প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছক কেটে মাঠে কেন্দ্রীয় নেতারা
আ.লীগের তিন চ্যালেঞ্জ

সরোয়ার : আগামী অক্টোবরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তফসিল ঘোষণা হতে পারে নভেম্বরেÑ এমন আভাস দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে সংগঠন গোছানোর সময় খুবই কম। এ স্বল্পসময়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধে জর্জরিত দলকে গুছিয়ে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা, ক্লিন ইমেজের প্রার্থী মনোনয়ন ও সরকারের নয় বছরের উন্নয়ন জনগণের সামনে তুলে ধরাÑ এ তিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দলের একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, ২০০৮ সালে সারা দেশে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার ছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি না আসায় বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় বিজয়ী হয়ে এসেছেন অনেক প্রার্থী। এবার বিএনপিও নির্বাচনে অংশ নেবে। লড়াই হবে কঠিন। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ে দলকে বিশেষভাবে যতœশীল ও সচেতন হতে হবে। সেইসঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন সরকারের সাফল্য প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সারা দেশের জনগণের সামনে তুলে ধরা। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আগামী নির্বাচনেও নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে জনগণের দোড়গোড়ায় যাওয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তারা।

কোন্দলে জর্জরিত তৃণমূল, নিরসনে উদ্যোগ কেন্দ্রের : তৃণমূলে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র কোন্দল এবং তাদের ক্ষমতার দম্ভ ও অসংযত আচরণ দলকে আরো পিছিয়ে দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করা নিয়ে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাংসদ শামীম ওসমানের সমর্থকদের সংঘর্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও। শুধু নারায়ণগঞ্জই নয়, চট্টগ্রাম, পাবনা, নাটোর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, বান্দরবান, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, খাগড়াছড়ি, ফেনী, সিলেট ও সিরাজগঞ্জ জেলাকে বিরোধপূর্ণ এলাকা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জেলায় কোথাও কোথাও ত্রিধারায়, আবার কোথাও দুইধারায় বিভক্ত দল। পদ-পদবি ধরে রাখা, সুবিধাভোগী বনাম সুবিধাবঞ্চিত ও ব্যক্তিস্বার্থ থেকে সৃষ্ট এসব বিরোধ কোথাও কোথাও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রিয়তার চেয়ে দলীয় কোন্দল মেটানোটাই বেশি জরুরি বলে মনে করছেন দলের অনেক সিনিয়র নেতা। তৃণমূলের কোন্দল মেটাতে ১৫টি টিমে সাংগঠনিক সফরে যাচ্ছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সাংগঠনিক সফরের নেতৃত্বে রয়েছেন দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা।

ক্লিন ইমেজের যোগ্য প্রার্থীর খোঁজে : আগামী নির্বাচনে জয় লাভের জন্য ক্লিন ইমেজ, রাজনৈতিক ঐতিহ্য, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সদ্ভাব, জনসম্পৃক্ততা রয়েছেÑ এমন রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করতে হবে বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। সূত্রমতে, বিতর্কিত, জনবিচ্ছিন্ন এমন প্রায় ৭০ এমপির কপালে নৌকার টিকেট জুটছে না। আবার বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত; কিন্তু ভোটে পাস করে আসার সমূহ সম্ভাবনা থাকায় অনেক বিতর্কিত এমপির হাতে এবারো উঠতে পারে নৌকার টিকেট। এদিকে, এলাকায় উন্নয়ন, জনপ্রিয়তা, কোন্দল, দুর্নীতিসহ বিগত কয়েক বছরের এমন নানা বিষয় তুলে ধরে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি-মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত আমলনামা তৈরি করা হয়েছে। একাধিক গোপন জরিপের মাধ্যমে প্রত্যেক আসনে ‘ক্লিন ইমেজ’র প্রার্থী বাছাই করছে দলটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে অনেক দিক থেকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ হবে ধরে নিয়েই প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। সে ক্ষেত্রে দলের যতই বড় বাঘা বাঘা নেতা-এমপি বা মন্ত্রীই হোক না কেন, নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা ও ইমেজ হারানো কাউকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ঝুঁঁকি নেবেন না তারা। তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসতে দফায় দফায় গোপন জরিপের মাধ্যমে জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ জোরেশোরেই চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।

দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক সদস্য জানান, ব্যক্তিগত ইমেজ, জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি ত্যাগ, আনুগত্য, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, দুর্নীতিমুক্ত, ইতিবাচক সাংগঠনিক রিপোর্ট, কর্মসূচিতে সক্রিয়, সরকারি-বেসরকারি ও দলীয় জরিপের সময় এসব মাপকাঠিতে প্রার্থীর যোগ্যতা বিচার করা হবে। এ বিষয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আওয়ামী লীগে অগণিত নেতাকর্মী। দলে কারো অবদানই কম নয়। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে মনোনয়ন দেয়া হবে। দলীয় কোন্দল নিরসন, প্রার্থী মনোনয়নের জন্য একাধিক জরিপ, তৃণমূলের মতামত নেয়া এবং সমালোচিত সংসদ সদস্যদের শুদ্ধ হতে সময় বেঁধে দেয়ার কথা বলেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বর্তমানে যারা সংসদ সদস্য আছেন, তাদের মধ্যে কার কী অবস্থা তা নিয়ে জরিপ হচ্ছে। বেশ কয়েকটি সংস্থাÑ এর মধ্যে বেসরকারি সংস্থাও আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে একটি, পেশাজীবীদের পক্ষ থেকেও একটা জরিপ চলছে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার জরিপ তো আছেই। শুধু জরিপ নয়, দলীয় পর্যায়েও নিবিষ্টভাবে মনিটর করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরা : সম্প্রতি প্রকাশিত দি ইনডিপেনডেন্ট ও রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (আরডিসি) জরিপ অনুযায়ী, ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন, কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন রয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১ শতাংশের। ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। ফলে ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উন্নয়নের প্রচার তুলে ধরা। যদিও দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা বারবার সরকারের উন্নয়ন চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার আহবান জানিয়েছেন, কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে উন্নয়নের প্রচার হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত নয় বছরে সরকারের অর্জন বিশাল। সমুদ্র বিজয় থেকে পদ্মা সেতু, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্তে¡ও দেশে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি, বেকারত্ব দূর করা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া, মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর, মাথাপিছু আয় বাড়ায়ে সর্বত্র এগিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রচারে পিছিয়ে রয়েছে। তৃণমূলে এসব বার্তা পৌঁছানো প্রয়োজন। কারণ জনগণও জানেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা মানেই দেশের উন্নয়ন, জাতির উন্নয়ন। ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত