প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুমেক হাসপাতালের ৫ লিফটের ৩টি বন্ধ, দুর্ভোগে রোগীরা

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঁচটি লিফটের মধ্যে তিনটি বহুদিন ধরে বন্ধ। চলছে লক্কর ঝক্কর ভাবে। পুরাতন ভবনে একটি, আর নতুন ভবনে একটি লিফট। এ দুটির আবার কোন কোন লিফটের বাটন কাজ করে না। নেই কোন লিফটম্যান।

৫০০ শয্যা বিশিষ্ট কুমেক হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয় ৭০০ থেকে ৭৫০ জন। দৈনিক গড়ে বহিঃবিভাগে রোগী আসে ৬০০ জন। ডাক্তার, নার্স, ইন্টার্ন চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী, রোগীর লোকদের জন্য এ হাসপাতালে ২টি লিফট ব্যবহার করতে হয়। জরুরি বিভাগের একমাত্র লিফট এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ।

এতে জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীদের নিচ তলা থেকে উপরের তলায় সিঁড়িতে আনা নেওয়া করতে কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। সিঁড়িতে উঠতে ডাক্তার, নার্সদের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়। কষ্ট হয় রোগী ও রোগীর সাথে থাকা লোকদের। পুরাতন ভবনে দুটি লিফটের মধ্য একটি বন্ধ ১৭ মাসেরও বেশি সময়। অপর লিফট চলছে কোন রকম।

নতুন ভবনে পাশাপাশি দুটি লিফট থাকলেও একটি নষ্ট। এখানে জরুরি বিভাগ, বহিঃবিভাগ, অন্তঃবিভাগ মিলিয়ে হাসপাতালে দৈনিক দুই হাজার মানুষের যাতায়াত। কিন্তু এ বড় সংখ্যার মানুষের জন্য লিফট ব্যবহার হয় দুইটি। সরেজমিনে দেখা যায়, ৬তলা বিশিষ্ট জরুরি বিভাগে একটি মাত্র লিফট। এ লিফট বন্ধ প্রায় ১০ মাস।

জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়েলিটি বিভাগ, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে মুমূর্ষু রোগীদের ভর্তি করা হয়। একজন মুমূর্ষুু রোগীকে যখন নিচ তলা থেকে উপরে তুলতে হয়, মূমুর্ষু রোগীর সময় নষ্ট হয়। কষ্ট ভোগ করতে হয়। জরুরি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, যখন রোগী নিয়ে আসে, আমরা নিজেরাই সিঁড়ি দিয়ে উপরে তুলে দেই।

নতুন ভবনের চলমান লিফটটি দিনে ৮টা থেকে ১টা পর্যন্ত চালু রাখা হয়। এ লিফটের ধীর গতিতে মানুষ বিরক্ত । মাঝে মাঝে কাজ করে না বাটন।পাশের অন্য লিফটটি বন্ধ কয়েক মাস ধরে।

এ বিষয়ে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী জানান, আমার হাসপাতালে লিফট ৫ টা। প্রতিটা লিফট ২৪ ঘন্টা পরিচালনার জন্য অপারেটর দরকার ৩ জন করে। এ তিনজনের কেউ অসুস্থ হলে বা ছুটিতে গেলে লোক দরকার আরো একজন। তার মানে প্রতিটা লিফটের জন্য লোক দরকার ৪ জন। ৫টা লিফটের জন্য লোক দরকার ২০ জন। কিন্তু লিফটম্যান আছে দুইজন। আর জরুরি বিভাগের লিফট চালু করতে পারছি না। জেনারেটর সংযোগ নাই, হঠাৎ যদি কারেন্ট চলে যায়। মানুষ বিপদে পড়বে। তাই জরুরি বিভাগের লিফট বন্ধ।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত