প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ’লীগ সৃষ্ট রাজনীতি শূন্যতা পূরণে বিএনপি গঠন করেন শহীদ জিয়া : ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

 খন্দকার আলমগীর হোসাইন : জিয়াউর রহমানের কারণেই আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে পেরেছিলাম। তিনি স্বনির্ভর এবং স্বাধীন সার্বভৌম একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন। তিনি সংবিধানে যেসব মৌলিক সমস্যা ছিল বা যেখানে বিতর্ক ছিল, তিনি সেগুলো সমাধান করে গেছেন। যেমন আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ এবং আমাদের অর্র্থনীতিতে যে সমাজতন্ত্র ছিল তার পরিবর্তে সামাজিক ন্যায় বিচার। ব্যক্তি উদ্যোগকে তিনি প্রধান্য দিয়েছিলেন। যার পথ ধরে বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আমাদের অর্থনীতিকে এই সব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, তিনি সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তিনি আমাদের যে ধর্ম নিরপেক্ষতা ছিল, সে ধর্ম নিরপেক্ষতার পরিবর্তে সব ধর্মের সমান অধিকার এবং আল্লাহর উপরে বিশ্বাস স্থাপন, এই ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করে গেছেন। তিনি দেশে একদলীয় শাষণ ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেছেন, যা এখনো বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যমান আছে। তিনি একজন সাচ্চা জাতীয়তাবাদী ছিলেন, সাচ্চা দেশপ্রেমী ছিলেন। তার এই অল্প সময়ে ২৬ মার্চ ১৯৭১ বা ২৭ শে মার্চ ১৯৭১ থেকে ৩০ মে ১৯৮১ পর্যন্ত অর্থাৎ আমরা তাকে ১০ বছর চিনি। এই ১০ বছরে বাংলাদেশে তার যে বিরাট অবদান, বাংলাদেশের যে পরিবর্তন তার জন্য তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এখনো চিরঞ্জীব হয়ে আছেন।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মদিনে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মধ্যে মানুষের তিনটি ব্যক্তিত্বের সমন্বয় ছিল। প্রথমত শহীদ জিয়াউর রহমান একজন সৈনিক ছিলেন এবং সৈনিক হিসেবে তিনি সফল ছিলেন। একজন সৈনিকের জীবনের সফলতা হচ্ছে তার মাতভূমির জন্য যদি সে যুদ্ধ করতে পারে, তাহলে একজন সৈনিকের জীবন সফল বলে ধরে নেওয়া হয়। সেই হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন সৈনিক হিসেবে শুধু দেশের জন্য যুদ্ধ করেননি, আমাদের প্রিয় স্বধীনতার ঘোষণা তিনি দিয়েছিলেন। যখন জাতি সম্পূর্ণ দিক নির্দেশনাহীন ছিল তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছেন। সেই ক্ষেত্রে তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ক্ষান্ত থাকেননি। তিনি সম্মুখ সমর যুদ্ধে অবতীর্র্ণ হয়েছেন। তিনি ১১ নং সেক্টরে সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তার পরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জেড ফোর্স সংগঠিত করেন। তিনি সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা, দেশ মাতৃকার মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জন করে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে অবদান সৈনিক হিসেবে সেখানেই তার সার্থকতা।

তিনি আরও বলেন, তার জীবনের আরেকটি দিক হচ্ছে, ৪ নভেম্বর যখন দেশের মানুষ আবার দিক নির্দেশনাহীন হয়ে গেছে, তখন পুনরায় তিনি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান হিসেবে এদেশের মানুষকে দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এবং ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লবের ফসল হিসেবে জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এদেশের মানুষ এনেছিল। তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতায় সফল ছিলেন। তিনি যে সফল ছিলেন তার প্রমাণ হলো, তার শাহাদতবরণ করার পরে বা তিনি মারা যাওয়ার পরে যে জানাজা হয়েছিল মুসলমান প্রধান দেশে রাষ্ট্রপ্রধানের জানাজায় এত মানুষ বা এত বড় জানাজা আজ পর্যন্ত কোনো দেশে হয়নি আর হবে না। এই জানাজায় যেই মানুষ হয়েছিল তারাই প্রমাণ করে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে কত সফল ছিলেন।

তার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি একজন রাজনীতিবিদ, একটা মানুষ তিনটা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। রাজনীতিবিদ জিয়াউর রহমানও সফল। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগ সৃষ্ট রাজনীতি শূন্যতা পূরণের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। সে দলের আদর্শ সে দলের দর্শন এদেশের জনগণ গ্রহণ করেছে। তার জন্য জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পরও তার উত্তরসূরি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাবী দল তিন বার ক্ষমতায় এসেছে। যখনই জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়, তখনই বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায় এবং এখন পর্যন্ত বিএনপি এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ