প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ, অনুপ্রবেশের অভিযোগ
জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আ.লীগের ঢাউস উপকমিটি

তারেক : সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষণা হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের উপকমিটির সহসম্পাদক ও সম্পাদকম-লীর সদস্যদের নাম। বুধবার রাত থেকে দলটির দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত কমিটির নেতাদের হাতে হাতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয়ও চলছে অভিনন্দনের বন্যা। তবে কমিটির বেশ কিছু পদে জায়গা পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা, সন্ত্রাসী, বাসার কাজের লোক ও প্রবাসী। জেলা কমিটিতে থাকলে কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক হওয়া যাবে নাÑ মৌখিক এ নীতিও মানা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্যদের পদায়ন করা হলেও ত্যাগী ও দুঃসময়ে রাজপথে থাকা কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন বঞ্চিতরা।

জানা যায়, সহসম্পাদক তালিকায় অন্তর্ভুক্তদের সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন করে চিঠি পাঠানো শুরু হলেও এখন পর্যন্ত সবার হাতে চিঠি পৌঁছেনি। দুয়েক দিনের মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে জানা গেছে। ১৯টি বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় কমিটির ‘সদস্য’দের তালিকা বেশিরভাগই চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট সদস্য সচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সভাপতি ড. সুলতানা সফি আমাদের সময়কে বলেন, উপকমিটি ঘোষিত হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। কিন্তু অফিসিয়াল কোনো চিঠি পাইনি। তাই এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না।

তবে স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব ডা. রোকেয়া সুলতানা চিঠি প্রাপ্তির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উপকমিটি ঘোষিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য দলটির দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপকে ফোন করা হলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।

সব মিলিয়ে প্রায় ৯৫ সহসম্পাদক আর সহস্রাধিক সদস্যের নাম ঘোষিত হলেও এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে দলটির দুর্দিনের কর্মীদের মধ্যে। এ নিয়ে অনেক নেতা প্রকাশ্যই ক্ষোভ ঝাড়ছেন। অভিযোগ উঠছে, ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন সক্রিয় নেতাকে আওয়ামী লীগের উপকমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও সংগীতশিল্পী এসডি রুবেলকে সংস্কৃতিবিষয়ক উপকমিটির তিন নম্বর সহসম্পাদক করা হয়েছে। এ নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যেই চলছে সমালোচনা। ছাত্রজীবনে ঢাকা কলেজে ছাত্রদলের নেতা ও ক্যাডার হিসেবে পুরো ছাত্রজীবন পার করেন রুবেল। এমনকি তিনি ছাত্রদলের ঢাকা কলেজ শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদকও ছিলেন।

রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে সহসম্পাদক হয়েছেন এসএম এনামুল হক আবীর। সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, আবীর মানসিকভাবে অসুস্থ ও মাদকাসক্ত। রাসেল নামে একজন সহসম্পাদক হয়েছেন, যিনি আওয়ামী লীগের এক উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও মন্ত্রীর বাসায় নিয়মিত থাকেন। দপ্তর উপকমিটির সহসম্পাদক একেএম কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদের সহযোগী ছিলেন। অ্যাডভোকেট ফয়সল আহমেদ রিয়াদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটির সহসম্পাদক এসএম সাইফুল্লাহ আল মামুন, এ উপকমিটির চেয়ারম্যানের খুব ঘনিষ্ঠ। এর জোরেই তিনি এ পদে আসীন হয়েছেন। সহসম্পাদক আলতাফ হোসেন বিপ্লব ও অসীম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ভূমিদস্যুতার। শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সহসম্পাদক আবিদুর রহমান লিটু রাজনীতিতে অপরিচিত। একই উপকমিটির আরেক সহসম্পাদক ফারুক আহমেদের (জাপানি ফারুক) বিরুদ্ধেও রয়েছে ছাত্রদলের অভিযোগ।

শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় থাকা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান তারেক ফেসবুকে ক্ষোভ জানিয়ে স্ট্যাটাসে লেখেনÑ ফিলিং কাউয়া; এত্ত নেতার ভিড়ে রোহিঙ্গা হয়ে গেলাম।

শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জেল খাটা ও ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন ফেসবুকে তার নিজস্ব ওয়ালে লেখেনÑ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটিতে থাকার জন্য কী কী যোগ্যতা লাগে? যাদের রাখা হয়েছে, তাদের কিছুসংখ্যক বাদে অধিকাংশের কী যোগ্যতাবলে রাখা হয়েছে? আমার দেখা অনেক বাসার কাজের ছেলেও উপকমিটির নেতাবনে গেল! আর যারা রাতদিন মাঠে শ্রম দিয়ে ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে এখনো খেয়ে না খেয়ে রাজনীতির মাঠে পড়ে আছে, তাদের অধিকাংশকে বাদ দিয়ে বেডরুম পলিটিশিয়ানদের কীভাবে আওয়ামী লীগের মতো সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপকমিটিতে রাখা হলো?

শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সহসম্পাদক হয়েছেন কামিল হোসেন ঢালী। পুরান ঢাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের ব্যক্তিগত সহকারী। এ নেতার আশীর্বাদে তিনি এ পদে আসীন হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফলের সঙ্গে সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এইচএম মিজানুর রহমান জনি। তার বাবা আবদুল হক। তিনি মোরেলগঞ্জ মিশনবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। রিয়াজ ছাত্রদলের ঢাকা কলেজ শাখার ক্যাডার ছিলেন। ছাত্রদলের ক্যাডার ও নিয়ম না মেনে এসব পদ দেওয়ায় খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আামদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত