প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উত্তপ্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট : দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গারা দ্বিধাদ্ব›েদ্ব ভুগছে। স্বদেশে ফেরা নিয়ে তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুকে পুঁজি করে ফায়দা লোটা বিদেশি এনজিওগুলোর কর্তাব্যক্তিদের ভূমিকাও রহস্যজনক। প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বিঘ্ন করতে পর্দার আড়ালে থেকে তারা কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রত্যাবাসনে সমস্যা হবে না। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিগগিরই প্রত্যাবাসন শুরু হবে।

গত ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দুই দেশের (বাংলাদেশ-মিয়ানমার) রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সমঝোতা বৈঠকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর নড়েচড়ে বসে দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে ২৩ জানুয়ারি প্রথম পর্যায়ে হিন্দু পরিবারসহ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়।

রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক হলেও বিভ্রান্তিমূলক ধারণা মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে তথাকথিত এনজিওগুলো। নিরক্ষর রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর মনোভাব পাল্টে যাচ্ছে এ ধরনের উল্টাপাল্টা কথাবার্তায়। এখন ক্যাম্পে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে নামতে শুরু করেছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর রোহিঙ্গাদের ৫ দফা দাবি সংবলিত ব্যানার, প্লে-কার্ড, ফেস্টুন নিয়ে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বিদেশি এনজিও অফিসের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

সচেতন মহল মনে করে, অতীতে প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গারা বেঁকে বসলেও কাজ হয়নি। তবে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিল প্রশাসনকে। এভাবে রোহিঙ্গাদের পেছনে উসকানি অব্যাহত থাকলে বিশাল এ রোহিঙ্গাগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে ধারণা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে – রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ঘিরে এনজিও সংস্থাগুলোর অপতৎপরতা ও উসকানিমূলক ইন্ধনের তথ্যবহুল সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দেখভাল ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলে লোভনীয় বেতনের চাকরি রক্ষার জন্য এনজিওর কর্তাব্যক্তিরা রোহিঙ্গা সমস্যাকে যুগ যুগ ধরে জিইয়ে রাখতে চায়। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গেলে বিদেশি এনজিওতে কর্মরত বাংলাদেশি দুষ্ট প্রকৃতির কর্মকর্তাদের কী হবে এ নিয়ে চিন্তিত তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনার (যুগ্ম সচিব) আবুল কালাম মো. লুৎফুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে সব ধরনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই প্রত্যাবাসন চুক্তি মতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। এতে কোনো মহল বিশেষের অপতৎপরতা কাজে আসবে না। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী রবিন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা এখনও হাতে আসেনি। তবে কোন কোন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে তার কাজ চলছে। গত শুক্রবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রত্যাবাসনবিরোধী ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদের খবর পেলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ক্যাম্প এলাকায় গিয়ে তদন্ত করে দেখেন এবং প্রশাসন যাওয়ার আগেই তারা সরে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। যেসব এনজিও রোহিঙ্গাদের ভুল ধারণা দিয়ে উস্কে দিচ্ছে সেগুলোর তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।ভোরের কাগজ থেকে নেয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত