প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লিটনের চাপে উপেক্ষিত কয়েছ

ফারুক নওয়াজ খান সুমন, প্যারিস থেকে: ফ্রান্স আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটিতে বৃহত্তর সিলেট বিভাগ সমাজ কল্যান সমিতির সাবেক সভাপতি দেলওয়ার হোসেন কয়েছের সমর্থকরা স্থান পায়নি। ফ্রান্স আওয়ামী লীগের বিলুপ্ত রাতের কমিটির সভাপতি মহসীন উদ্দিন খান লিটনের চাপেই বৃহত্তর সিলেট বিভাগের নেতা কর্মীরা মুল কমিটিতে স্থান পায়নি। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি করার সময় মহসীন উদ্দিন খান লিটন তার সমর্থকদের একটা বড় অংশকে কমিটিতে রাখে। অপরদিকে বিলুপ্ত রাতের কমিটির সাধারন সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন কয়েছের সমর্থকদের কমিটিতে না রাখার জন্য সে চাপ সৃষ্টি করে। লিটনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ফ্রান্স আওয়ামী লীগের ১৫৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি করা হলেও সেখানে বৃহত্তর সিলেটের প্রতিনিধির সংখ্যা সাকুল্যে চল্লিশ জন। বিষয়টি নিয়ে ফ্রান্স আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সুত্র মতে, ২০১৬ সালের ৮ মে ফ্রান্স আওয়ামী লীগের পন্ড হওয়া সম্মেলনের পর রাতের আধারে মহসীন উদ্দিন খঅন লিটনকে সভাপতি ও দেলওয়ার হোসেন কয়েছকে সাধারন সম্পাদক করে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। সে কমিটিতে কয়েছ সমর্থকরা স্থান পায়। কার্যত, কর্মীশুন্য লিটন খান তার নানা বাড়ির এলাকার কিছু লোককে কমিটিতে রাখে।

নিজের কর্মী সংখ্যা কম হওয়ায় মুলত কয়েছের কর্মীদের উপর ভরসা করে ফ্রান্স আওয়ামী লীগের একটি অংশ টিকে থাকে। রাতের কমিটির প্রতিবাদ স্বরুপ ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করে। সে কমিটিতে ফ্রান্সে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার নেতা কর্মীরা স্থান পায়।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্রান্স সফরের সময় উভয় অংশকে মিলিয়ে দিয়ে একটি কমিটি করার নির্দেশ দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে একটি সর্বজনগ্রাহ্য কমিটি করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দেন আটজন নেতাকে। এর কিছুদিন পর দেলওয়ার হোসেন কয়েছ বাংলাদেশে চলে গেলে তার অনুপস্থিতিতে তড়িঘড়ি একটি কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটির আকারের সঙ্গে দলীয় গঠনতন্ত্রের কোন মিল নাই।

বাংলাদেশে যাওয়ার পুর্বে কয়েছ ২৪ জনের একটি তালিকা দিয়ে যায় কমিটিতে বিভিন্ন পদে স্থান দেয়ার জন্য। কয়েছের অনুপস্থিতিতে লিটন সে তালিকাকে পাশ কাটিয়ে তার পছন্দের লোকদের কমিটিতে রাখে। লিটনের অনুরোধে একটি উপজেলার ১৪ জনকে বিভিণ্ন সম্পাদকীয় পদসহ সদস্য পদে রাখা হয়। এছাড়া লিটন যাদের কাছে বিভিণ্ন সময় আর্থিক সুবিধা নিয়েছে এবং বর্তমানে যাদের আশ্রয়ে রয়েছে তাদেরকে বিভিন্ন সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে পাশ কাটিয়ে সম্পাদকীয় পদে স্থান দেয়।

কয়েছের কাছের লোকদের লিটন সহ গুরুত্বহীন পদে রাখার সুপারিশ করে। এমনকি একজন সুপরিচিত ছাত্রনেতাকে সহ সভাপতির নীচের দিকে স্থান দেয়া হয়। প্রতিহিংসা বশত: লিটন এ কাজ করেছে বলে জানা যায়।
প্রসঙ্গত, ফ্রান্সে প্রবাসী মোট বাংলাদেশীদের মধ্যে সিলেট বিভাগের জনসংখ্যা ৬০ শতাংশেরও বেশী।ফ্রান্স আওয়ামী লীগে সিলেট বিভাগের কর্মী সমর্থকের সংখ্যা দেশের অন্যান্য জেলার কর্মী সমর্থকের চেয়ে বেশী। যে কোন সভা সমাবেশে মোট কর্মীর একটা বড় অংশ সিলেটের থাকে। লিটনের কারনে সিলেট বিভাগের কর্মী সমর্থকরা বঞ্চিত হওয়ায় ফ্রান্স আওয়ামী লীগের যে কোন সভায় উপস্থিতির হার কমে গেছে।

কয়েছের উপর ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর জন্য লিটন এ কাজ করেছে বলে জানা যায়। অনেকের মতে, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের কমিটি পুনর্বিন্যাস না করলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। লিটনের চাপে কয়েছের এভাবে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি অনেকে মেনে নিবেন না বলে জানা যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত