প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অযোগ্য হচ্ছেন কেজরিওয়ালের ২০ বিধায়ক!

অনলাইন রিপোর্ট :  দিল্লি বিধানসভার ক্ষমতাসীন দল আম আদমি পার্টির (এএপি) ২০ জন বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। বিধায়ক হয়েও লাভজনক পদে থাকার অভিযোগ রয়েছে ওই বিধায়কদের বিরুদ্ধে।

বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে শুক্রবার এ কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে যদি দেশটির রাষ্ট্রপতি ওই বিধায়কদের অযোগ্য ঘোষণা করেন, তবে বিধানসভার ওই আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করা হবে। পরে ওই আসনগুলোয় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে দিল্লি বিধানসভার ৭০টি আসনের মধ্যে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল এএপির দখলে আছে ৬৬টি।

নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০ জন বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে, এএপির আসনসংখ্যা ৪৬-এ নেমে আসবে। তবে তাতেও এএপি সরকারের পতন হবে না। কারণ তখনো মোট আসনের অর্ধেকের বেশি থাকে আম আদমি পার্টির হাতে।

এএপির আইনপ্রণেতারা এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন। এএপির সৌরভ ভরদ্বাজ বলেছেন, ‘লাভজনক পদ তখনই হবে, যখন তা থেকে কেউ সুবিধা নেবে। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই যে কেউ কি ওই প্রতিষ্ঠানের বাংলো বা গাড়ি ব্যবহার করেছেন? কারও বিরুদ্ধে বেতন বা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ নেই।

এই পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সামনে উপস্থাপন করার কথা ছিল। এই কেসের বিষয়ে এখনো কোনো শুনানি হয়নি। ন্যায়বিচারের মৌলিক বিষয় হলো, অভিযুক্তকে তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দিতে হবে। অথচ কোনো বিধায়ককে ডাকা হয়নি। তাঁরা ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগই পাননি।’

 

অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর দলের দাবি, ওই বিধায়কদের লাভজনক পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি কোনো নিয়ম ভঙ্গ করেনি। কিন্তু বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই উচ্চকণ্ঠে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

 

দিল্লি কংগ্রেসের প্রধান অজয় মাকেন টুইট করে বলেছেন, ‘কেজরিওয়ালের কাজ চালিয়ে যাওয়ার কোনো অধিকার নেই। দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর মন্ত্রিসভার অর্ধেক সদস্যকে সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। ওই ২০ জন বিধায়ককেও অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।’ অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সুপারিশকে স্বাগত জানিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা বিজয় জলি বলেছেন, এই ঘটনা ‘দিল্লি সরকারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে।’

 

২০১৫ সালে দিল্লি বিধানসভায় জেতার পর কেজরিওয়াল তাঁর দলের ২১ জন বিধায়ককে বিধানসভার সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এ নিয়ে প্রশান্ত প্যাটেল নামের একজন আইনজীবী দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানান। পরে রাষ্ট্রপতি তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠান।

 

২০১৬ সালে ওই বিধায়কদের অযোগ্য ঘোষণা করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আরজি জানায় বিরোধী দল কংগ্রেস। পরে এই কেস তুলে নেওয়ার আরজি জানান বিধায়কেরা। গত বছর সেই আরজি প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশন। ওই ২১ বিধায়কদের মধ্যে একজন গত বছর নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করায় সংখ্যাটি ২০-এ নেমে এসেছে।

সূত্র : প্রথম আলো

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত