প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অসুস্থ্যদের সেবায় ইসলাম

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম: সুস্থতা যেমন আল্লাহর নেয়ামত তেমনই অসুস্থতা ও নেয়ামত। রোগ আল্লাহরই দান। সুস্থ রাখেন আল্লাহ আবর অসুস্থতা দেন তিনিই। চরম উন্নতির যুগেও মানুষ রোগ সম্পর্কে নেইা অদ্ভুত চিন্তা-ভাবনা করে থাকে। কেউ বলে রোগ একটি মুসিবত কেউ বলে রোগ গযব। আবার অনেকের মতে রোগ হ’ল জিন, ভূত প্রেতাত্মার আছর। রোগ মূলত আল্লাহ্র পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। আল্লাহ বলেন, অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, জান ও মালের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে’ (বাক্বারাহ ১৫৬)।

রোগ আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আসে। তাই এর নিন্দা করা উচিৎ নয়। রোগ আমাদের পরীক্ষা ও যাচাইয়ের জন্য অথবা উচ্চ মর্যাদাশীল করার জন্য। যেমন রাসূল (সা.)-এর হাদিস। শাদ্দাদ বিন আউস (রা.) একদা একজন রোগীকে দেখতে গিয়ে বলেন, কেমন আছেন? তিনি বলেন, আল্লাহ্র অনুগ্রহের সাথে প্রভাত করেছি। একথায় খুশী হয়ে শাদ্দাদ তাকে হাদিস শুনিয়ে বলেন, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘যখন আমি আমার কোন মুমিন বান্দাকে বিপদে ফেলে পরীক্ষা করি, তখন সে আমার প্রশংসা করে। অতঃপর সে তার বিছানা থেকে উঠে এমন পাপশূন্য অবস্থায় যেমনভাবে সে ভূমিষ্ট হয়েছিল’। রাসূল (সা.) স্বাস্থ্য-সুস্থতা এবং স্বাস্থ্যের হিফাযত ও সুরক্ষার মৌল বিধি-বিধান সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক ও উপকারী বস্তু এবং সে সকল বিষয়াবলীও চিহ্নিত করে দিয়েছেন, যা স্বাস্থ্য অটুট রাখার জন্য অত্যন্ত যরূরী। কেননা সুস্বাস্থ্য মুমিনের জন্য রহমত স্বরূপ। তাইতো রাসূল (সা.) বলেন, ‘একজন ভগ্ন স্বাস্থ্যবান মুমিন থেকে স্বাস্থ্যবান মুমিন আল্লাহ্র নিকট শ্রেষ্ঠ ও প্রিয়’। কোন ব্যক্তি অসুস্থ হ’লে, ইসলামের নির্দেশে সে ঔষধ ব্যবহার করবে। যেমন রাসূল (সা.) বলেন, ‘হে আল্লাহ্র বান্দারা তোমরা ঔষধ ব্যবহার কর। কেননা আল্লাহ তা’আলা এমন কোন রোগ দেননি, যার কোন আরোগ্যের ব্যবস্থা তিনি দেননি। তবে একটি রোগ ছাড়া। ছাহাবাগণ বললেন, সে রোগটি কি? তিনি বলেন বার্ধক্য’।

আল্লাহ বলেন ‘আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি, যা ঈমানদারদের জন্য শেফা (রোগ মুক্তি) ও রহমত স্বরূপ’ (বণী ইসরাঈল ৮২)। পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত ঔষধের মধ্যে মধু। আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে মানব জাতির জন্য এক মহা নে’মত। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘এতে (মধুতে) মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার’ (নাহল-৬৯)। মায়ের দুধ। মায়ের দুধ বাচ্চাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে বড় নে‘মত । মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু’বছর দুগ্ধ পান করাতে পারেন’ (বাক্বারাহ-২৩৩)। গরুর দুধ। আল্লাহ্ পাক বলেন, ‘গবাদী পশুর মধ্যে তোমাদের শিক্ষণীয় বিষয় আছে । গাভীর স্তনের মধ্যে যে দুগ্ধ আছে আল্লাহ্ পাক তোমাদের তা পান করতে দিয়েছেন । মলমূত্র ও রক্তের মাঝ থেকে প্রাপ্ত বিশুদ্ধ দুগ্ধ পানকারীদের কাছে অতিশয় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর’ (নাহল ৬৬) । বর্ণিত আয়াতে গবাদি পশুর দুধের উপকারিতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কালিজিরা। হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘কালিজিরার মধ্যে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর সকল রোগের চিকিৎসা নিহিত আছে’। এভাবে আল্লাহ মানুষের উপকারের কথা বলেছেন। লেখক: কবি ও সাংবাদিক

সর্বাধিক পঠিত