প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোবারকগঞ্জ চিনিকলে বাড়ানো হচ্ছে আখের দাম

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: আখের দাম কৃষকদের যথাসময়ে পরিশোধ করতে না পারা, দীর্ঘ মেয়াদী ফসল চাষে প্রান্তিক চাষিদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলাসহ বিবিধ কারণে ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের আওতাধীন আটটি সাব-জোনে আখের চাষ কমে যাচ্ছে।

এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে আখ রোপণের জন্য চাষিদের এককোটিরও বেশি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আখ চাষিদের ধরে রাখতে মিল কর্তৃপক্ষ আখের মূল্য মণপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জীব কুমার দত্ত জানান, আখ চাষিদের কথা বিবেচনা করে ২০১৮-১৯ আখ মাড়াই মৌসুম থেকে মিল গেট ও ক্রয় কেন্দ্রগুলোতে মণপ্রতি ১৫ টাকা বেশি দরে আখ কেনা হবে।

বর্তমান (২০১৭-১৮) মৌসুমে মিল গেটে আখ কেনা হচ্ছে প্রতিমণ ১২৫ টাকা দরে। আর ক্রয় কেন্দ্রগুলোতে প্রতিমণ ১২২ টাকা ৩৬ পয়সা দরে কেনা হচ্ছে।

২০১৮-১৯ আখ মাড়াই মৌসুমে মিল গেট এলাকায় প্রতিমণ ১৪০ টাকা এবং বাইরের কেন্দ্রে প্রতিমণ ১৩৭ টাকা ৩৬ পয়সা দরে কেনা হবে। অর্থাৎ আগামী মৌসুম থেকে চাষিরা আখের দাম মণপ্রতি ১৫ টাকা করে বেশি পাবেন।

২০১৫-২০১৬ মৌসুমে ১০ হাজার ৫০০ একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ওই মৌসুমে অর্জন ছিল ৪ হাজার ৯৪১ একর। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ মৌসুমে আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯ হাজার একর। সেখানে চাষ হয়েছে ৬ হাজার ৮০ একর।

বিগত সাতটি মাড়াই মৌসুমের চাষাবাদের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনও মৌসুমেই আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

দিন দিন আখ চাষ কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মোবারকগঞ্জ চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জীব কুমার দত্ত বলেন, কৃষকরা সুগার মিলে আখ বিক্রি করেছেন ঠিকই, কিন্তু উৎপাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায়,সময় মতো তাদের টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, কৃষকরা বর্তমানে স্বল্প মেয়াদী ফসল চাষে আগ্রহী হওয়ায়, দীর্ঘ মেয়াদী ফসল চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

এসব কারণে আখ চাষ কমে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সঞ্জীব কুমার জানান, মিলটিকে আটটি সাব-জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সাব-জোনে দু’জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া, ইউনিট পর্যায়ে রয়েছেন একজন সিডিএ। তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, দলীয় সভা,উঠোন বৈঠক, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে কাউন্সিলিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া, কৃষকদের এসটিপি পদ্ধতিতে আখ রোপণের জন্য ২০১২-১৩ মৌসুমে ২৫ লাখ ১০ হাজার ৭৯৬ টাকা, ২০১৩-১৪ মৌসুমে ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ২২২ টাকা, ২০১৪-১৫ মৌসুমে ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৫ টাকা ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আখ রোপণের জন্য কৃষদের সার,কীটনাশক ও নগদ টাকা ঋণ প্রদান করা হচ্ছে।

সঞ্জীব কুমার দত্ত বলেন, এ কথা সত্যি যে, বিভিন্ন কারণে আখ চাষ কমে যাচ্ছে। আশা করি, আখের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে মিল এলাকায় আখ চাষির সংখ্যা বাড়বে। সেই সঙ্গে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হবে। আখ চাষিদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১০-১১ মৌসুমে ১২ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তখন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় ৭ হাজার ৪৫৪ একর। ২০১১-১২ মৌসুমেও ১২ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ওই বছরে ৭ হাজার ৮ একর জমিতে আখ চাষ হয়। ২০১২-১৩ মৌসুমে ১১ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জন ছিল ৮ হাজার ৫০০ একর। এভাবে ২০১৩-১৪ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার একরের বিপরীতে চাষাবাদ হয় ৩ হাজার ৩শ২৬ একর, ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১০ হাজার একর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আখ চাষ হয় ৪ হাজার ৮৮৩ একর জমিতে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত