প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মৃত্যুর ৮০ বছর পর কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র

ইমরুল শাহেদ: ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ কথাটির মধ্যে একটা চমক আছে। কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মারা গেছেন ১৯৬৮ সালে। মৃত্যুর ৮০ বছর পর তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন নবীন পরিচালক আরিফুর জামান আরিফ। তিনি শরৎ সাহিত্যের কিছু চরিত্রের সমন্বয় ঘটিয়ে কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্রের চিত্রনাট্য রচনা করেছেন। দেবদাস, পার্বতী, বড়দিদি, অচলা, রাজলক্ষ্মী, ইন্দ্রনাথসহ আরো কিছু চরিত্রের সমষ্টিই ছবিটির চিত্রনাট্যের উপজীব্য। তবে এসব গল্পের পরিসর ১৯০৭ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। শরৎচন্দ্রের বড়দিদি (১৯০৭) উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ভারতী পত্রিকায়। তখন তিনি জীবিকার সন্ধানে ছিলেন রেঙ্গুন। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অসামান্য সংবেদনশীলতা শরৎ সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিচ্ছবি তার উপন্যাসে রুপায়িত হয়েছে উজ্জ্বলভাবে। মানুষের অন্তরে তার ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাস-সংস্কারের সঙ্গে প্রণয়াকাঙ্খার যে নিরন্তর দ্বন্দ্ব চলছে, শরৎ সাহিত্যে সেই সংঘাতের চিত্র অসাধারণ শিল্পকুশলতায় অংকিত হয়েছে। সুতরাং শরৎচন্দ্রকে নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সদাসতর্ক থাকতে হচ্ছে পরিচালককে।

সম্প্রতি পরিচালক স্থানীয় একটি চীনা রেস্তোরাঁয় ছবিটির সূচনা করলেন একটি মহরত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। মহরতেই জানান দেওয়া হলো, ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র শরৎচন্দ্রের ভূমিকায় অভিনয় করছেন খ্যাতিমান নাট্যকর্মী গাজী রাকায়েত।

এই নামে একটি ছবি নির্মাণের আইডিয়া কিভাবে তার মাথায় এলো জানতে চাইলে আরিফ জানান, তিনি এ ছবির কাহিনী ও সংলাপ লেখক হাশিম আখতার মো: করিম দাদের কাছে ৪০ মিনিটের একটি চিত্রনাট্য চেয়েছিলেন ২০০৮ সালে। তখন লেখক পরিচালককে একটি চিত্রনাট্য দেন, যা পড়ে তিনি অভিভূত হয়ে যান। মনের মধ্যে লালন করতে থাকেন, এ বিষয় নিয়ে যখনই তিনি কাজ করবেন, তখন সেটা নিয়ে তিনি চলচ্চিত্রই নির্মাণ করবেন। সেদিন থেকেই কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র ছবিটি নিয়ে তিনি চর্চা শুরু করেন। দীর্ঘ এক দশক পর তিনি ছবিটির কাজ শুরু করলেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, গাজী রাকায়েতকে শরৎ চরিত্রে কেন নির্বাচন করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অনেক দিন ভেবেছি কাকে এ চরিত্রটির জন্য নেওয়া যায়। প্রায় দু’বছর ভাবার পর রাকায়েত ভাইকে নির্বাচন করলাম। শরৎচন্দ্রের চেহারার সঙ্গে তার চেহারার আদল কিছুটা মিলে যায়। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ অভিনেতা। তার পক্ষেই সম্ভব সুন্দরভাবে চরিত্রটি রুপায়ন করা। তবে অফার পাওয়ার পর তিনি নিজেও অনেক ভেবেছেন। মহরতের মাত্র এক পক্ষ কাল অর্থাৎ ১৫ দিন আগে তিনি ছবিটিতে কাজ করার সম্মতি দিয়েছেন।

পরিচালক জানান, অন্যান্য চরিত্রে কারা কারা কাজ করবেন তা ঠিকঠাক করা হবে অতি সন্তর্পণে।

কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র প্রযোজনা করছেন ইভেন্ট প্লাসের পক্ষে তামান্না সুলতানা সম্পা ও এম আর ফিল্মস। আগামী মার্চ বা এপ্রিল মাসে ছবিটির নিয়মিত কাজ শুরু হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত