প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সোমবার স্বরস্বতী পূজা
জগন্নাথ হলে চলছে পূজোর প্রস্তুতি

জুবায়ের সানি : বছর ঘুরে আবারও এসেছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘স্বরস্বতী পূজা’। আগামীকাল পঞ্চমী তিথিতে অগণিত ভক্ত বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর পাদপদ্মে প্রণতি জানাবেন তারা। পূজোর প্রস্তুতিও প্রায় শেষ।

ঢাকার ভিতরে সবথেকে জাঁকজমকপূর্ণ পূজা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০-৭০টি ডিপার্টমেন্ট আলাদা পূজামন্ডপে একই সাথে পূজা উদযাপন করে এইদিন। তাই স্বরস্বতী পূজার জন্য সকলেরই চোখ থাকে এখানে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে পূজা উদযাপনের শেষ মূহুর্তেও প্রস্তুতি। পূজো উপলে পুরো জগন্নাথ হল সাজছে নতুন রূপে। হলে প্রবেশের প্রধান দুইটি পথে বানানো হচেছ বড় দুটি গেট। হল মাঠের চর্তুদিকে বানানো হচ্ছে পূজা মন্ডপগুলো। লাইটিং আর ঝাড়বাতির আলোয় আলোকিত হচ্ছে পুরো হল।

স্বরস্বতী দেবীর সবথেকে বড় মূর্তিটি বানানো হচ্ছে জগন্নাথ হলের উপাসনালয় প্রঙ্গনে। প্রায় ৪২ ফুট লম্বা এই প্রতিমাটি বসানো হবে জগন্নাথ হল পুকুড়ের মাঝখানে। কাজের অগ্রগতি দেখতে গিয়ে দেখা গেল, দীর্ঘ এক কর্কসীটে (ফোম বিশেষ) তৈরি হচ্ছে স্বরস্বতীর প্রতিমা। পরম্পরা অনুসারে এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিার্থীরা প্রতিমা তৈরির পুরোপুরি দায়িত্ব নিয়েছে। দেখা গেল কয়েকজন শিক ছাত্রদের কাজ দেখিয়ে দিচ্ছেন। বড় ভাইদের নির্দেশনায় উতৎসাহের সহিত কাজ করছে প্রথম ও দ্বীতীয় বর্ষের শিার্থীরা। বড় প্রতিমা হওয়ায় প্রতিটি অংশের কাজ ভাগ করে করছে শিার্থীরা। কেউ তৈরী করছে স্বরসতীর বাদ্যযন্ত্র Ñ বীনা, কেউ তার অলংকার, কেউবা বানাচ্ছে স্বরস্বতীর বাহন রাজ হংস। কাজের দায়ীত্বে থাকা গৌরাঙ্গ বৈরাগী আশা করছেন সব ঠিকঠাক থাকলে আজ রাতেই স্বরস্বতী দেবীর মূর্তিটি পুকুড়ের মাঝে বসানো হবে।

গৌরাঙ্গ আরও জানালেন, ‘পুকুড়ের মাঝখানে বসানোর জন্য প্রতিবছর বড় মূর্তিটি চারুকলার শিার্থীরাই করে থাকে। পরম্পরা অনুযায়ী এবার আমাদের ২১ তম ব্যচ করছে। গত ২০-২৫ দিন ধরে দিন রাত খাটছে শিার্থীরা কিন্তু তাদের মাঝে ক্লান্তির ছাপ নেই এতটুকু। ভালোবেসে কজটি করে তারা।’ অনেক সিনিয়র শিার্থীদের দেখা গেল কাজের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিতে। এ প্রসঙ্গে গৌরাঙ্গ বলল, ‘ধর্মীয় দিকটি আমাদের কাছে অতটা কাজ করে না যতটা কাজ করে চারুকলার শিার্থীদের একসাথ হওয়ার বিষয়টি। যে সিনিয়র ভাইয়েরা আমাদের আগে এই দায়ীত্বটি পালন করেছেন, প্রতিমা তৈরী দেখতে তারাও আসেন এবং বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন।’ মৃদু হেসে গৌরাঙ্গ বলে, আগামী বছর আমরাও সিনিয়রদের কাতারে পড়ে যাবো কিন্তু এই কাজটার প্রতি ভালোবাসার জন্যই হয়ত আবার দেখতে আসব। নতুনদের দিক নির্দেশনা দিব।

পূজা উপলক্ষে পুরান ঢাকার লক্ষীবাজার,তাঁতীবাজার, শাখারী বাজারেও চলছে প্রতিমা রং করার কাজ। শেষ মুহূর্তের রং তুলির কাজ করে নিচ্ছেন প্রতিমা কারিগররা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত