প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অ্যাপে ব্যাপক সাড়া

ডেস্ক রিপোর্ট : আমেনা বেগম (৩৩)। যাত্রাবাড়ী মীরেরবাগ এলাকায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করেন। তার স্বামী প্রায় সময় তাকে মারধর করেন। বাধ্য হয়ে তিনি বাবার বাড়ি চলে যান। তার স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় যান। কিন্তু স্বামী প্রভাবশালী হওয়ার কারণে থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনেকটা গড়িমসি করে।

গত ৪ঠা ডিসেম্বর আমেনা বেগম বাধ্য হয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি কমপ্লেইন সেলে অভিযোগে করেন। এরপর পুলিশ তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে। এমন শত শত ভিকটিম আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশের অ্যাপ্‌ থেকে সেবা পাচ্ছেন। এই অ্যাপ্‌গুলোতে যে কোনো ভিকটিম অভিযোগ করতে পারেন। তিনি ইচ্ছা করলেও তার নাম ও পরিচয় গোপন করতে পারেন। ই-মেইলে অথবা স্বশরীরে হাজির হয়ে চিঠির মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করতে পারেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসসহ সব অপরাধ দমন করার উদ্যোগ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন অ্যাপ্‌স চালু করা হয়েছে। আপ্‌সগুলো হচ্ছে, ‘আইজিপি কমেপ্লেইন সেল, হ্যালো সিটি অ্যাপ ও রিপোর্ট টু র‌্যাব’। এই তিনটি অ্যাপ্‌ে জনগণের পক্ষ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে অ্যাপ্‌গুলোর সমন্বয়কারী পুলিশ সদর দপ্তরের এডিশনাল ডিআইজি ডিঅ্যান্ডপিএস (ডিসিপ্লিইন অ্যান্ড প্রপেশনালর্স স্টান্ডার্ড) আব্দুল আলীম মাহমুদ মানবজমিনকে জানান, পুলিশ জনগণের আরো কাছাকাছি যেতে চায়। জানতে চায় জনগণের সকল সুখ ও দুঃখ। এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অ্যাপ্‌ খোলা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় তা নয়, বরং অভিযোগের পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এই আপ্‌সগুলোর ফলে পুলিশ জনগণের সমস্যার সমাধান আরো দ্রুত করতে পারবে এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরো কমে আসবে। পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী কার্যক্রম বেড়ে যায়। দেশের জনগণ অনেকেই আশপাশে অনেক অপরাধ দেখতে পান। কিন্তু, সামাজিক চাপ ও পুলিশি হয়রানির ভয়ে কোনো স্থানে অভিযোগ করতে পারেন

জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে সব অভিযোগ করতে পারেন এর জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালের ৩১শে জুলাই ‘হ্যালো সিটি অ্যাপ্‌ নামে একটি অ্যাপ্‌ চালু হয়। অ্যাপ্‌টি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এখনো সেই অ্যাপ্‌টির অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। গত ১ বছর ৬ মাস ১৫ দিনে এই অ্যাপ্‌ে মোট অভিযোগ এসেছে ১১ হাজার ৩৮৮টি। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, জঙ্গি সংক্রান্ত ২৮৩৯টি, সাইবার ক্রাইম ২৭৮৮টি, বোম্ব ও ড্রাগ ৩২৪৪টি ও ট্রান্সন্যাশনাল ২৪৫০টি। এই অভিযোগের মধ্যে প্রায় ২৩৮৮টি সন্দেহমূলকভাবে জনগণ ওই অ্যাপ্‌ে তথ্য দিয়েছেন। তারা শুধু গুঞ্জন শুনেছেন। কোনো অভিযোগ করেননি। বাকি চার হাজার ৩২৪টি অভিযোগ এসেছে। কিন্তু, তদন্ত করে কোনো অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়নি। বাকি চার হাজার ৭৭৬টির অভিযোগ সতত্যা থাকার কারণে পুলিশ সেগুলো আমলে নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে।

২০১৭ সালের ২০শে আগস্ট একজন ভুক্তভোগী ওই অ্যাপ্‌ে নাম প্রকাশ করে একটি অভিযোগ করেছেন যে, তাদের বাসা মিরপুরের পাইকপাড়ায় ডি-২৪ নম্বর। ওই বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত আছে। ওই ফ্ল্যাটে কিছু মালামাল দেখা গেছে। তাদের জঙ্গির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কী-না বিষয়ে তার সন্দেহ হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশকে খতিয়ে দেখার জন্য ওই ভুক্তভোগী হ্যালো সিটি অ্যাপ্‌ে আবেদন করেছেন। পুলিশ সেই আবেদনটি পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান চালায়। কিন্তু, সেখানে কোনো জঙ্গি ও সন্ত্রাসীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও আবেদনকারীকে ফিরতি অভিযোগ দিয়ে বলেছেন যে, তার অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। আবেদনকারী ম্যাসেজ পেয়ে তিনি পুলিশকে ধনব্যাদ জানিয়েছেন।

অ্যাপ্‌টির সমন্বয়কারী ঢাকা মহানগর পুলিশের এডিসি (বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট) মো. সানোয়ার হোসেন জানান, অ্যাপ্‌ে অভিযোগগুলো এখনো আসে। সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

১১ই জুলাই থেকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে একটি অ্যাপ্‌স চালু করা হয়েছিল। সেটি ছিল ‘রিপোর্ট টু র‌্যাব’। ১৫ই জানুয়ারি ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই অ্যাপ্‌ে অভিযোগ এসেছে ২৮ হাজার ১১২টি। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসী হামলার ভিকটিম ১১২০টি, সন্ত্রাসীর বিষয়ে তথ্য ১৬৯৩টি, সাইবার ক্রাইমের ১৯৮৯টি, নিখোঁজের বিষয়ে ৫০৭টি, খুনের অভিযোগ ৪৪৩টি, মাদক নিয়ে ৬৪১৪টি, ডাকাতি ৭৮৪টি, অপহরণ ৪৫৪টি, অন্যান্য ১৪ হাজার ৭০৮টি। গত ২০১৭ সালের ৩রা জানুয়ারি সুমন নামে ব্যবসায়ী উত্তরা এলাকায় র‌্যাবের অ্যাপ্‌ে একটি অভিযোগ করেন ৩নং সেক্টরে ইয়াবা ব্যবসা বেড়ে গেছে। তিনি আজিজ ও রাজু নামে দুইজন মাদক ব্যবসায়ীর নাম বলেন। র‌্যাব তার অভিযোগের ভিত্তিতে দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে আইনের আওতায় এনেছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিকটিমের অভিযোগ গুলোর ৬০ ভাগ তারা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন। আর বাকি আবেদনগুলো সন্দেহজনকভাবে করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, অ্যাপ্‌ে অভিযোগগুলো আসে। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৪ই নভেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের এক অনুষ্ঠানে পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক একটি সেল চালু করেন। সেখানে ইমেইল এর মাধ্যমেও অভিযোগ করা যায়। মূলত সেটি সেল এর পাশাপাশি অ্যাপ্‌ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অ্যাপ্‌ে ১১২২টি অভিযোগ এসেছে। পুলিশ বিষয়গুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত