প্রায় সাড়ে আট লক্ষেরও বেশী ওয়েব সাইট, খ্রিষ্টানদের প্রতারনায় রয়েছে প্রায় পাচ লক্ষের বেশী, তাছরা অনান্য অমুসলিমদের রয়েছে প্রায় চার লক্ষের বেশী ওয়েব সাইট।

তারা তাদের ওয়েব সাইট,ফেসবুক,টুইটার,ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুসলমানদের নিকট তাদের দাওয়াতি কাজ করছে। তাই আমাদের দাওয়াত মুসলমানদের নিকট সিমাবদ্ধ না রেখে অমুসলিমদের নিকট গিয়ে আরো ব্যাপক হারে দাওয়াতি কাজ করতে হক্ষ। অমুসলিমদের নিকটে দ্বীনি দাওয়াতের কারনে অমুসলিম দেশে ক্রমেই মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতারং বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজ মাদ্রাসা,স্কুল বন্ধ থাকাবস্থায় কিছু বন্ধু মিলে একজন আলেমকে সাথে নিয়ে নিজ এলাকায় সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে সরকারী বেসরকারী উচ্চপদমর্যাদার কর্মকর্তা সহ এলাকার মেম্বার,চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী, সকলের নিকট দিয়ে দ্বীনি দাওয়াত প্রচার করলে আশা করা মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিবে।

যদি দাওয়াত প্রচারকারীদের তারা কোন রুপ অবহেলা করে কিংবা গালমন্দ করে মন খারাপ না করে নবী রাসুলদের কাজে এগিয়ে যেতে হবে। মুসলিম অমুসলিম ব্যক্তিকে দাওয়াত দিলে মানুক বা নাই মানুক ফায়দা হোক বা না হোক নিজের ফায়দা হবে। অন্যের ঈমান আমল দোরস্ত করার কাজে সহযোগিতা করলে আল্লাহ নিজের আমাল দোরস্ত করে দেন। রাসুল (ষা:) বলেন,“একজন বান্দা আরেক জন বান্দার সাহায্যে থাকলে আল্লাহ পাকও তার সাহায্যে থথাকবেন। অন্যের ঈমান অঅমলের কাজে সাহায্য করলে আল্লাহ পাক নিজের ঈমান আমলের ফয়সালা করে দিবেন”।(মুসলিম শরীফ)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত