প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়ায় বাংলাদেশ ২০২১ সালে উন্নত বিশ্বের সমকক্ষ হবে

মতিনুজ্জামান মিটু : আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে উন্নত বিশ্বের সমকক্ষ হবে। এমনই ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ লক্ষে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে ‘আবহাওয়া তথ্য সেবা ও আগাম সতর্কবাণী পদ্ধতি জোরদারকরণ প্রকল্প’। ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ৫২ কোটি ১৫ লাখ টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো যে পদ্ধতিতে আবহাওয়া পূর্বাভাস দেয় বাংলাদেশও সেই পদ্ধতিতে পূর্বাভাস দিতে পারবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত মোট ব্যয়ের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক ঋণ হিসেবে ৪৬২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার ৫৭ কোটি ২২ লাখ টাকার যোগান দিচ্ছে। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের জুলাই মাসে শুরুর কথা থাকলেও একনেকে পাশ হয় ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। প্রশাসনিক অনুমোদন পায় একই বছরের ২ এপ্রিল। বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ দেশ। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ দেশে প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরা, আকষ্মিক বন্যা, টর্নেডো ও কালবৈশাখীসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়। সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, মৌসুমী লঘুচাপ ইত্যাদি কারণে দেশের প্রায় ৭২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার কবলে পড়ে। এতে লাখ লাখ জনগণের জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পূর্বাভাস দেয়ার একমাত্র সরকারি সংস্থা। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরে বর্তমানে যে পূর্বাভাস পদ্ধতি আছে তা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আরো অধিকতর নিখুঁত, সময়পযোগি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের দক্ষতা বেড়ে সেবার মানও উন্নত হবে। প্রকৃতিক দুর্যোগে অধিকতর নির্ভূল ও আগাম পূর্বাভাস বা সতর্কবানি দেয়ার মাধ্যমে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি প্রশমনে নেয়া পদক্ষেপকে শক্তিশালী করবে। প্রকল্পের আওতায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, চলমান বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে নিরাপদ করা, অধিদপ্তরীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, অত্যাধুনিক ও স্পর্শকাতর আবহাওয়া যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও স্থাপন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সারা দেশে ২০০টি উপজেলায় স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশন (অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন) ৬৫টি স্বয়ংক্রিয় বৃষ্টিমাপক যন্ত্র এবং ৩৫টি সিনপটিক স্থাপনের মাধ্যমে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির মান উন্নয়ন ও বর্ধিতকরণ, দেশের সমুদ্র সীমায় ৩টি মোরেড বুই সিসটেম, ৩টি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এক্স/সি ব্যান্ড রার্ডার ও ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র ঢাকা’য় অত্যাধুনিক সুপার কম্পিউটার স্থাপন হবে। এছাড়া আবহাওয়া সদর দপ্তরসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে ৬(ছয়)টি জলবায়ু কেন্দ্র স্থাপন ও শক্তিশালীকরণ। দেশের সব আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারগুলোকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা ও আবহাওয়া সদর কার্যালয় ভবনের উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ হবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ