প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘শিলং তীর জুয়া’ বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ

ডেস্ক রিপোর্ট : সমাজ ও আত্মবিধ্বংসী ‘শিলং তীর জুয়া’ খেলা বন্ধের দাবি জানিয়ে দক্ষিণ সুরমাবাসীর পক্ষ থেকে সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। “মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বহুল সমালোচিত এই ‘শিলং তীর জুয়া’ অর্থনৈতিকভাবে দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, চিহ্নিত প্রভাবশালী গডফাদারদের প্রত্যক্ষ মদদে দক্ষিণ সুরমার সর্বত্র এই বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে। এদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্মারকলিপিতে জোর দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপির অনুলিপি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)’র কমিশনার, কোতয়ালি ও দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইন-চার্জ বরাবর হস্তান্তর করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নগরীর টেকনিক্যাল রোড, সাধুরবাজার, ভার্থখলা নদীরপাড়, স্টেশন রোড, কদমতলী বালুর মাঠ, ঝালোপাড়া, চাঁদনীঘাট, পুরাতন স্টেশন রোড, বঙ্গবীর রোড, মকনের দোকান, বাস টার্মিনাল রোড, রেলওয়ে স্টেশন এপ্রোচ রোড, রেলওয়ে স্টেশনসহ পুরো দক্ষিণ সুরমা এলাকা ওদের নেটওয়ার্কের আওতায় ঢুকে পড়েছে। এসব এলাকায় প্রায় প্রকাশ্যেই চলছে ‘শিলং তীর জুয়া’ খেলা। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন ওদের বিরুদ্ধে কোন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না এবং গোয়েন্দা বিভাগও ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে ‘শিলং তীর জুয়া’র হোতারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আর এমনি করেই গোটা দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছে রাষ্ট্রের বৈদেশিক মুদ্রা বিনষ্টকারী ‘শিলং তীর জুয়া’। ফলে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের রিজার্ভ বৈদেশিক মুদ্রা।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, টেকনিক্যাল রোডস্থ সাধুরবাজার এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল করিম একই অভিযোগে ১৮ জন অপরাধীর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে গত ৯ এবং ১৬ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবরে পৃথক দু’টি দরখাস্ত পেশ করেন (ডকেট নং-৫৩ ও ৩৯)। ‘শিলং তীর জুয়া’র কারণে অর্থবিত্ত খুঁইয়ে তরুণ-যুবারা ক্রমশঃ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে এলাকায় সামাজিক শৃংখলা ভঙ্গের আশংকা বিরাজ করছে। মাদকাসক্ত যুব সমাজ ক্রমশঃ আত্মঘাতি হচ্ছে। ‘এই অর্থবিনাশী ‘শিলং তীর জুয়া’র বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন’ উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, তারপরও প্রশাসনের টনক নড়ছে না। তাই দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষা, সামাজিক শৃংখলা প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তরুণ ও যুবসমাজকে আত্মবিধ্বংসী অপকর্ম থেকে মূল স্রোতে ফেরাতে অবিলম্বে গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে নতুন আরো ১০ জনকে ‘শিলং তীর জুয়া’র গডফাদার হিসেবে উল্লেখ করে তাদের নাম-ঠিকানা তুলে ধরা হয়। এদের মধ্যে রয়েছে, টেকনিক্যাল রোড খোজারখলার বাসিন্দা কামাল মিয়ার ছেলে মিঠু মিয়া, নজরুল আলামীন ও পিয়ার ড্রাই ক্লিনার্স-এর স্বত্বাধিকারী ফরিদ দেলওয়ার, কদমতলী বালুর মাঠের বাসিন্দা দিলীপ বাবু ও হায়দার, বরইকান্দি নিবাসী আমুই মিয়ার ছেলে মোঃ রায়হান, ভার্থখলার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান ও মানিক মিয়া, জিঞ্জির শাহ (রহঃ) মাজার সংলগ্ন পুরাতন স্টেশন রোডস্থ বাঁশপালা মার্কেটের বাসিন্দা কালু মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম, সুরমা মার্কেটের বাসিন্দা মোঃ সেলিম এবং বরইকান্দি কাজিরখলার বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম। এদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্মারকলিপিতে জোর দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে অন্যান্যের মধ্যে স্বাক্ষর করেছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরইকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ রইছ আলী, বর্ষীয়ান সমাজসেবী ও সালিশ বিচারক মোঃ রেদওয়ান মিয়া, মোঃ জিতু মিয়া, হারিছ আলী, মোঃ রফিক মিয়া, মোঃ উমর আলী, হাজী মোঃ মখলিছ মিয়া, হাফেজ মাওলানা জাকির হোসাইন, মোঃ কুতুব মিয়া, মোঃ তারেক আহমদসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত