প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সঙ্কট কাটেনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগে সঙ্কট এখনো কাটেনি। হচ্ছে হবে করেও মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। আজ-কাল কিংবা পরশু ঘোষণা করা হবে এমনিভাবেই চলে গেছে প্রায় এক বছর। বর্তমানে একযোগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না করে নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। অগ্রাধিকার দিয়ে আসনভিত্তিক থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির চিঠি স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের হাতে দেয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু যে পদ্ধতিতেই হোক না কেন কমিটিতে ঠাঁই না পেলে ক্ষুব্ধ ও বঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে পারেনÑ এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে। এমনকি দলীয় প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগও দেয়া হতে পারে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আর উত্তর আওয়ামী লীগে দুই দফায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেও ধাক্কাধাক্কি লেগেই আছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি বহাল আছে না বাতিল হয়েছে তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে রীতিমতো ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল দুই ভাগে বিভক্ত করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। একই সাথে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অন্তর্গত ২৫টি থানা, ১০০টি ওয়ার্ড ও ৯টি ইউনিয়ন এবং মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অন্তর্গত ২৪টি থানা, ৫৭টি ওয়ার্ড ও ৭টি ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দণি আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলেও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। আর দুই দফায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেও হোঁচট খেয়েছে উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলেও খোদ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কর্নেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। প্রথম দফায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষিত আংশিক কমিটি দলীয় প্রধান স্থগিত করেন। গত মাসের শেষের দিকে দ্বিতীয় দফায় ঘোষণা করা হলেও ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীরা গণভবনে গিয়ে দলীয় প্রধানের কাছে কমিটিতে মৃতদের নাম আসা, ত্যাগীরা বাদ পড়াসহ বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি বিষয়টি আমলে নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এখন ঘোষিত ওই কমিটি বহাল আছে, না স্থগিত হয়েছে তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ দিকে গত প্রায় এক বছরেও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিয়নগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় তৃণমূলের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এরই মধ্যে নানা রকম গুঞ্জন ডাল-পালা ছড়াতে শুরু করেছে। কমিটিতে কারা থাকছেন জানেন না সংশ্লিষ্ট ইউনিটের নেতারা। এ প্রসঙ্গে ঢাকা-৫ আসনের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ কাজী মনিরুল ইসলাম মনু বলেন, আমরা কমিটির তালিকা জমা দিয়েছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব সংশ্লিষ্ট থানার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সাথে পরামর্শ করে মহানগরের নেতাদেরকে কমিটি দেয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত আমার সাথে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে আমরা যে নাম পাঠিয়েছি তা বাদ দিয়ে বিভিন্ন হাইব্রিড নেতাকর্মীদের কমিটিতে ঢোকানো হচ্ছে। এটা কারা করছে তাও জানি না। কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে তাও বুঝতেছি না। মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এক সহসভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে দেয়া হবে, কিভাবে দেয়া হবে তার কোনো কিছুই আমাদের জানা নেই। তবে যেভাবেই দেয়া হোক ওয়ার্কিং কমিটির সভার মাধ্যমে সবাইকে অবহিত করে থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিয়নগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতো। কমিটি নিয়ে কারো মনে কোনো প্রশ্ন থাকত না।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাধারণ সম্পাদক মো: শাহে আলম মুরাদ এবং ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের দ্বন্দ্বে এখনো আলোর মুখ দেখেনি। দলীয় অফিসে তাদের সমর্থকদের হাতাহাতি, দলীয় অনুষ্ঠানে ময়লার স্তূপ করার ঘটনা সবারই জানা। এ নিয়ে দিনে দিনে তৃণমূলে ােভ বাড়ছে। একাদশ নির্বাচন ঘিরে ক্ষোভ আওয়ামী লীগের তির কারণ হতে পারে বলে নেতারা মনে করছেন। তবে সংসদ নির্বাচনের আগে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য গেল বছরের ২৮ নভেম্বর মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে দু’জনকে মিলিয়ে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপরও তাদের মধ্যে ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। তবে সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আগামী মাসের মধ্যে দক্ষিণ আওয়ামী লীগের থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিয়নগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, উত্তর আওয়ামী লীগের মতো দক্ষিণে সব থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের কমিটি একত্রে ঘোষণা করা হবে না। কমিটিতে স্থান পাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির নামে চিঠি ইস্যু করা হবে। ওই চিঠিতে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকবে। চিঠিগুলো আসনভিত্তিক সংশ্লিষ্ট থানার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে বণ্টন করে দেয়া হবে। প্রথমে ঢাকা-১০ আসন দিয়ে চিঠি বিতরণ শুরু করবে দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য আসনগুলোতে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার জন্য নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটি দিতে মাসখানেক সময় লাগবে। তিনি বলেন, ওয়ার্কিং কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করার পর থানা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা হস্তান্তর করা হবে।নয়াদিগন্ত থেকে নেয়া।

সর্বাধিক পঠিত