প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আন্দোলনের নেপথ্যে ছাত্রলীগ

ডেস্ক রিপোর্ট : সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচিত ইস্যু সাত কলেজের অধিভুক্তি ও এ নিয়ে আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে বিরামহীন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলন বন্ধ করতে প্রশাসনের ডাকে ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়। অভিযোগ উঠছেÑ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে নিপীড়ন ও যৌন হয়রানির শিকার হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতারাই শুরুতে এ আন্দোলনের গোড়াপত্তন করে। তারাই এ আন্দোলনের নেপথ্যে ছিলেন বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য এমন নাটকীয়তার জন্ম দেন সংগঠনটির কয়েক নেতা।

পূর্বপ্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ছাড়াই গত বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ। এসব কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৬ জন। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষার তারিখ ও ফল ঘোষণা এবং সিলেবাস প্রণয়নে বিপত্তিতে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা, ফল প্রকাশ ও ক্লাস শুরুর দাবিতে একের পর এক আন্দোলন করছেন অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে নানা সমস্যায় জর্জরিত ঢাবি শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনের ডাক দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতেই হিমশিম খেতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। এর মধ্যে সাত কলেজের অধিভুক্তিতে সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি চাপ। এতে দ্রুত ফল প্রকাশ করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে চাপমুক্ত করতে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’-এ অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়। সাত কলেজবিরোধী বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সাত কলেজবিরোধী এসব পোস্ট দেয় গ্রুপের অ্যাডমিন প্যানেল। অ্যাডমিন প্যানেলের প্রায় সবাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা ও কর্মী। ছাত্রলীগের ঢাবি ইউনিটের এক শীর্ষ নেতার অনুসারীরা গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করেন। বিষয়টি জানেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নামে গ্রুপটি সাধারণ শিক্ষার্থীরা চালালেও সরকারদলীয় ছাত্রনেতাদের হস্তক্ষেপে হাতছাড়া হয়ে যায়। গ্রুপটি সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিস্তর অভিযোগ থাকলেও এটি নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে।

অ্যাডমিন প্যানেলের প্রধান মোতাকাব্বির খান প্রবাস ঢাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাত কলেজবিরোধী পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেন। এ ছাড়া শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাহিত্যবিষয়ক উপসম্পাদক আহমেদ মুনীর তায়িফ আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে আন্দোলনে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী অংশ নিয়েছেন বলে জানা যায়। এ ছাড়া অ্যাডমিন প্যানেলের অন্য সদস্যরাও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলন শুরু করে ছাত্রলীগই শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে। তবে আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে যাচ্ছিল, তখন ছাত্রলীগই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালায় ও নানাভাবে হয়রানি করে।
অভিযোগ রয়েছেÑ আসন্ন সম্মেলনে ছাত্রলীগের সক্ষমতা দেখাতে এমন নাটকীয়তার জন্ম দেওয়া হয়। প্রথম দিকে আন্দোলন উসকে দেওয়া হলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো হয় নির্যাতন। দেখানো হয় ভয়ভীতি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দেওয়া হলেও আন্দোলন চলমান।

এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, আমরা সব সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন করেছিলাম এবং সুষ্ঠু সমাধানে তাদের নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেদিন তারা কথা শোনেননি। শিক্ষার্থীদের নিপীড়নের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান সরাসরি ওইদিন ছাত্রলীগের উপস্থিতি অস্বীকার করে বলেন, আন্দোলকারীদের ওখানে ছাত্রলীগ ছিল না। তার পরও আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির ছবির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তড়িঘড়ি করে ফোন রেখে দেন। আমাদের সময়

সর্বাধিক পঠিত