প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রস্তুতির অভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত, কবে শুরু হবে জানে না কেউ

ডেস্ক রিপোর্ট : গত ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি দুই দেশের ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের সিদ্ধান্তে ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাবাসন আলোর মুখ দেখেনি। এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া ও সংশয় দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শেষ পর্যন্ত কবে নাগাদ শুরু হবে সেই বিষয়টিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পরিষ্কার করা যায়নি।

সোমবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন সরকারের রোহিঙ্গা ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (যুগ্ম সচিব) আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান। তিনি গতকাল ভোরের কাগজকে বলেন, অবশ্যই নিয়মনীতি অনুসরণ করে প্রত্যাবাসন শুরু হবে। হুড়োহুড়ি করে কিছু করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক আইনকানুন মেনে মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে প্রত্যাবাসন শিগগিরই শুরু হবে। দুই দেশের পক্ষ থেকে পুরোদমে কাজ চলছে। প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো সন্দেহ, সংশয় নেই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী রবিন বলেন, আমরা প্রত্যাবাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। উপরের নির্দেশনা পেলে সীমান্তের পয়েন্টসমূহ দিয়ে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো শুরু হবে। প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। একটু অপেক্ষা করুন প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ৫ মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ ২৩ জানুয়ারি। গত ২৪ আগস্ট সে দেশের নিরাপত্তারক্ষী ও সেনা চৌকিতে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলার জের ধরে ২৫ আগস্ট থেকে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক দমন-নিপীড়ন, ধরপাকড়, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়। ওই নির্যাতনের কবলে পড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গার ঢল পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশ অভিমুখে আসা শুরু করে। লোমহর্ষক এ নির্যাতনের চিত্র বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। দাবি ওঠে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার। এরপর সীমান্ত খুলে দেয়া হলে বানের পানির মতো রোহিঙ্গা ¯্রােত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আসতে থাকে। তাদের আশ্রয় দেয়া হয় কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাহাড়ি বনভূমিতে।

এরপর শুরু হয় স্থানীয় ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দানশীল বিত্তশালীদের পদচারণা। মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন খাবার ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ছুটে আসেন। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি সাহায্যে রোহিঙ্গারা চলে প্রায় ২ মাসের কাছাকাছি। ঢল আসে বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রীর। এখন উখিয়া-টেকনাফের ১৩টি আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তদারকিতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দেশি-বিদেশি ৯২টি এনজিওর ১৯০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

গত রবিবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় প্রত্যাবাসন চুক্তি নিয়ে ঢাকায় কর্মরত ৫২টি দেশের ক‚টনীতিকদের ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। ব্রিফিংয়ে তিনি জানান একটি নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ জন্য তাদের সঙ্গে চুক্তি করবে বাংলাদেশ। চুক্তির একটি খসড়া এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। খুব শিগগিরই চুক্তি স্বাক্ষর হবে।ভোরের কাগজ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত