প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চলছে দখলের মচ্ছব

ডেস্ক রিপোর্ট : মগবাজার, মধ্য পেয়ারাবাগ, রেললাইন, উত্তর নয়াটোলা, আমবাগান, পাগলা মাজারÑ কোথাও কোনো জায়গা ফাঁকা নেই। সরকারি জায়গাসহ প্রধান সড়ক, ফুটপাত থেকে রেললাইন- সবখানেই অস্থায়ীভাবে দখল করে ছত্রাকের মতো গড়ে উঠেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। অবৈধ দোকানপাট, ভাসমান বাজার, বস্তি বাণিজ্য, গ্যারেজ, রিকশা-ভ্যান-লেগুনা স্ট্যান্ডসহ জমজমাট অনেক ব্যবসা। প্রতাপশালীদের এমন অবৈধ কর্মকা-ে ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

রমনা থানাধীন এই ওয়ার্ডে রয়েছে বড় মগবাজার, বাংলামোটরের একাংশ, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন রোড, বিয়ামের গলি, পশ্চিম মালিবাগ, মধ্য পেয়ারাবাগ, গ্রিনওয়ে, আমবাগান, পাগলা মাজার, ওয়্যারলেস রেলগেট, উত্তর নয়াটোলা প্রথম ভাগ, চেয়ারম্যান গলিসহ আরও কিছু স্বনামধন্য গলি। ওয়ার্ডে বহিরাগতদের বসবাস অনেক হওয়ায় মোট জনসংখ্যা ৪ লাখেরও বেশি। অথচ ভোটারসংখ্যা মাত্র ৬৫ হাজার। বাংলামোটর থেকে চেয়ারম্যান গলি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকায় ওয়ার্ডের কোনো জায়গা রক্ষা পায়নি অবৈধ বাণিজ্যের হাত থেকে। সরকারি জায়গায় দিনে দুপুরে গড়ে উঠেছে বস্তি। বাদ নেই রেললাইনও। হকারসহ টং দোকানপাটের দখল সবখানেই। আর বউবাজারের দখলে অলিগলিসহ বড় রাস্তা।

এলাকায় তিনটি বস্তির সবকটিই পরিণত হয়েছে বিষফোঁড়ায়। রেললাইনের গা-ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে এলাকার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বস্তিটি। ‘রেললাইন বস্তি’ নামেই পরিচিত এটি। সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা এ বস্তির কোনো বৈধতা না থাকলেও নিয়মিত তোলা হয় ভাড়া। জায়গাভেদে ভাড়ার পরিমাণ কম-বেশি হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, ওয়্যারলেস রেলগেট থেকে শুরু করে রেললাইন বরাবর প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা এই বস্তি। বিশাল এই বস্তির একটি পাশ রয়েছে রেললাইন থেকে ইঞ্চিখানেক দূরে। ফলে ট্রেন এলেই শুরু হয় দৌড়াদৌড়ি, হুড়াহুড়ি আর ছোটাছুটি। বসতির একেবারে কোলঘেঁষে চলছে ট্রেন। বস্তির বাসিন্দা ইশতিয়াখ বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়া বস্তির এইপাশে থাকি আমরা। দিন রাত ট্রেন আইলেই জিনিসপত্তর আর জীবন নিয়া সইরা যাইতে হয়। প্রায়ই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এইখানে।’

ওয়ার্ডের আরেক বস্তির নাম ‘চল্লিশ ঘর বস্তি’। ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় গড়ে তোলা এই বস্তির নাম চল্লিশ ঘর বস্তি হলেও চারশত ঘর হয়েছে সেখানে। বাড়ছে বস্তির পরিধি। বাড়ছে ভাড়াবাণিজ্যও। আর বস্তি ঘিরে নষ্ট হচ্ছে এলাকার সুস্থ পরিবেশ। মাদকের প্রকোপও অনেক। পেয়ারাবাগ মসজিদের পাশে আরেক বস্তির নাম ‘বার নম্বর বস্তি’। রেলওয়ের জায়গায় বহুদিন ধরে রয়েছে এই বস্তি। মাদকের বিকিকিনি থেমে নেই সেখানেও।

ওয়ার্ডের রেললাইন অঞ্চলজুড়ে চলছে অবৈধ দোকানপাট ব্যবসা। শুধু ট্রেন চলাচলের নামমাত্র জায়গা ছেড়ে সবটুকুই দখল করে রেখেছে ফার্নিচার দোকান, কাঠের দোকান, গ্রিলের ওয়ার্কশপ, মোটরবাইক গ্যারেজ, রিকশা-ভ্যান গ্যারেজ ও চায়ের দোকানের মতো বিভিন্ন বাণিজ্য। দিনভর থাকে বহিরাগতদের আনাগোনা। এখানেও একদল চাঁদাবাজ তোলে ভাড়া।

রেললাইন বস্তির বাসিন্দা আনিস বলেন, রেললাইনের আশপাশে কিছু লোক আছে, যারা নেশা বেচে। কয়েক দিন আগে এখানে ‘কেরামঘর’ ছিল। সেখানেই নেশা দেওয়া-নেওয়া চলত। পুলিশ কেরামঘর ভাইঙ্গা দিছে। কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে আড্ডা বসে।

ওয়ার্ডের অন্যত্র রয়েছে মাদকের উৎপাত। বাংলামোটর পাম্পের গলিতে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় চলছে ভাসমান মাদকের ব্যবসা। আমবাগান ও দিলু রোডেও সরব আছে মাদক। ইয়াবা বেশ জমজমাট এখানে। বাদ নেই পাগলা মাজার এলাকাও। জানা গেছে, সেখানেও দিনের বেলা চলে ইয়াবার বেচা-কেনা।
ওয়ার্ডে ১২টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। অথচ নেই খেলাধুলার কোনো উন্মুক্ত মাঠ। নেই এলইডি বাতি। আছে একটি কমিউনিটি সেন্টার। সেটির সুবিধা ভোগ করতে পারে না জনসাধারণ। কয়েকটি জায়গার পানিতে রয়েছে দুর্গন্ধ। বাজার গলি, তালতলা গলির পানিতে বেশি গন্ধ।

গ্যাসের সমস্যা প্রকট। গ্যাস নিয়ে কষ্টে আছে প্রতিটি এলাকা। সকাল-দুপুর তো দূরে থাক, রাতের বেলায়ও থাকে না গ্যাস। দিলু রোডের বাসিন্দা রবিন বলেন, হঠাৎ হঠাৎ গ্যাস থাকে। থাকলেও রান্না করা যায় না। মগবাজার সিএনজি পাম্পের গ্যাসলাইনটা এলাকার লাইনের সঙ্গে যুক্ত। তাই আশপাশের কোথাও কোনো গ্যাস থাকে না।

বর্ষায় ওয়ার্ডের আরেক সমস্যা জলাবদ্ধতা। ত্রুটিপূর্ণ সুয়ারেজ ব্যবস্থাই এর মূল কারণ। টানা বৃষ্টিতে আমবাগান, ব্যাংক কলোনি, ওয়্যারলেস রেলগেটসহ চারুলতা মার্কেটের সামনে জমে পানি। এদিকে চেয়ারম্যান গলি, গাপতলা, আমবাগানসহ আরও কিছু এলাকার রাস্তায় বউবাজারের কারণে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারীদের। আমাদেরসময়

সর্বাধিক পঠিত