প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরো ২ সপ্তাহ পেছাতে পারে (ভিডিও)

জান্নাতুল ফেরদৌসী: আগামীকাল মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা সপ্তাহ দুয়েক পেছাতে পারে এমনই আভাস মিলেছে সরকারের তরফ থেকে। তবে এই প্রক্রিয়া যখনই শুরু হোক ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের রাজি না হওয়া আর রাখাইনে নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সে সঙ্গে জাতিসংঘ কিংবা প্রভাবশালী দেশগুলো বাংলাদেশের পাশে না থাকলে সমস্যা আরো স্থায়ী হবে বলে শঙ্কা তাদের। সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর টিভি

উখিয়া টেকনাফের বন পাহাড় প্রকৃতি আর স্থানীর জানে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে কি কি সইতে হচ্ছে। এই চাপ শুধু ঐ অঞ্চলেই না পড়ছে সারা বাংলাদেশের সমাজ আর অর্থনীতির ওপরও।

গত আগষ্টের মাঝামাঝিতে যারা জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে সব হারিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিলেন, তাদের এবার ফিরতে হবে। কোন প্রক্রিয়ায় কিভাবে কতজন রোহিঙ্গা রাখাইনে ফিরবে, তা চূড়ান্ত করে ফেলেছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার।

তবে এখনও নিশ্চিত করা যায়নি ফিরে যাবার পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব যদি স্বীকার করা না হয় তাহলে খুব সঙ্গত কারণেই মিয়ানমারে রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গারা এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। সুতরাং এই নিরাপত্তাহীনতা রোহিঙ্গাদের বাধ্য করবে বাংলাদেশে থেকে যেতে। ফলে, এই চুক্তি একসময় অকার্যকর হয়ে যাবে। একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা আদৌ এই স্মারকের ওপর নির্ভর করে থাকবো কি না। অথবা এর বাইরে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করবো কি না।

যে কোন প্রত্যাবাসনের বড় শর্ত হচ্ছে এটি হতে হবে স্বেচ্ছায়। কিন্তু এরইমধ্যে রোহিঙ্গাদের অনেকেই ফেরার ব্যাপারে তাদের আপত্তির কথা সাফ জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ (রিব) রিসার্চ ইনিসিয়েটিভস এর নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের যেখানে রাখবে কিভাবে রাখবে সেগুলোতে এক ধরনের মনিটরিং দরকার। সেই মনিটরিং কে করবে এখনো ঠিক হয়নি। এটা শরণার্থীরা ভালো করেই জানে। তারা বলছে, এই মনিটরিং আন্তর্জাতিক মনিটরিং না হলে তারা ফেরত যেতে রাজি না। মিয়ানমার নিজেদের অপরাধ ঢাকতেই এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ বা অন্য সংস্থাগুলোকে দূরে রাখতে চায়। পৃথিবীকে বলছে যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীরা ১০ জনকে মেরেছে। কিন্তু এটা ঠিক না, হাজার হাজার মানুষ মেরেছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করতে হবে।

জাতিসংঘ তো বটেই প্রভাবশালী দেশগুলো পাশে না থাকলে সমস্যা আরও স্থায়ী হয়ে বাংলাদেশের কাঁধে চেপে বসবে। চুক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন তিনশো করে সপ্তাহে ড়ে হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাবার কথা। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় ধরা হয়েছে দু বছর।

https://youtu.be/scFWxdEVuMY

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত