প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকার রাজনীতি, না রাজনীতির ঢাকা

রবিউল আলম : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনার শেষ কোথায়? অনেকেই এখন মরহুম আনিসুল হকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মহাব্যস্ত। কোনো কোনো মনোনয়ন প্রার্থী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রিম সালাম নিয়ে নির্বাচনি মাঠ গরম করেছেন এবং করছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রার্থীদের থেকে আবেদন গ্রহণ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা। যারা ইতোমধ্যে অগ্রিম মাঠ গরম করেছেন, আমিই শেখ হাসিনার প্রার্থী, জনগণ ও দলীয় কর্মীরা কোনটা বিশ্বাস করবেন? জাতির জনক ও শেখ হাসিনার স্বপ্ন পূরণ করবে কে? বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে গড়ে তুলার অঙ্গিকার নেই যাদের কাছে, তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চায়।

দলের সাথে কখনো সম্পর্ক ছিল না যাদের, দলীয় কর্মীদেরকে চেনেন ও জানেন না, তবুও স্বপ্ন পূরণে ব্যস্ত। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ীরা কখনো রাজনৈতিক দলের কর্মীদেরকে গালি ছাড়া আর কি দিয়েছে? আমরা গাড়ি ভাঙি, আগুন জ্বালাই, হরতাল করি, অবরোধ ও ধর্মঘট করি, আমরা দেশ ও সমাজের দুশমন, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চেয়ে খারাপ লোক আর নেই। দল ক্ষমতায় আসলে, দলের মনোনয়ন চাই, ক্ষমতার ভাগ চাই। শেখ হাসিনার চাইতে, আওয়ামী লীগের চাইতে, দলের নেতাকর্মীদের চাইতে ভালো এই পৃথিবীতে আর ভালো কেউ নাই। নির্বাচনি মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত যদি বিপক্ষে যায়, তবে কি হবে, তা আমার জানা নেই। রাজনৈতিক মাঠের কিছু জনগণ জানতে চায় প্রার্থীর টাকা আছে কি-না। এ কথা জানতে চায় না কবে ও কোথায় টাকা দিয়ে নির্বাচন করে, নিজের টাকায় জনসেবা করেছে। তবু টাকা আছে কি-না, প্রার্থীর পরিচয় কি, ইমেজ আছে কি-না, প্রশ্নের শেষ নেই। আমার জানামতে, জনগণ কোনো ইমেজ গ্রহণ করে না। শেখ হাসিনার ইমেজ ও নৌকা মার্কা ছাড়া ভোট দিবে না। প্রার্থী যে কেউই হতে পারে।

দলের বাইরে, নৌকা ছাড়া অনেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন, এমন ব্যবসায়ীদের শিরোমনি সালমান এফ রহমানও নির্বাচন করে প্রমাণ করেছেন, ৬ হাজারের উপর ভোট পাননি। আসলে টাকা দিয়ে নির্বাচন হয় না। হলে এদেশের মানুষ অনেক আগেই বিক্রি হয়ে যেত, এদেশে স্বাধীনতা আসত না। অনেকেই রাজনীতির সাথে মশকরা করেন। রাজনীতিকে ব্যবহার করে টাকা পয়সার মালিকও হয়েছেন। অনেকে নাম উল্লেখ করতে পারি, কিন্তু করব না। আমার এলাকায় অনেক নেতাকর্মী আছেন, যারা বিগত ৩০-৪০ বছর যাবৎ রাজনীতি করেন, অনেক সময়ই তাদের না খেয়ে উপোস থাকতে হয়, দেখলে চোখে পানি এসে যায়। নিজের অসহায়ত্বের জন্য হৃদয় কাঁদে, লজ্জায় চোখ ফিরিয়ে রাখতে হয়। মাঝে মাঝে যদি কিছু পকেটে থাকে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার নির্বাচনি এলাকা থেকে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, পূর্বে ও বর্তমানেও আছেন, দুঃখ-বেদনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিস নিয়ে হাজির হলেন।

একজন মানুষ, জীবনের মায়া, সুখ শান্তি বিসর্জন দিয়ে শুধু বাংলার মানুষের জন্য, আওয়ামী লীগের কর্মীদের জন্য, সবকিছু ছেড়ে আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। আমি একটি ওয়ার্ড পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছি। নেত্রীকে একটি দল ও সরকার চালাতে হয়, তার উপর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়, দেশের গবির-দুঃখী মানুষদেরকে দেখতে হয়। তার উপর একটি কমিটি নিয়ে এত নালিস কেন? যারা নালিস নিয়ে হাজির হয়েছেন, তারা সবাই দলের কারণে লাভবান হয়েছেন। আমি নাম উল্লেখ নাই করলাম। কে কোথায় ছিলেন, কত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, একটিবারের জন্যও কি উপলদ্ধি করতে পারছেন না, একজন নেত্রীকে এত যন্ত্রণা কেন দেওয়া হবে। সাদেক খানকে মহানগর উত্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে কি ভুল করে তা দেখার জন্যও তো সময়ের প্রয়োজন, প্রতিমূহুর্তে নালিস করলে দল গঠন হবে কি করে? নেতা বানিয়ে হাত-পা বেঁধে দিলে কি আর কাজ করা যাবে, না দল গঠন হবে। দায়িত্ব দিলে ভুল করারও সময় দিতে হবে, মহানগরের রাজনীতিতে এত ষড়যন্ত্র কেন?

লেখক : ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত