প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুঁজিবাজারে লেনদেন খরা

ডেস্ক রিপোর্ট : শেয়ারবাজারে মন্দার কারণে ব্রোকারেজ হাউসগুলোয় লেনদেন কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে তাদের আয়ও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। পাশাপাশি হাউসের ডিলার হিসাব থেকে যে আয় হতো, তাও বন্ধ হয়ে গেছে। বেশির ভাগ ডিলার হিসাবেই বর্তমানে কোনো শেয়ার নেই। এ ছাড়া মার্জিন ঋণ থেকেও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আয় সংকুচিত হয়েছে। সাধারণত ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্রোকারেজ হাউসগুলো মার্জিন ঋণ দিয়ে থাকে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপ থাকায় বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করে মার্জিন সমন্বয় করতে পারছে না ব্রোকারেজ হাউসগুলো। এজন্য ব্যয় কমাতে অনেকেই শাখা বন্ধ এবং কর্মী ছাঁটাই করেছেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, শেয়ারবাজার পতনের প্রভাব ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পড়েছে। টানা দরপতনে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগে লোকসান হওয়ায় এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিপুল পরিমাণ সঞ্চিতি রাখতে হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও কমছে ব্যাংকগুলোর।

এক ব্রোকারেজ হাউসের মালিক বলেন, ২০১১ সালে তার ব্রোকারেজ হাউসের রিজার্ভে ছিল ১৪ কোটি টাকা। শাখা ছিল ৮টি। প্রধান কার্যালয় ছিল ৫ হাজার স্কয়ার ফুটের। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে পুঁজিবাজারে শুরু হয় ধস। দীর্ঘ ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও ধসের রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশের শেয়ারবাজার। ২০১২ সাল থেকে তিনি ওই ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা ব্যয় মিটান রিজার্ভ থেকে; চলে ২০১৪ সাল পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে ব্রোকারেজ হাউসের মালিক শাখা বন্ধ করে শুধু প্রধান কার্যালয় চালু রাখেন। এরপরও ব্যয় মেটাতে পারছিলেন না। এ জন্য তিনি প্রধান কার্যালয় ১ হাজার স্কয়ার ফুটে নামিয়ে আনেন। এর মধ্যে ছাঁটাই হন অর্ধেকের বেশি কর্মী। তিনি আরও বলেন, লেনদেন যে পর্যায়ে নেমেছে, তাতে হাউস বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। তিনি বলেন, লেনদেন বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে ডে-ট্রেডিং চালু করা যায় কিনা তাও ভেবে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

ডিএসই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০০৯-১০ সালে বাজার যখন চাঙ্গা ছিল, তখন ডিএসইর সদস্যভুক্ত একেকটি ব্রোকারেজ হাউসের দাম শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। ওই সময় ব্রোকারেজ হাউসের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল প্রায় ১০৭ কোটি টাকা। তখন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্প গ্রুপ ব্রোকারেজ হাউস কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে; কিন্তু মন্দা বাজারে এখন আগ্রহ নেই ব্রোকারেজ হাউসের প্রতি। সম্প্রতি একটি ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি টাকায়।

জানা গেছে, ঢাকার শেয়ারবাজারে এক সময়ে গড় লেনদেন ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। সেই লেনদেন এখন ৩০০ কোটিতে নেমেছে। ফলে শুধু ব্রোকারেজ হাউসই নয়, খোদ স্টক এক্সচেঞ্জকেও রিজার্ভ থেকে ডিভিডেন্ড দিতে হচ্ছে। স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র জানিয়েছে, ডিএসইর গড় লেনদেন হাজার কোটি টাকা হলে তা স্বাভাবিক।

জানা গেছে, ২০১০ সালের পর থেকেই মন্দা চলছে দেশের শেয়ারবাজারে। এর প্রভাব পড়েছে ভোক্তা আস্থায়। সব ধরনের ব্যয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছেন ভোক্তারা। শেয়ারবাজারের এ মন্দা ছড়িয়ে পড়ছে অর্থনীতির অন্যান্য শাখায়ও। ২০১০ সালের পর থেকে মন্দার মধ্যে রয়েছে আবাসন খাত। শেয়ারবাজার ধসের প্রভাব পড়েছে ব্যাংকিং খাতেও। শেয়ারবাজার ঘুরে না দাঁড়ানোয় আবাসন খাতও মন্দার কবলে।
যোগাযোগ করা হলে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, দেশে আনুষ্ঠানিক শিল্পায়ন হচ্ছে না। বেসরকারি বিনিয়োগ ২২-২৩ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে দেশি-বিদেশি কোম্পানির তেমন আগ্রহ নেই। নতুন নতুন শেয়ারের সরবরাহ না বাড়লে শেয়ারব্যবসা বাড়বে না। তিনি বলেন, ২০১০ সালের পর সংস্কার হয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে যে ধরনের রিফর্মস দরকার তা হয়নি। করপোরেট পর্যায়ে বেশ সংস্কার হয়েছে। এজন্য পুঁজিবাজারে গতি ফিরছে না।

ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী বলেন, মুদ্রাবাজারে তারল্য সংকট রয়েছে। এর প্রভাব পুঁজিবাজারে রয়েছে। ফলে লেনদেন কমেছে।দৈনিক আমাদের সময় থেকে নেওয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত