প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের খবর সত্য : সাবেক মন্ত্রী

সাইদুর রহমান : ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত আরএসএস পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্কুলে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে। আরএসএসের অবৈধ চালালেও রাজ্য সরকার নীরব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কোলকাতার নব বালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুস সাত্তার।

বিশিষ্ট বামপন্থি নেতা ড. আব্দুস সাত্তার আজ (রোববার) বলেন, ‘আসামের ক্ষেত্রে যা চলছে কিছুদিন পরে বাঙালিদের ক্ষেত্রেও তা ঘটবে। এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে পশ্চিমবঙ্গ দাঁড়িয়ে আছে। তৃণমূল থেকে যেভাবে বিজেপি’র দিকে মানুষ ছুটছে, তাদের নেতারা যেভাবে ছুটছেন, তা এক ভয়ঙ্কর প্রবণতা! যা কোনোকালেই কল্পনা করা যেত না।

কারণ এটা সকলেই জানেন ওইদিকে আমাদের ঠেলে দিচ্ছে এবং আমরা সরকারি পক্ষ সেইদিকে দৌড়াচ্ছি। ওদেরই প্রায় এজেন্ডা, ওরাও করবে, আমরাও করব। মন্দিরভিত্তিক রাজনীতি শুরু হবে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শুরু হবে। সংখ্যাগুরুদের তুষ্ট করার রাজনীতি শুরু হয়েছে। এ ধরণের রাজনীতি আরএসএস-বিজেপি দীর্ঘকাল ধরে করে এসেছে এবং এই সরকার সেদিকেই এগোচ্ছে এটাই যন্ত্রণার।’

তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মতো জায়গা যেখানে শান্তির মরুদ্যান আছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে শিখ, কে খ্রিস্টান এই ভাবনার শিকার পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে তা হচ্ছে। ধুলাগড়, বসিরহাট, হাজীনগর ইত্যাদি জায়গায় যে ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে তা সম্প্রীতির জন্য ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক! আরএসএসের শাখার সংখ্যা বাড়ছে।

কিন্তু শুধু শাখা কেন, বিভিন্ন ধরণের মিছিল হচ্ছে যার সবকটিই ধর্মীয় অনুষঙ্গ যুক্ত মিছিল। ধর্মীয় অনুষঙ্গ ছাড়া কোনো মিছিল হচ্ছে না। আরএসএসের ক্যাম্প হচ্ছে স্কুলগুলোতে এবং সেসব জায়গায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সরকার নীরব! সরকার কোনো কথা বলছে না। কিন্তু বামপন্থিরা কোনো আন্দোলন করতে গেলে পুলিশ, প্রশাসন থেকে শুরু করে তৃণমূল সকলেই মারমুখী হয়ে উঠছে।

যদিও বিজেপি যখন এসব কাজগুলো করছে, পরিবেশ বিষিয়ে দেয়ার যে আন্দোলন করছে তখন একটাও কথা নেই! পুলিশ, প্রশাসন সবকিছু দেখেও নির্বিকার! নিশ্চুপ! সরকার নিশ্চুপ। এ নিয়ে কোনো কথা নেই, এটা একটা ভয়ংকর প্রবণতা। আগামী দিনে এর বিষময় ফল আমাদের দেখতে হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

এছাড়াও বর্তমানে বিজেপি-আরএসএসের তৎপরতা বৃদ্ধি সম্পর্কে রাজ্যের গ্রন্থাগার ও জনশিক্ষা প্রসার দফতরের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ওদের আমলেও ছিল, ওরা সেটা প্রকাশ্যে আসতে দেয়নি। তবে এখন গোটা ভারতজুড়ে তাদের যে বাড়বাড়ন্ত হয়েছে তা অস্বীকার করার কথা নয়। আরএসএসের স্কুল আছে পশ্চিমবঙ্গে। পুরুলিয়ায় তাদের যে অস্ত্র ভা-ার ছিল তা তো বাম মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর আমলে ছিল। কোলকাতায় যেসব স্কুল আছে তাদের তা সিপিএম জমানাতে ছিল।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে বজরং দলের অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে কিশোর থেকে তরুণদের রীতিমতো সামরিক কায়দায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

এখানে বন্দুক চালানোর প্রশিক্ষণসহ সামরিক কায়দায় সুড়ঙ্গ থেকে বেরোনো, আগুনের মধ্যে দিয়ে ঝাঁপ দেয়া, দড়ি ধরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়া, উন্মুক্ত তলোয়ার নিয়ে নিশানা প্র্যাকটিস, লাঠিখেলা এবং শারীরিক অনুশীলন হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুব শাখা বজরং দল এ ব্যাপারে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে ১৫/৩৫ বছর বয়সী ২০ হাজার যুবককে সামরিক কায়দায় প্রশিক্ষণ দেয়ার টার্গেট নিয়েছে।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পশ্চিমবঙ্গের সহ-সভাপতি চন্দ্রনাথ দাসের দাবি, ভবিষ্যতে বন্দুক ধরতে যাতে সুবিধা হয় সেজন্য খেলনা বন্দুক দিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। হিন্দু ধর্ম, রাষ্ট্র, সমাজকে রক্ষার জন্য এ ধরণের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে বলে তিনি সাফাই দিয়েছেন। সূত্র : পার্সটুডে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত