প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভালো হওয়ার সুযোগ পাবে ‘বিপথগামীরা’

ডেস্ক রিপোর্ট : জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে এক তরুণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে বাসা থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। সেখানে পলাতক জঙ্গিদের অর্থ সরবরাহসহ নতুন ছক করে আবারও দেশে ফেরত এসে উগ্রপন্থা তৎপরতা চালানোর ছক কষেছিল ওই তরুণ। এরপর ওই তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার ব্যবহূত কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করা হয়। এতে বেরিয়ে আসে উগ্রবাদে জড়ানোর চেষ্টা করছেন তার আপন বোনও।

তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। ওই ছাত্রী অনলাইনে জঙ্গিদের কিছু সাইটে নিয়মিত ভিজিট করেন, সেখানে তিনি নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ ওই মেডিকেল ছাত্রীকে গ্রেফতার না করে তার মা-বাবাকে ডেকে আনে। তাদের কাছে মেয়ের জঙ্গিবাদে জড়ানোর তথ্যসূত্রগুলো তুলে ধরে। এর পর ডেকে আনা হয় ওই ছাত্রীকেও। সুপথে আসতে তার উদ্দেশে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্দীপনামূলক বক্তব্য দেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ওই ছাত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, ভুল বুঝতে পেরেছেন তিনি। আর কখনও কালো তালিকাভুক্ত জঙ্গি সাইটে ভিজিট করবেন না। সন্দেহভাজন জঙ্গিদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ রাখবেন না।

শুধু এই মেডিকেল শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে নয়, সম্প্রতি পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এ ধরনের বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণী ও তাদের অভিভাবককে ডেকে সন্তানদের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। যাদের মধ্যে জঙ্গিবাদে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে, তাদের সরাসরি গ্রেফতার না করে সুপথে ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে উদ্দীপনামূলক বক্তব্য রাখা হচ্ছে। তবে গ্রেফতার না করলেও তাদের রাখা হবে নজরদারিতে।

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ মনে করছে, শুধু গ্রেফতার আর জেলে পুড়ে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করা যাবে না। জঙ্গিরা একটা ভুল আদর্শে চালিত। তাদের বোঝাতে হবে, সেটা সঠিক পথ নয়। তারা যদি বুঝতে পারেন অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরবেন, তাহলে সেই সুযোগ তাদের দেওয়া হবে। তবে যারা ভয়ঙ্কর কিছু করতে বদ্ধপরিকর, তাদের বেলায় কোনো শৈথিল্য দেখানো হবে না।

গত শনিবার সিটিটিসির কার্যালয়ে ‘মৌলবাদ-উগ্রবাদ প্রতিরোধ :পরিবার ও সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে জঙ্গিবাদের পথ থেকে ফেরত আসা একজন তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অনেক সময় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পাল্টাপাল্টিভাবে জঙ্গি গ্রেফতার করার প্রবণতা দেখা যায়। এটা করতে গিয়ে অনেকের ক্ষেত্রে সুবিচার পাওয়ার সুযোগ নষ্ট হতে পারে। এরপর সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন জঙ্গিদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সাবধানী পুলিশ। ছোটখাটো সংশ্নিষ্টতা থাকলেও সরাসরি গ্রেফতার করা হয় না। সংশ্নিষ্ট ব্যক্তির পরিবারকে ডেকে কথা বলা হয়। ওই তরুণদের উদ্দেশে উদ্দীপনামূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তাই কয়েক মাসে পুলিশের এ সংশ্নিষ্ট গ্রেফতারের সংখ্যাও কমেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদ-সংক্রান্ত কিছু পোস্ট করলেই কাউকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। পুলিশ চাইছে, জঙ্গিরা তাদের ভুল বুঝতে পারুক। এ ছাড়া এরই মধ্যে যেসব পরিবারের সদস্যরা দুর্ধর্ষ জঙ্গি হয়েছেন, তাদের প্রতিপক্ষ ভাবছে না পুলিশ। তারা মনে করছে, এসব পরিবার একটি কঠিন বিপদের মধ্যে পড়েছে। তারা যেন সেই বিপদ কাটাতে পারেন। শুধু তাই নয়, জঙ্গিদের স্ত্রীরা কেন কী কারণে কোনো পরিস্থিতিতে উগ্রবাদী দলে ভিড়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হচ্ছে। যদি দেখা যায়, স্বামীর চাপ বা ভয়ভীতির কারণে কোনো নারী জঙ্গি দলে ভিড়তে বাধ্য হয়েছেন, তাহলে মামলার চার্জশিট দেওয়ার সময় তার ‘দায়-দায়িত্ব’ সেভাবে তুলে ধরা হবে। যাতে ওই নারী পরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসতে পারেন। মূলত জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলেই তাকে গ্রেফতার করে জেলে রাখতে হবে- এটা মনে করছে না পুলিশ।

পুলিশ বলছে, জঙ্গিবাদ দমনে কাউন্টার রেডিকালাইজড কর্মসূচি হাতে নেওয়া জরুরি। জঙ্গিবাদে জড়ালে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, তা সবাইকে বোঝানো উচিত।

সন্তান জঙ্গি দলে জড়িত হয়ে অভিযানে নিহত হয়েছে- এমন একাধিক অভিভাবক মনে করছেন, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একটি টিম করা যেতে পারে, যারা নিয়মিত এর উগ্রবাদের দিকগুলো নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করবে। কারণ, সন্তানরা পরিবারের বাইরে সবচেয়ে বেশি সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকে। যারা জঙ্গিবাদের পথ থেকে ফেরত এসেছেন, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কার্যক্রমগুলো আরও দৃশ্যমান করতে হবে। যাতে এখনও অন্যরা যারা উগ্রবাদে জড়িয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন, তারা সুপথে ফেরার প্রেরণা পান।

জঙ্গি সংগঠন থেকে ফেরার পর এখন একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- এমন এক ব্যক্তি জানান, সরকার পাঠ্যপুস্তকে জঙ্গিবাদের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সচেতনতামূলক নিবন্ধ যুক্ত করেছে। তবে পাঠ্যসূচিতে এটা যুক্ত করাই শেষ কথা নয়। মূল কথা হচ্ছে, যারা এটা পড়াচ্ছেন, তারা কতটা মন দিয়ে তা করছেন। সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত