প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১০ টাকার পানি, ৮ টাকার বিস্কিট ও ৭ ঘন্টা বিলম্বই কী বাংলাদেশ বিমানের সেবা!

দীপক চৌধুরী : জার্নি বাই বিমান। বিমানচেপে ভ্রমণে ভীষণ আনন্দ পাই। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যাপারে অভিযোগ-অনুযোগ যাই থাকুক এটি ‘আমাদের’ বলেই অনেক সময় ঘটনা চেপে যাই বা পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতি-পরিবেশ যখন কোনোভাবেই অনুকূলে থাকে না বরং বিরক্তিকর হয় তখন আর ধৈর্যে সয় না। গত ৩ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা রদবদলে নতুন বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী পেলাম আমরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেছিলেন, ‘আমি জীবন দিয়ে হলেও বিমানকে রক্ষা করবো ’…… । সবাই খুশি হলাম তার কথায়; আশ^াসে। আমরা সব সময় স্বল্পে তুষ্ট হই, জাতি হিসাবে এটি আমাদের চরিত্র। সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতায় মনে হচ্ছে আমরা এখনো সেই তিমিরেই আছি। ঘটনাটি এরকম, যাত্রা তারিখের তিনদিন আগে বিজি-২৩৬ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিট কেটেছি। সিলেট টু ঢাকা। ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮।

সিলেট থেকে ছাড়বে ১২টা ৫০ মিনিটে। এক ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌছঁনোর পর জানানো হলো ‘ফ্লাইট ডিলে। সন্ধ্যা ৬টা ২০ সিনিটে যাবে।’ এই বিলম্বের খবরটি মোবাইলে জানানো হলো না কেন? উত্তর নেই প্রথম। ২৫ সেকেন্ড পর উত্তর এরকম, ‘তাই নাকি?’ বিমান ফ্লাইট বিলম্ব কেন? ‘সমস্যা হয়েছে।’ কী সমস্যা? ‘হয়েছে আর কী।’ বুঝলাম তর্ক করেও লাভ নেই। সিলেটে বিমানবন্দরের বড় কর্তাকে তাৎক্ষণিক পাওয়া গেলো না। যাত্রীদের কষ্টের কথা আমলে নেওয়া হয় না। গ্রাম থেকে সিলেট শহরে পৌঁছা চাট্টিখানি কথা? আমাকে পৌঁছাতে হয়েছে। খবর নিয়ে জানা গেলো, একটি চুরির ঘটনা ও অপকর্ম ঢাকতে ‘এদিক -সেদিক’ করতে নাকি শাক দিয়ে মাছ ঢাকা হয়েছে। অথচ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেই। তাই প্রকৃত সত্যটি জানার উপায় নেই। বিভিন্ন রিপোর্টের পর সাংবাদিকদের দোষ দেওয়া হয়; অনেক সময়। সরকারি কর্তৃপক্ষকে যখন পাওয়া যায় না তখন কী সাংবাদিক তার কলম পকেটে ঢুকিয়ে রাখবে? নিজেদের কীর্তির মাধ্যমে নিজেদের সম্পদের গৌরব বৃদ্ধি করে চলেছেন যারা তাদের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নীরবতা রহস্যের জন্ম দিয়ে থাকে। সেখানেও নাকি তাই। বলা হয়, রাজনৈতিক চাপে ও তদবিরের গুণে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিমানে নিয়োগ দিতে হয়। আর কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা এসব সুপারিশ করেন টাকার বিনিময়ে।

কিছু অসাধু কর্মকর্তাও থাকেন এসবের যোগসাজশে। ফলে দীর্ঘদিন কিংবা বছর ধরে এখানেই চাকরি ও অবস্থান তাদের অনেকের। যা-ই হোক, বিকাল সাড়ে পাঁচটায় যথারীতি বিমানবন্দরে এসেছি। স্থানীয় একজন সাধারণ কর্মচারির আন্তরিক সহায়তায় ঢাকা ফেরা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু যে বিষয়টি যাত্রী হিসেবে আমাকে পীড়া দিয়েছে তাহলো, বিমান বাংলাদেশের সেবার নমুনা। বিমানটি উড্ডয়ন করেছে সন্ধ্যা ৭টায়। দ্বিতীয় বারও এতো বিলম্ব কেনÑ এর কোনো কৈফিয়ৎ নেই। বিমান ছাড়ার আগেই ‘সেবা’ দেওয়া হলো ১০ টাকার পানি আর ৮ টাকার টোস্ট বিস্কিট দিয়ে। এয়ার হোস্টেসদের আচরণ কী আর বলবো! বাংলাদেশ বিমানে সেবার নমুনা দেখে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক যুগের কথা যেনো ভুলেই গেছে বিমান। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশে^র তিন সৎ প্রধানমন্ত্রীর একজন, যাঁকে বলা হয় মাদার অব হিউম্যানিটি তার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস্ এমন হয় কীভাবে? আজ থেকে ২০-২২ বছর আগেই বিভিন্ন দেশের ‘জার্নি বাই বিমানের’ অভিজ্ঞতা ও সেবার কথা এখনো মনে হয়। নিজেকেই প্রশ্ন করিÑ আমি কীভাবে মাথা উঁচু করবো?

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গল্পকার
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

সর্বাধিক পঠিত