প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিডিয়া ও নাস্তিকরা আমার কথার মর্মার্থ বুঝতে পারেনি: আল্লামা শফী

ডেস্ক রিপোর্ট : মিডিয়া ও নাস্তিকরা আমার কথার মর্মার্থ বুঝতে পারেনি আর না বুঝেই আমার সমালোচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

আজ শুক্রবার নতুন করে তেতুল তত্ত্ব ও মোবাইল তত্ত্বের ব্যাখ্যা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর ও দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী’র পরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

এশিয়া বিখ্যাত দ্বীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার বার্ষিক ইসলামী সম্মেলনে আজ বাদ জুমা বয়ানে এ ব্যাখ্যা দেন তিনি।

বয়ানে আল্লামা আহমদ শফী বলেন, আমি কিছুদিন আগে মোবাইল সম্পর্কে সতর্ক করায় আমাকে নিয়ে সমালোচনা করেছে অনেকে। অথচ পোপ ফ্রান্সিসও বাংলাদেশ সফরে এসে তরুণদের মোবাইলের ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন। মোবাইল যে যুবকদের চারিত্রিক ক্ষতি করছে তা এখন পশ্চিমারাও বলছে।

তিনি আরো বলেন, মোবাইলে ছাত্র ও যুবকরা গান, নাচ ও অশ্লীল ছবি দেখে চারিত্রিক অধপতনের দিকে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমি নারীদের তেতুলের সাথে তুলনা করায় মিডিয়া ও নাস্তিকরা আমার সমালোচনা করেছে। কিন্তু তারা আমার কথার মর্মার্থ বুঝতে পারে নাই।

কাউকে তেতুল খেতে দেখলে জিহ্বা আছে এমন মানুষের লালা আসবে এটাই স্বাভাবিক। তদ্রুপ নারীজাতি বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করে। নারীকে অর্ধ বস্ত্র পরিহিত দেখলে পুরুষমাত্রই যৌন আকর্ষণ হবে এটাই স্বাভাবিক। এর মানে এই নয় যে নারীকে খারাপ বলা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারীতে (২০১৭ সালে) বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালক এবং হেফাজতে ইসলামের আমির বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা শাহ আহমদ শফী (৯০) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তখন তাকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বার্ধক্যজনিত শারীরিক দুর্বলতার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে মালয়েশিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

তারই এক ছাত্র সকালে ফেসবুক স্ট্যাটাসে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছিলেন।‘বিশেষ দোয়ার জন্য আবেদন। চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়াতে গেছেন, আমীরে হেফাজত আল্লামা আহমেদ শফী। দেশবাসীর কাছে হুজুর বিশেষভাবে দোয়াপ্রার্থী। আল্লাহ তায়ালা হুজুরকে সেফা দান করুন। আমিন।’

উল্লেখ্য, আহমদ শফীর জন্ম ১৯২০ সালে, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়ারটিলা গ্রামে। ১০ বছর বয়সে তিনি আল্-জামিয়াতুল আহ্লিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ওই বয়সে কিছুদিনের মধ্যে তিনি পিতা-মাতা উভয়কে হারান। এরপর ১০ বছর আল্-জামিয়াতুল আহ্লিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় অতিবাহিত করেন। ২০ বছর বয়সে (১৯৪১ সালে) তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় ভর্তি হন।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আলেমদের কাছে দূর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল এ মাদ্রাসাটি। ওই সময় তিনি শায়খুল আরব ওয়াল আজম, সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানীর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন।

আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী একাধারে চার বছর অধ্যয়ন ও বিশ্ববিখ্যাত ধর্মগুরুদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে হাদিস, তাফসির, ফিকাহশাস্ত্র বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি আল্লামা মাদানির প্রতিনিধি হয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন। এরপর চট্টগ্রামে আল্-জামিয়াতুল আহ্লিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলামে শিক্ষক হিসেবে তিনি নিযুক্ত হন। ১৪০৭ হিজরিতে এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান। বর্তমানে মহাপরিচালকের পাশাপাশি শায়খুল হাদিসের দায়িত্বও তিনি পালন করছেন।

অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ও ইসলামী প্রচারণার জন্য আল্লামা শফি ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন গঠন করেন।

ভারতে বাবরী মসজিদ ধ্বংস, ফারাক্কা বাঁধ, তাসলিমা নাসরীন ইস্যু, সরকারের ফতোয়া বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তৎকালীন সময়ে আল্লামা শফি ছিলেন প্রথম সারিতে। ওই সময় মরহুম শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (মুহাদ্দিস)-সহ (খেলাফত মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা) শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নেতৃত্বে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন আন্দোলন করে।

বর্তমানেও তিনি অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড বন্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত