প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তবুও তামিমের আক্ষেপ

স্পোর্টস রিপোর্ট : দেশের সব ফরমেটের ক্রিকেটে ১১ হাজার রান। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার সামনে সুযোগ ওয়ানডে ক্রিকেটে ৬ হাজার ছোঁয়ার। ৬৬ রান হলেই ছুঁয়ে ফেলবেন এ মাইলফলক। ত্রিদেশীয় সিরিজের ২ ম্যাচে আউট হয়েছেন দুটি ৮৪ রানের ইনিংস খেলে। ব্যাটসম্যান হিসেবে দেশের ক্রিকেটে ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। দিনে দিনে ব্যবধানটা আরো স্পষ্ট করে তুলছেন।

তবে এতো কীর্তির পরও আক্ষেপ লুকিয়ে রাখতে পারলেন না তিনি। ১৭৬ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ৪৯ ইনিংসে ৫০ এর উপর রান করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় মাত্র ৯টি ইনিংসে তিনি পার হতে পেরেছেন ১’শর মাইলফলক। শুধু তাই নয়, ৯৫ রানে আটকে গেছে তার আরো ৩টি ইনিংসও। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তার সেই আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘সত্যি আমার নিজের কাছেও খারাপ লাগে। আমার আরো অনেক সেঞ্চুরি করা উচিত ছিল। হ্যাঁ, সেঞ্চুরির সংখ্যা দুই অঙ্কে যত দ্রুত নেয়া যায় সেটা আমার লক্ষ্য থাকবে। ডাবল ফিগার দেখতেও ভালো লাগে, শুনতেও ভালো লাগে। কিন্তু দিনশেষে বলতে গেলে ১৭০টার বেশি ম্যাচ খেলে ফেলেছি এবং প্রায় ৪০টার মতো ফিফটি করেছি। ওইদিকে থেকে চিন্তা করলে এটা হতাশাজনক যে আমার আরো সেঞ্চুরি করা উচিত ছিল।’

শুধু ৬ হাজার রানই নয় আজ তামিম দাঁড়িয়ে আছেন ওয়ানডেতে এক মাঠে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডের সামনে। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার সনাৎ জয়সুরিয়া তার দেশ কলম্বোর প্রেমাদাসায় ২ হাজার ৫১৪ করেছেন। আর মিরপুর শেরে বাংলা মাঠে সেই রান ছাড়িয়ে যেতে টাইগারদের এ সেরা ওপেনারের ৪২ রান চাই। ৩ ফরমেটের ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের পর শুধু ওয়ানডেতে ৬ হাজার। কোনটিকে তিনি এগিয়ে রাখবেন? তামিম বলেন, ‘দুটোই মাইলফলক। কেউ দশ হাজার রান করলে এটা অবশ্যই মাইলফলক। জানি না, (আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে) কয়জন করেছে। সাকিবের ১০ হাজার রান হয়েছে, মুশফিক সব মিলিয়ে ৩০০ ম্যাচ খেলেছে। এটাও মনে হয় না যে, খুব বেশি মানুষ করেছে।’

এমন রেকর্ড তাকে কত দূর নিয়ে যাবে? তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দুই-তিন বছর হলো ভালো খেলতে শুরু করেছ। সত্যি কথা, কোনো রেকর্ডও একসময় হয়তো আমাদের ছিল না। কারণ, আমরা শিখছিলাম। আমরা খুব নতুন ছিলাম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। অর্জন করা শুরু করছি, এখন উদযাপন করা উচিত।’

এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারকে অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করেনি। তাহলে কি তামিম সেই অপূর্ণতা দূর করবেন? তিনি বলেন, ‘আইসিসি’র কথা বাদ দেই। অনেকেই বেস্ট ইলেভেন করে ওখানে কিন্তু আগে বাংলাদেশি প্লেয়ার দেখা যেত না। যেভাবে শেষ বছরটা গেল, এভাবে গেলে একটা সময় না একটা সময় গিয়ে আমরা অ্যাওয়ার্ড পাবো। তা পেতে হলে আরো খুব ভালো কিছু করতে হবে। যদি দেখেন যারা ব্যক্তিগত অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে তারা অনেক রান করেছে। বেস্ট টেস্ট টিমে ছিল, বেস্ট ওয়ানডে টিমে যারা ছিল সবাই তার যোগ্য। আমি বলছি না সাকিব-মুশফিক ডিজার্ভিং না, তারাও ডিজার্ভিং। বেশিদিন নেই বেস্ট টেস্ট টিমে দুইজন বাংলাদেশি বা তিনজন বাংলাদেশি থাকবে। আগামী বছরগুলো ভালো গেলে স্বীকৃতি চলে আসবে।’

দেশের ক্রিকেটে তামিমের রেকর্ড ভাঙা খুব কঠিন। তাকে দ্রুত কেউ ছুঁতে পারবেন এমন ক্রিকেটার বলতে গেলে সাকিব আল হাসান। তিন ফরমেটের ক্রিকেটে সাকিবের এখন ১০ হাজার রান। এখন সাকিবের সামনে সুযোগ এসেছে ব্যাট করে নিজের রানের অঙ্কটা আরো বাড়িয়ে নেয়ার। বন্ধু সাকিবের এ সুযোগকে তামিম দেখছেন ইতিবাচক ও দলের ভালোর দিক হিসেবে। তিনি বলেন, ‘ভালো হবে যদি সাকিবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা জমে। আমার কাছে মনে হয় দলের মধ্যে যদি স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা থাকে। এটা সব সময়ই ভালো। আমি যদি কাউকে হারাতে চাই, ইনফ্যাক্ট ও যদি আমাকে হারাতে চায়। তবে তা সব সময় ভালো। সাকিব তিনে ব্যাট করায় অনেক বেশি ওভার ব্যাট করতে পারবে। এজন্য আমাকেও মনে রাখতে হবে যে আমাকে পারফর্ম করতে হবে উপরে থাকতে হলে। কেবল সাকিব না, মুশফিকও আছে। সেও অনেক রান করে ফেলেছে। ২০১৭ সালে দারুণ বছর গেছে ওর। স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা থাকলে ব্যাটিং সাইড বলেন বা বোলিং। এটা দলের জন্য ভালো। রুবেল ১০০ উইকেট পেয়েছে, এখন ২০০ উইকেটের জন্য খেলবে। সাত বছরে ১০০ হয়েছে। এখন ওর টার্গেট থাকা উচিত তিন বছরে আরো ১০০ উইকেট নিতে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত