প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে কারণে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের উপর অনাস্থা দূর হচ্ছে না

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : মিয়ানমার সরকার বলছে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে যেসব রোহিঙ্গাদেরকে তারা ফেরত নিবে তাদের নিরাপত্তা তারাই নিশ্চিত করবে, কিন্তু তাদের এই কথার উপর কোনোভাবে আস্থা রাখতে পারছেন না অনেকে। কারণ বাংলাদেশ থেকে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ঘটায় তারা পুনরায় ফিরে এসেছে এমন ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া রোহিঙ্গার ফিরে যাওয়ার পর তাদের তত্ত্বাবধানে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর’কে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তাব মানছে না মিয়ানমার। মিয়ানমার বলছে এ কাজটি করবে রেডক্রস।

এ প্রসঙ্গে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রধান মেঘনা গুহঠাকুরতা বিবিসি বাংলার কাছে বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে ১৫শ’ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার। সাম্প্রতিক নিবন্ধন বলছে, বাংলাদেশে নতুন পুরোনো মিলিয়ে ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। তবে একদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনের কথা বলা হলেও এখনো মিয়ানমারে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

তাহলে এখন রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ায় কী কোনো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে ফিরে যাওয়া বলতে যারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চায় তাদেরকে বলেছে। এর মধ্যে কিছু কিছু রোহিঙ্গা আছে তারা প্রত্যক্ষভাবে নির্যাতিত হয়নি, তবে ভয়ে তারাও নির্যাতিতদের সাথে চলে আসছে। তার মধ্যে কিছু হিন্দু রোহিঙ্গা বলেছে, আমাদের যদি মিয়ানমার সরকার ফেরত নিয়ে যায় তাহলে আমরা ফিরে যাবো। এর আগেও তারা নির্যাতিত হয়ে এসেছে, আবার পরে ফেরতও গেছে। কিন্তু নির্যাতিত হয়ে তারা আবার ফিরে এসেছে। মিয়ানমারে থাকা তাদের বাড়িঘর পুড়ে গেছে। তাই তাদের জন্য শেড দিয়ে ঘর তৈরি করা হয়েছে। এক অর্থে তাদেরকে মিয়ানমারে যেয়ে আর্মিদের অধীনে থাকতে হবে। তাই যখন তখন এই ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।

কিন্তু মিয়ানমার সরকার বলছে যাচাই বাছায়ের মাধ্যমে তারা যে রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নিবে তারাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। আর মিয়ানমার যেহেতু তাদের দেশ সেহেতু তাদেরকে ওখানে ফেরত যেতে হবে। তবে মিয়ানমার যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিচ্ছে তার উপর কী আস্থা রাখা যায় না?

এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই না, রোহিঙ্গারা বলছে, জাতিসংঘের তদারকি ছাড়া তারা কোনোভাবে মিয়ানমার ফিরে যাবে না। তারা মিয়ানমারের নাগরিকত্ব না পেলে ফিরে যাবে না। এছাড়া মিয়ানমার সরকারের উপরও বিদেশের চাপ আছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সরকারের উপরও স্থানীয়দের চাপ আছে।

সাম্প্রতিক নিবন্ধন বলছে, বাংলাদেশে নতুন পুরোনো মিলিয়ে ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক কাঠামো, তাহলে যে অঞ্চলে রোহিঙ্গারা বাস করছে সেসব অঞ্চলের জন্য তারা একটি বোঝা হয়ে আছে। তাহলে সেটা অর্থনৈতিক বা সামাজিকভাবে কতটা চাপ সৃষ্টি করছে?

জবাবে তিনি বলেন, অর্থনৈতিকের থেকেও বেশি হবে আইন শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বেশি চাপ সৃষ্টি করেছে। আর অনেক জমি তারা দখল করে বসবাস করছে এবং এখন সংখ্যায় বেশি হওয়ায় তারা এখন আর উঠছে না। তাই এখন বাধ্য হয়ে আইওএন, ইউওএন, এইচসিআর ও চট্টগ্রামের এডিসি ল্যান্ড এসব সমস্যা নিয়ে কক্সবাজারে কাজ করছে। যেখানে এই অভিযোগগুলো শুনতে হচ্ছে। আর চট্টগ্রামের মানুষ বলছে এখান থেকে রোহিঙ্গাদেরকে যেন বাইরে নিয়ে যায়। এক সময় বলা হয়েছিল তাদেরকে ঠেঙ্গারচর নিয়ে যাওয়া হবে কিন্তু নোয়াখালী, হাতিয়া, সন্দ্বীপের মানুষ বলছে ওখানে রোহিঙ্গারা গেলে তাদের সমস্যা হবে।

কিন্তু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে থাকার পেছনে যেসব বেসরকারি দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বার্থ আছে এ অভিযোগের সত্যতা কতটুকু?

তিনি বলেন, এর বাস্তবতাটা অনেক কঠিন। এবার যত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে এর আগে এর অর্ধেকও আসেনি। এখন যে পরিস্থিতি সেটি সরকার মোকাবেলা করতে পারবেনা। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থার থাকা প্রয়োজন। আর আন্তর্জাতিক সংস্থা চায় শরণার্থীদের যেনো পুশব্যাক না করা হয়। এটি সত্যি যে এখানে লাভবান হওয়ার মতো অনেক পক্ষ আছে। কিন্তু দেখতে হবে রোহিঙ্গাদের যে চাহিদাগুলো আছে সেগুলো সঠিকভাবে ম্যানেজ করা হচ্ছে কি না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত