প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে মেয়েরা উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পিছু হটছে

ফারমিনা তাসলিম : ঢাকায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স এবং এফ-কমার্সভিত্তিক বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তাদের একত্রিত করে একসাথে কাজ করতে দুটি বেসরকারি সংস্থা যৌথ উদ্যোগে এক কর্মশালা শুরু করে। তবে এ কর্মশালার আয়োজক তাহমিনা আক্তার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সামাজিক নিরাপত্তার অভাবেই অনেক মেয়ে উদ্যোক্তা হবার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যায়।

অনলাইনে বিজনেস কিভাবে করতে হয় বা বিভিন্ন সমস্যা কিভাবে মোকাবিলা করতে হয় তা নিয়েই তারা এ কর্মশালার আয়োজন করেছেন।

তাহমিনা আক্তার ২০১৩ সালে কাজ শুরু করেন। তখন তাকে অনেক ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আস্তে আস্তে টিকে যান তিনি। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা কাজে অনেকগুলো উপায় থাকে, এগুলোতে দেখা যায় কোনো রকমে আমি টিকে থাকতে পারছি না। তারপর অন্যদিকে মোড়টা ঘুরিয়ে নিতে হচ্ছে। এরকম করতে করতে আমার অনেকগুলো টার্ন নিতে হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমার অনেক সময় নষ্ট হয়েছে এবং নিজেও বিচলিত হয়ে গেছি। আবার আরেকটা সময় মনে হত আমি পারব, আমাকে এটা অব্যাহত রাখতে হবে। এরকম করে করে আমার আজকের এতটুকু আসা। অনেকে আমাকে ফেসবুকে ইনবক্স করে জিজ্ঞেস করে, অনলাইন বিজনেসে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি করছি বা কিভাবে এটা শুরু করেছি ? এটা যদি বলতাম তাহলে তারাও শুরু করতে পারে।

এক্ষেত্রে বিশেষ কোনদিকের পরিবর্তন বা সেমিনারে কোন ধরনের কাজের বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্য রয়েছে আপনাদের ?

জবাবে তাহমিনা আক্তার বলেন, আমাদের সেমিনারের অনেকগুলো সাইট ওয়ার্কশপ দিয়েছি। আমরা কিছু ওয়ার্কশপ রেখেছি ড্রেস, কসমেটিকস, জুয়েলারি, জুতা, ফ্রিল্যান্সিং। এখানে শুধু বিজনেস না ফ্রিল্যান্সিংটা ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস আমরা করছি। ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে যারা ঘরে বসে কাজ করে, তাদের কোন ধরনের জটিলতা থাকতে পারে এসব জটিলতা থেকে ওভারকাম করার উন্নয়নশীল পথগুলো কী কী হতে পারে ? এগুলো নিয়েও আমরা পরিকল্পনা করছি। ড্রেস নিয়ে কাজ করলে, ড্রেসের কী কী ধরনের প্রবলেম হতে পারে ? একটা ডিজাইন যখন বের করি, বের করার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় অনলাইন হওয়াতে সুবিধাও হয়েছে আবার অসুবিধাও হচ্ছে। আমাদের একটু গভীরভাবে দেখতে হবে সে দিক থেকে মেয়েরা নিরাপত্তা নিয়ে কোন সেক্টরে কাজ করতে পারি না। অনেকগুলো দিক থেকে আমরা মেয়েরা অনেক বেশি সংরক্ষণশীল হয়ে থাকি।

আপনাদের ওয়ার্কশপটাতে নতুন নারী উদ্যেক্তারা কী কী করতে চায়?

জবাবে তাহমিনা আক্তার বলেন, প্রোগামে ছেলে বা মেয়ে যে আসুক না কেন তার যদি অনলাইনে বিজনেস করার কোন পরিকল্পনা থাকে তারাই আসবে তা না, এখানে যারা কিনা আউটলেটে আছেন তারাও আসছেন। নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে তারা অনেকেই জানে না কিভাবে অনলাইনে বিজনেসটা শুরু করবে ? কিভাবে পেইজটা তৈরি করবে বা কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করবে ? আমাদের এখানে প্রত্যেকটা লিংক নিয়ে ওয়ার্কশপটা হবে। সেখানে বিশেষজ্ঞ এবং এক্সপার্টরাও থাকবেন। যে ব্যক্তি যে সাইডে অভিজ্ঞ সে ওই সাইড নিয়ে আলোচনা করবেন। আমাদের যে ড্রেস আছে, সেটা দেশি হলে কোথায় থেকে নিচ্ছি, কিভাবে তৈরি করছি, কোথায় কিভাবে করছি ? একজন কিভাবে কারখানা দিয়ে শুরু করতে পারে, আরেকজন কারখানা ছাড়াই বা ছোট্ট একজন পুঁজিবাদী হয়েও কিভাবে সারভাইব করে যেতে পারে ? সেটা নিয়েও আলোচনা করা হবে এবং বড় পরিসরে কিভাবে যেতে পারে ? সেটা নিয়েও আলোচনা করা হবে। আবার যারা কিনা ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে নতুন করে শুরু করতে চাচ্ছে, তাদেরকে হেল্প করা এবং যারা করছেন তাদের দেখা যায় কাজ করতে গিয়ে অনেক ধরনের সমস্যা হয়, এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত