প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউন তৃতীয়দিনেও বহাল

কামরুল আহসান : ধারণা করা হয়েছিল সোমবার হয়তো সরকারি কার্যক্রম শুরু হবে, কিন্তু, রোববার ভোটাভুটি মুলতবি হওয়ায় এবং পরস্পরকে দোষাদোষী ও মতৈক্যের অভাবে তৃতীয় দিনেও বহাল থাকলো যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউন। গত শুক্রবার রাতে বাজেট সংক্রন্ত একটি বিল পাশ না হওয়ার কারণে এ শাটডাইন শুরু হয়। শাটডাউন মানে সরকারি কর্মচারীরা বিনাবেতনে ছুটিতে থাকবে, যদিও তাদের কর্মক্ষেত্র বন্ধ। এতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির উপর। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ২ বিলিয়ন ডলার। সেবাখাতগুলো ছাড়া সরকারি অফিসগুলো বন্ধ। প্রভাব পড়ছে পর্যটন খাতে। স্ট্যাচু অব লিবার্টি পরিদর্শনও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। তবে ন্যাশনাল পার্ক খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, যদিও সেখানেও তেমন পর্যটক নেই।
বিলটি ২০১৮ সালের সারা বছরের জন্য নয়, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত। বিলটি পাশ হওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ৬০ টি সিনেটর ভোট। কিন্তু, রিপাবলিকনদের সিনেটর ভোট পেয়েছে ৫১ টি। আরো ৯ টি ভোটের জন্য ডেমেক্রেটদের ভোট দরকার ছিল। কিন্তু, ডেমোক্রেট সিনেটররা অভিবাসীদের পক্ষে বাজেট নির্ধারণের নিমিত্তে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দরাদরি করায় বিলটি পাশ হতে পারেনি। ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের পক্ষে কোনোরকম সহযোগিতার হাত বাড়াতে রাজি নন। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্রে এই মুহূর্তে ৭ লাখ অভিবাসী আছে, যারা শিশুকালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল, কিন্তু, তাদের এখনো নথিভুক্ত কাগজপত্র নেই। ডেমেক্রেট সিনেটরা এদের জীবনের দায় এড়াতে পারেন না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমাদের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য আমাদের এ সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। ট্রাম্প টুইট মারফত জানিয়েছেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে রিপাবলিকানদের এই প্রচেষ্টা দেখে ভালো লাগছে। ডেমোক্রেটরা চাচ্ছে অবৈধ অভিবাসী দিয়ে আমাদের দেশ অনিরাদ হয়ে উঠুক।’।
রিপাবলিকরা এই বাজেটে সীমান্ত নিরাপত্তা বিলও বাড়াতে চাচ্ছে, এর মধ্যে ম্যাক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণও আছে, যার ব্যয় তারা নির্ধারণ করেছে ২০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু, ডেমোক্রেটরা ম্যাক্সিকো সীমান্তের দেয়াল নির্মাণের পুরো বিলটি বাতিল না করে দিলেও তা কমিয়ে ১.৬ বিলিয়ন ডলারে আনতে চাচ্ছে। ট্রাম্প আরেকটি টুইটে জানিয়েছেন, আমরা একটা ‘নিউক্লিয়ার অপশনের’ মধ্যে আছি। এ অচলাবস্থা কাটানোর জন্য আর অল্পকিছু ভোটেরই দরকার।
সোমবারও সরকারি কর্মচারীরা বাড়িতে বসেই দিন কাটাচ্ছে। সরকারি বাসভবন, আবহাওয়া অফিস, শিক্ষালয় এবং বাণিজ্যিক ভবনগুলো বন্ধ আছে। সরকারি কোষাগার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নিরাপত্তা বিভাগ এবং পরিবহন বিভাগেরও অর্ধেক লোক সোমবার কাজে যায়নি। রিপাবলিকানরা জানিয়েছে, এভাবে সরকারি অফিসারদের অনুপস্থিতে আলোচনাও অগ্রগতি সম্ভব নয়। ভিসা এবং পাসপোর্ট প্রসেসিংয়েও দেরি হচ্ছে। ২০১৩ সালে ১৬ দিনের শাটডাউনে অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল তার কথা স্মরণ করে দ্রুত এ অচলাবস্থা কাটানোর তৎপর হওয়ার কথা বলছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ এর মধ্যে স্টক মার্কেটেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে সুইটজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় এমন অচলাবস্থায় পড়ার কারণে তিনি সেখানে যেতে পারবেন কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত