প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফুলের গ্রাম অলঙ্কারকাঠি

ডেস্ক রিপোর্ট : পিরোজুপরের স্বরূপকাঠিস্থ অলঙ্কারকাঠি নার্সারি পল্লীতে ফুলের চারা উৎপাদনে ধুম পড়েছে। অলঙ্কারকাঠি এখন ফুলে ফুলে ভরে গেছে। স্বরূপকাঠি উপজেলার প্রবেশদ্বারে অলঙ্কারকাঠি সেতু পার হওয়ার পর দেড় কিলোমিটার সড়কের দু’দিকে যতদূর চোখ যায়, সর্বত্রই দেখা যাবে ফুলের সমাহার। মনে হবে যেন ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে গ্রামটি। ফুলপ্রেমীদের পদভারে মুখর পল্লীটি। অলঙ্কারকাঠি বেইলি সেতু থেকে উত্তর শর্ষিনা পর্যন্ত সড়কের দু’ধারে প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে গড়ে ওঠা শতাধিক নার্সারিতে ফুলের চারা কেনাবেচা এখন জমজমাট। দু’সহস্রাধিক পরিবারের কর্মসংস্থান করে দিয়েছে নার্সারি গ্রাম অলঙ্কারকাঠি।

সমকাল’র খবরে জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে পৌর শহরের পাশের গ্রাম উত্তর শর্ষিনা, অলঙ্কারকাঠি ও কৃষ্ণকাঠির অংশ নিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়কের দুই ধারে ওইসব নার্সারি অবস্থিত। ২০০২ সালে অলঙ্কারকাঠি বেইলি সেতুর পশ্চিম পাড়ে কৃষ্ণকাঠি গ্রামের একখণ্ড জমি নিয়ে পানাউলাপুর গ্রামের মো. শাহাদাৎ হোসেন প্রতিষ্ঠা করেন বৈশাখী নার্সারি। এর কয়েক বছর পর জাহিদুল ইসলাম পলাশ প্রতিষ্ঠা করেন ছারছীনা নার্সারি। একই সময় গড়ে ওঠে তৌহিদের আশা নার্সারি। এক এক করতে করতে বর্তমানে ওই দেড় কিলোমিটারের মধ্যে শতাধিক নার্সারি গড়ে উঠেছে। ওইসব নার্সারি থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ফুলের চারা ও বিভিন্ন গাছ-গাছালির চারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। শীত মৌসুম চলে শুধুই ফুলের চারা কলম।

আশা নার্সারির মালিক তৌহিদ ও নীরব নার্সারির মালিক রুবেল জানান, এ বছর এখানের নার্সারিগুলোতে গোলাপ ছাড়াও ডালিয়া, কেনিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ইনকা গান্ধা, গাঁদা, জিনিয়া, কেনিডোলাসহ বহু প্রজাতির ফুলের চারা পাওয়া যায়। শ্রেণিভেদে এক একটি চারার দাম ৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

নার্সারি মালিক শাহাদাৎ হোসেন ও আশা নার্সারি মালিক তৌহিদ জানান, ঢাকার বীজ বিক্রির দোকান ও বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্টের কাছ থেকে বীজ কিনে আশ্বিন মাসে বীজতলা করে বীজ বপন করতে হয়। ১৫-২০ দিন পর চারা গজালে পলিথিন প্যাকেটে স্থাপন করে পানি ও ওষুধ দিতে হয়। ওইসব গাছে অগ্রহায়ণ মাসে ফুল আসতে শুরু করে। চৈত্র মাস পর্যন্ত ফুলের ভরা মৌসুম। জমি চাষ থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি নার্সারিতে ৮ থেকে ১০ জন করে শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও কাজ করেন। এজন্য নারীদের ৩০০ টাকা ও পুরুষদের ৪৫০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হয়। নার্সারিতে কাজ করা নারী শ্রমিক সাফিয়া বেগম, মনিরা বেগম ও হাফিজা বেগম বলেন, নার্সারিগুলোতে তিন শতাধিক নারী কাজ করেন। স্বামীর রোজগারের সঙ্গে তাদের আয় মিলিয়ে বেশ ভালোই কাটছে তাদের জীবন। নার্সারি মালিকরা জানান, ফুলের চারা কলমে নার্সারিতে সব খরচ বাদ দিয়ে তিন থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

মালিকরা জানান, অলঙ্কারকাঠি নার্সারি পল্লী একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। অনেকে পিকনিক করার জন্য আসেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত