প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরিশালে সন্ত্রাসীদের নারকীয় তাণ্ডব
১৬ মাস পর বাড়িতে ফিরছে ৩০টি পরিবার

খোকন আহম্মেদ হীরা, সফিপুর (মুলাদী): একটি হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে পাশ্ববর্তী জেলার প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির সহযোগী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে বরিশালের মুলাদী উপজেলার প্রত্যন্ত সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে।

ওই সন্ত্রাসীরা অসংখ্য বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে গ্রামের ৩০টি পরিবারের বসত ঘর, ছয়টি মুরগীর ফার্ম, একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান, তিনটি মাছের ঘের, ৬২টি গবাদি পশু, শতাধিক ছাগল, মূল্যবান গাছপালা কেটে লুটপাট করে নিয়েছে। বসত বাড়ি, ফার্ম, ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের পাশাপাশি দুইটি গৃহে অগ্নিসংযোগ করেছে। নারকীয় এ তাণ্ডব শুরু হওয়ার পর জীবন বাঁচাতে বাড়ি-ঘর ছেড়ে দেশের বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নেয় ৩০টি পরিবারের সদস্যরা।

দীর্ঘ ১৬ মাস পালিয়ে থাকার পর গত পাঁচদিন থেকে বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের বয়োবৃদ্ধরা। ফের সন্ত্রাসী হামলার আতংকে ওইসব পরিবারের যুবক-যুবতী, তরুন-তরুনীরা এখনও দেশের বিভিন্নস্থানের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বাড়িতে ফিরে আসা বয়োবৃদ্ধদের এখনও বিভিন্ন ধরনের হুমকি অব্যাহত রেখেছে সন্ত্রাসীরা।

ওই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদ ফকির ও তার স্ত্রী। ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলার আসামি হয়ে সরকারী চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী মহসিন হাওলাদার (৫৫)। পুলিশের তদন্তেও স্বাস্থ্য সহকারী মহসিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। অনার্স পড়ুয়া মেধাবী ছাত্রী পাপিয়া আক্তার সুধা, এসএসসি পরীক্ষার্থী ঝুমুর আক্তারসহ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন নিজ বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়ানোর ফলে তাদের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেছে। এ নারকীয় তাণ্ডবের ঘটনায় থানা পুলিশ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলেও ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ করেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে মুলাদী উপজেলা সদর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরত্বের উত্তর বালিয়াতলী গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে সন্ত্রাসীদের নারকীয় তণ্ডবের ধ্বংসস্তুপ। গ্রামটির অবস্থান মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায়। সফিপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এমদাদ ফকির, প্রবীণ ব্যক্তি তোফাজ্জেল হাওলাদার, মোফাজ্জেল কাজীসহ একাধিক বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে গ্রামের নিরিহ জনসাধারণকে জিম্মি করে জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন ও চাঁদাবাজি করে আসছিলো মুলাদীর এক সময়ের দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার (ক্রসফায়ারে নিহত) জনৈক সেলিমের সেকেন্ড-ইন কমান্ড উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের মৃত মোতালেব হাওলাদারের পুত্র বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান ও তার সহযোগীরা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতিসময়ে আনিসুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সফিপুর এলাকার রিপন সরদারকে হত্যার ঘটনায় বালিয়াতলী গ্রামের দিনমজুর আলমগীর কবিরাজকে দায়ী করে প্রকাশ্য দিবালোকে পরিবারের সদস্যদের সামনে বসে উলঙ্গ করে হাতুরি পেটা করে আনিস ও তার সহযোগীরা। এছাড়া আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে কারণে অকারণে গ্রামের নিরিহ বাসিন্দাদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন করে আসছিলো আনিসুর রহমান। দিন দিন এ অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামের ভুক্তভোগীরা একজোট হয়ে আনিসুর ও তার সহযোগীদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করেন।

এনিয়ে ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দুইটার দিকে সন্ত্রাসীদের সাথে গ্রামবাসীর হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসী আনিসুর রহমানসহ কমপক্ষে ১০জন আহত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আনিসুর রহমানের আশ্রয়দাতা পাশ্ববর্তী জেলার এক প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যানের ইশারায় তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা অসংখ্য বোমার বিস্ফোরন ঘটিয়ে আনিসুর রহমানকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্থ নিরিহ গ্রামবাসী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে আনিসুর রহমানের প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। পাশাপাশি তাদের ওপর চালানো চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নারকীয় তান্ডবের বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত