প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পিএসজির ফ্রি খেলোয়াড় নেইমার!

স্পোর্টস ডেস্ক: একজন ফুটবলার যখন কোনো দলে যোগদান করেন তখন ক্লাবের অনিচ্ছা সত্ত্বেও যদি দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি তাকে কিনতে চায় সেক্ষেত্রে তাকে ক্লাবের চুক্তি মোতাবেক টাকা দিতে হয়। যাকে দলবদলের বাজারে বাই-আউট ক্লজ বা রিলিজ ক্লজ বলা হয়ে থাকে। ফুটবলারদের দলবদলের বাজারে বাই-আউট ক্লজ বা রিলিজ ক্লজ সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত গ্রীষ্মে পিএসজির সঙ্গে নেইমারের চুক্তির পর রিলিজ ক্লজের গুরুত্ব আকাশে গিয়ে ঠেকেছে।

দলবদলের বাজারকে ‘পাগলা ঘোড়া’ বানিয়ে ফেলা ওই চুক্তির পর রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনাসহ সব ক্লাবই দলের তারকা খেলোয়াড়দের রিলিজ ক্লজ বাড়িয়ে আকাশচুম্বী করে নিয়েছে। যাতে চাইলেও দলের সেরা খেলোয়াড়দের কিনে নিতে না পারে কোনো ক্লাব।

যিনি কিনা রিলিজ ক্লজের বাজারে রেকর্ড গড়ে পিএসজিতে যোগ দিয়েছিলেন তারই কিনা এখন কোনো রিলিজ ক্লজ নেই! বিস্ময়কর এই তথ্যই দিলেন নেইমারের আইনজীবী মার্কোস মোত্তা। পিএসজির সঙ্গে নেইমারের চুক্তির কাঠামো দাঁড় করানো এই আইনজীবী স্পষ্ট করেই বলেছেন, পিএসজির সঙ্গে নেইমারের চুক্তিতে কোনো রিলিজ ক্লজ নেই।
ব্রাজিলিয়ান রেডিও স্টেশন রেডিও গ্লোবোকে মার্কোস স্পষ্টই বলেছেন, ‘আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিতে পারি, নেইমারের চুক্তিতে রিলিজ ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’ মানে পিএসজিতে নেইমার ‘ ফ্রি বা স্বাধীন’ খেলোয়াড়!
শুধু রিলিজ ক্লজই নয়, চুক্তিতে মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার বিষয়ে কোনো শর্তও নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মার্কোস। নেইমারকে কেনার সাহস যাতে কেউ না দেখায়, সেজন্যই ব্রাজিলিয়ান তারকার উপর ২২২ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ ঝুলিয়ে রেখেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু বার্সা কর্তাদের সেই ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে রিলিজ ক্লজের পুরো টাকা দিয়েই নেইমারকে দলে ভিড়িয়েছে পিএসজি।

রিলিজ ক্লজের পুরো টাকা দিয়েছে বলেই, বিক্রি করার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও নেইমারকে ধরে রাখতে পারেনি বার্সা। এতো টাকা দিয়ে যাকে কিনে আনা, সেই নেইমারের উপর পিএসজি বিশাল অঙ্কের রিলিজ ক্লজ ঝুলিয়ে রাখবে, এটাই ছিল প্রত্যাশিত। অথচ চুক্তিতে রিলিজ ক্লজই নেই। মার্কোসের দাবি যে সত্য তার প্রমাণ, চুক্তির এতোদিন পরও তার রিলিজ ক্লজের অঙ্কটা জানা যায়নি। রিলিজ ক্লজ থাকলে অঙ্কটা নিশ্চয় এতোদিন জানা যেত।
সাদাচোখে কোনো খেলোয়াড়ের রিলিজ ক্লজ না থাকার অর্থ, সে ‘স্বাধীন’। ইচ্ছা করলেই নিজ ক্লাব ছেড়ে পাড়ি জমাতে পারবেন অন্য ক্লাবে। নেইমারও কি তা পারবেন? মার্কোস অবশ্য এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি। বলেননি, নেইমার-পিএসজি বন্ধন অটুট রাখার কোনো বিশেষ শর্তের কথাও। তবে তিনি না বললেও চুক্তিপত্রে বিশেষ কোনো শর্ত নিশ্চয় আছে। তা না হলে নেইমারকে ধরে রাখার ব্যাপারে পিএসজি এতোটা প্রত্যয়ী কিভাবে।
গত কিছুদিন ধরেই বাতাসে গুঞ্জন উঠেছে, নেইমারকে দলে ভেড়াতে চাইছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ জায়ান্টরা নেইমারের সঙ্গে চুক্তি করার পাক্কা পরিকল্পনাও নিয়ে ফেলেছে। কিন্তু পিএসজি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছে, কেউ চাইলেই নেইমারকে নিতে পারবে না। পিএসজির সেই প্রত্যয়ী সুরের সঙ্গে সম্প্রতি সুর মিলিয়েছে ডোনাতো ডি ক্যাম্পলিও। পিএসজির ইতালিয়ান মিডফিল্ডার মার্কো ভেরাত্তির এই এজেন্ট সম্প্রতি স্পষ্ট করেই বলেছেন, নেইমার পিএসজির সোনার কয়েদখানায় বন্দী। কোনো ক্লাব চাইলেও পিএসজির খাঁচা থেকে তাকে বের করতে পারবে না।

তবে অন্য একটা প্রশ্নও কিন্তু জাগে। রিলিজ ক্লজ নেই বলেই কি নেইমারকে কেনার জন্য এতোটা উতলা হয়ে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ? আরটিভি অনলাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত