প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা ফেরতে জাতিসংঘকে কেন সম্পৃক্ত করতে চায় না মিয়ানমার

ফারমিনা তাসলিম : রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে সম্পৃক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে মিয়ানমার বরাবরের মতই বাংলাদেশের এ আহবানে সাড়া দেয়নি। কারণ রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো জবাবদিহিতা করতে চায় না। তাই আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বিবিসি বাংলাকে বলছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইউএনএইচসিআরকে সম্পৃক্ত করা হলেও, তারা মাঝপর্যায়ে এসে গুরুত্বপূর্ণ কোন ভূমিকা রাখতে পারবে না।

বাংলাদেশের দিক থেকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে মিয়ানমার এর আগেও রাজি ছিল না। সেখানে এধরনের উদ্যোগ কী ভূমিকা রাখতে পারে?

এ প্রশ্নের জবাবে আসিফ মুনীর বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে শরণার্থী। তারা এখানে আশ্রয়প্রার্থী। তাদের নিজ দেশে জীবন বিপন্ন। কিন্তু কখনোই তাদেরকে মিয়ানমারে পুরোপুরিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এ কারণে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাটি অনেক আগে থেকেই জড়িত থাকতে চেয়েছে। ৯০-এর দশকের প্রত্যাবাসনে এ সংস্থাটি জড়িত ছিল। তাদেরকে আগে থেকে যুক্ত করা গেলে ভালো হত। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মিয়ানমারকে আহ্বান করা হয়েছিল, তারা চাইলে এ সংস্থা যুক্ত হতে পারবে।

মিয়ানমার না চাইলে কি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআর ভূমিকা রাখতে পারবে ?

জবাবে আসিফ মুনীর বলেন, একটা ভূমিকা রাখতে পারবে। বাংলাদেশে তালিকা তৈরি এবং বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের সময় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা যুক্ত থাকলে, এটি যুক্তিসঙ্গত এবং বিশ্বাসযোগ্য একটি তালিকা হত। ইউএনএইচসিআর যদি যুক্ত হয় তাহলে তারা তালিকা মিলিয়ে দেখতে পারে। যদিও তাদের সীমিত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এতে তাদের কর্মকর্তারাও যুক্ত আছে। বড় সুযোগ আছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের এখানের আর ওইখানের কর্মকর্তা যারা আছেন, তারা ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমারে তারা ভূমিকা রাখতে না পারলেও, আমাদের এ আয়োজনের ভূমিকা থাকবে।

ইউএনএইচসিআর অংশগ্রহণ করলে এতে কোন হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা কি আছে ?

জবাবে আসিফ মুনীর বলেন,মিয়ানমার যদি তাদের জড়িত না করে তাহলে একটা জায়গা ফাঁকা থেকে যায়। দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কারণ মিয়ানমার একদিকে এ প্রক্রিয়ার সাথে নিজেরাই জড়িত। তাদের নির্যাতনের ফলে রোহিঙ্গারা নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। তারা কী কারণে এসেছে এ বিষয়ে বাংলাদেশের খুব একটা ধারণা নেই। সরকারের ধারণা থাকলেও সেটা এদের বাইরে যারা আছে তারা জানতে পারেনি। ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিস্থিতিতে তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে।

নতুন সমঝোতাতে ইউএনএইচসিআর বাড়তি কি ভূমিকা রাখতে পারবে ?

জবাবে আসিফ মুনীর বলেন, নতুন সমঝোতার ক্ষেত্রে তারা বাড়তি কিছু করতে পারবে না। কারণ তারা মাঝ পর্যায়ে যুক্ত হবে। মিয়ানমারকে জাতিসংঘে ঠিকমতো কাজ করতে দেয়া হয়নি। তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা ওইখান থেকে বিদ্রোহ করেছে। মিয়ানমারের দিক থেকে সরকার নয় বরং জনগণের কাছে কিন্তু ইউনিসেফের গ্রহণযোগ্যতা খুব একটা নেই। আমাদের সরকার বলতে পারবে যথাযোগ্য চেষ্টা করেছি প্রশ্নমুক্ত রাখতে। তবে সেটা হয়তো বিলম্বিত হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত