প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অভিযোগের অন্ত নেই গ্রামীনফোনের বিরুদ্ধে

ডেস্ক রিপোর্ট : পিরোজপুরের প্রাবীণ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা গৌতম চৌধুরী। তিনি পিরোজপুরে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতিও। সেই জন্মলগ্ন থেকে তিনি ০১৭১২——৯৪ এই নম্বরটি নিয়মিত ব্যবহার করছেন। গত ৭ জানুয়ারি হঠাত্ করেই তার নম্বরটি আর কাজ করছে না। তিনি কাস্টমার সেন্টারে গেলে সিমটি পরিবর্তনের কথা বলে। তাদের পরামর্শে সিমটিও পরিবর্তন করেন। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। তিনি একাধিকবার কল সেন্টারসহ বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করেও নম্বরটি সচল হয়নি। কেন তার নম্বর বন্ধ করা হল, কেনই বা চালু করা হচ্ছে না? এর কিছুই তিনি জানেন না। নম্বর বন্ধ থাকায় পেশাগতসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ছেন তিনি।

শুধু এই অভিযোগ নয়, এমন অজস্র অভিযোগ গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে। খোদ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনেই (বিটিআরসি) যে অভিযোগ জমা পড়ে তার অধিকাংশই গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ বিটিআরসি একটা হিসাব প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিটিআরসির কাছে অভিযোগ পড়েছে ৩ হাজার ৫২২টি। এর মধ্যে শুধু গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ১ হাজার ৯৭৩টি। আর অন্য সবগুলো অপারেটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে এক হাজার ৫৪৫টি।

বিটিআরসি থেকে প্রাপ্ত হিসেবে দেখা যায়, গ্রামীণফোন ছাড়া বাংলালিংকের বিরুদ্ধে ৬১২টি, রবির বিরুদ্ধে ৬০৪টি, এয়ারটেলের বিরুদ্ধে ২২১টি, টেলিটকের বিরুদ্ধে ১০৪টি ও সিটিসেলের বিরুদ্ধে ৮টি। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিটিআরসি থেকে গ্রামীণফোনের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা কোন সুরাহা করে না, এমনকি বিটিআরসিকেও কিছু জানায় না। গ্রাহকদের এই অভিযোগ দিনের পর দিন এভাবেই পড়ে থাকে বলে জানা গেছে।

একটি বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা তার মোবাইল ফোনে ব্যবহার করেন গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট। এক মাস মেয়াদী এক জিবির একটি প্যাকেজ তিনি ব্যবহার করেন। প্যাকেজটি মোবাইল ফোনে চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দেখেন তার ২০০ মেগাবাইট ব্যবহার করা হয়ে গেছে। এই ২০০ মেগাবাইট কিভাবে খরচ হল তিনি কিছুই বুঝতে পারলেন না। বিষয়টি ওই কর্মকর্তা মেইল করে বিটিআরসির কাছে অভিযোগও করেছেন। কিন্তু কোন প্রতিকার পাননি। শুধু যে একদিন এমন ঘটেছে এমনটি নয়। প্রতিনিয়তই ঘটছে এমন ঘটনা।

একটি ফোন কল করার পর ব্যালান্স অস্বাভাবিকভাবে কমে যাচ্ছে। দু’এক টাকা হরহামেশাই ব্যালান্স থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের অভিযোগ গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি। গ্রাহকরা বলছেন, মোবাইল ফোন থেকে টাকা লুট করে নিচ্ছে গ্রামীণফোন। শুধু কি তাই, কল ড্রপ, ইন্টারনেটের গতি ঘোষণা অনুযায়ি না পাওয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ গ্রাহকের। কিন্তু কোন প্রতিকার নেই। এর বাইরে এসএমসের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ। প্রতিদিন ৮/১০টি করে এসএমএস আসে। এছাড়া বিরক্তিকর কল তো আছেই। সেখানে শোনাচ্ছে গান।

তবে বিটিআরসি বলছে, সেবা নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ও তার সমাধানের ব্যাপারে তারা আন্তরিক। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কে গ্রাহকের অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। মোট তিন ধাপে গ্রাহকের অভিযোগ নেয়া হচ্ছে। ধাপগুলো হচ্ছে ডাক, ই-মেইল ও ফোন; ওয়েবসাইট এবং শর্ট কোড। গ্রাহক যাতে সহজে অভিযোগ পাঠাতে পারেন সে জন্য অভিযোগ নেয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারো অভিযোগই ছোট করে দেখে না বিটিআরসি।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য—

গত ২১ জানুয়ারী দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘গ্রামীণফোনের অনিয়ন্ত্রিত টাওয়ারে ক্যান্সারের ঝুকি’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, বারডেম হাসপাতালের ছাদে শুধু গ্রামীণফোনের বিটিএস আছে, এমন নয়, অন্যদেরও বিটিএস আছে। বারডেমের চিকিত্সকরা বিকিরণের প্রকৃত ক্ষতি সম্পর্কে ভালো জেনেই বিটিএস বসাতে দিয়েছেন। মোবাইল ফোনের বিটিএস এর বিকিরণে ক্যান্সার বা অন্য কোন রোগ হয় কোন গবেষণা এমনটি সরাসরি প্রমাণ করতে পারেনি। গ্রামীণফোন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রোটেকশন এর গাইডলাইন অনুসারে বিটিএস স্থাপন করে এবং তাদের নির্ধারিত মাত্রার নিচে বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশে গ্রামীণফোনই প্রথম মোবাইল অপারেটর যে বিকিরণ গাইডলাইন ও বিকিরণ জরিপ চালু করে। নিয়মিত সম্পাদিত এসব জরিপের প্রতিবেদন বিটিআরসিকে দেয়া হয়।

প্রতিবেদকের বক্তব্য : গ্রামীণফোন নিজেরাই স্বীকার করেছে বিটিএসের বিকিরণের কারণে কোন কোন রোগ হয় সেটা এখনো প্রামানিত হয়নি। তবে রোগ যে হয়, সেটা তারা স্বীকার করেই নিয়েছে। আর ক্যান্সারের ঝুঁকির কথা প্রতিবেদক নিজে বলেননি। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকই এ কথা বলেছেন। ওই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক গবেষণা প্রবন্ধের কথাও উল্লেখ করেছেন যা প্রতিবেদনে আছে। এই ধরনের গবেষণা প্রবন্ধ যদি গ্রামীণফোনের কাছে না থাকে তাহলে সেটা তাদেরই ব্যর্থতা। এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে। সেটাও প্রতিবেদনে আছে। অথচ বিষয়টি গ্রামীণফোন বেমালুম চেপে গেছে। প্রতিবাদে তারা এর উল্লেখ পর্যন্ত করেনি। ইত্তেফাক থেকে নেয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত